যেমন ছিলেন হাফেজ মোহাম্মদ কাশেম

প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০১৭ ৮:৩৬ : অপরাহ্ণ

হাফেজ আবদুল্লাহ সানি:::: ককসবাজার জেলার একজন শীর্ষ আলেমেদ্বীনক হারিয়ে আজ আমি বিপন্ন, ৪ জুলাই বুধ বার মহান রাব্বুল আলামীনের সাথে স্বাক্ষাতে চলে যান ন ফেরার দেশে। টেকনাফ উপজেলা জুড়ে রয়েছে প্রচুর আলেম সমাজ, কিন্তু তাঁর ন্যায় একজন সু আদর্শবান, ন্যায় পরায়ন, সুন্নাতে নববীর অনুসারি ও হক্কানী আলেম খুব কমই দেখেছি। আমার দেখা হাফেজ মোহাম্মদ কাশেম যেমন ছিলেন-
প্রিয় ভাই মাওলানা হাফেজ কাসেম ছিলেন একজন হক্কানি আলেম ও কোরআনি হাফেজ সাহেব, যার রয়েছে তিন হাজারের বেশি কোরআনি হাফেজ ছাত্র,এবং রয়েছে অসংখ্য আলেম ছাত্র,
তিনি ২০০৭ সালে তাহার জম্নদাতা মাকে সাথে নিয়ে পবিত্র মক্কাশরিফ হজ্ব করতে যান হজ্ব ও ওমরাহ শেষে দেশে ফিরে আসেন।
তিনি অত্যান্ত দ্রুতগতিতে কোরআন তেলাওয়াত করতে পারতেন,গেল রমজানে তিনি পনেরো খতম তেলাওয়াত করেছেন যার সাক্ষী আমিও একজন। তিনি বেশিরভাগ তাহাজ্জুদের মাধ্যমে কোরআন তেলাওয়াত করতেন অতপর পজরের সময় কোরআন শরিফ নিয়ে বসে পাঠ করতেন,
অত্যন্ত শুদ্ধ ও সুন্দরের সহিত তিনি কোরআন তেলাওয়াত করতেন এবং পরিবারের সবাইকে নামাজের জন্য ডেকে দিতেন,
তিনি রাতে ঘুমানোর আগে মুবাইলে এলার্ম দিয়ে রাখতেন যাতে তাহাজ্জুদ ছেড়ে না যায়।
আমি অনেকবার খেয়াল করেছি এবং শুনেছি তিনি ঘুমের মধ্যে প্রায় সময় কোরআনের আয়াত ও হাদিসের দলিল বর্ননা দিতেন।
যাহা শুনে মনে হত কারো সাথে কথা বলতেছেন, অতছ তিনি তখন ঘুমেই আচ্ছন্ন থাকিতেন।
আমি অনেক আলেম ও হাফেজ দেখেছি এবং শিক্ষক মহোদয়গন দেখেছি,আমি আমার জিবনে হাফেজ মৌঃ কাসেম সাহেবের মত একজন হক্কানি আলেম ও স্মৃতি শক্তি সমৃদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ মাসালা মাসায়েলের উপর সর্বদা চর্চাবান আলেম খুব কমই দেখেছি।
তিনি আমিসহ সবার সাথে যতবারই দেখা করতে আসতেন
মুসকি হেসে বুকে জড়িয়ে মধুর সূরে কথা এবং পকেট থেকে আতরের শিশি বেরকরে আমার গায়ে খোশবো মাখিয়ে দিতেন । এভাবে সবার সাথে ঠিক এভাবেই সুন্দর আচরন করতেন। অতপর আমার জিবনের সুখ দুঃখ ব্যাপারে জানতে চাইতেন।
পরষ্পর কথা বলার সময় কখনো হাসতেন আবার কখনো থমকে যেতেন।
তিনি একুশ বছর ধরে সাবরাং এর অন্যতম দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাবরাং আল জামেয়া আল ইসলামিয়া ফারুকিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন তাহার নিষ্টা দিয়ে শ্রম দিয়ে
শত শত কোরআনি হাফেজ ও দ্বিনি মেধাবী ছাত্র তৈরি করেছিলেন।
টেকনাফ উপজেলার কাওমী ওলামাদের প্রধান সংগঠন আল আমিন ফাউন্ডেশনের তিনি একজন প্রভাবশালি সদস্য ছিলেন। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তাঁকে অগ্রাধিকার দিতেন সবাই।
তিনি বেশিরভাগ মাদ্রাসার আঞ্জাম নিয়ে সময় পার করতেন,তিনি ছিলেন ফারুকিয়া মাদ্রাসার নায়েবী তালিমাত ও শিক্ষক পরিচালনা কমিঠির জিম্মাদার এবং সাবরাং দারুল উলুম বড় মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠতা মুহতামিম মৌলানা ছৈয়দ আহমেদ সাহেব (রাঃ) এর জামাতা।
সাবরাং কাটাবনিয়া গ্রামের মরহুম মৌঃমুহিব্বুল্লাহ সাহেবের তৃতীয় পুত্র হাফেজ মৌঃকাসেম।এবং সৌদিআরব প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জনাম মৌঃআবু তাহের সাহেবের ছোট ভাই ও মুফতি হাফেজ মৌঃইলয়াস সাহেবের বড় ভাই এবং টেকনাফ শাখার আরামিট ও রবি অফিস কর্মকর্তা জনাব ইউনুছ গাজীর বড় ভাই। হাফেজ মৌঃ কাসেম চট্টগ্রাম দ্বিনি শিক্ষা বিশ্ববিদ্যালয় আল জামেয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসা থেকে দাউরায়ে হাদিস পাস করেন।এবং বড় বড় আলেমদের খেতমতে নিজেকে নিয়োযিত রেখেছিলেন।
তিনি একদা পটিয়া মাদ্রাসায় গিয়ে ইহতেকাফ বসেছিলেন এবং আল্লামা আলি আহমেদ বুওয়ালি সাহেব (রাঃ) এর নিকট বায়েত হয়েছিলেন।পরে টেকিনাফ থানার হ্নিনা দারুসসুন্নাহ মাদ্রাসার হুজুর মৌঃছদক সাহেব (রাঃ) এর কাছে বায়েত হয়েছিলেন।
এসমস্ত দ্বিনি গুনগান প্রিয় ভাই হাফেজ মৌঃ কাসেম সাহেবের মধ্যে ছিলো।
প্রিয় ভাই হাফেজ মৌঃ মুহাম্মাদ কাসেম সাহেব
২১,০৭,১৯৬৬ ইংরেজিতে কাটাবনিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন সাবরাং দারুল উলুম বড় মাদ্রাসায়। প্রথমে তিনি কোরআনি হাফেজ সম্পন্ন করেন পরে সাবরাং মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগীয় অধ্যায়ন শেষ করে উচ্ছ এলেম দাউরায়ে হাদিস অর্জনে চট্টগ্রাম পটিয়া মাদ্রাসায় ভর্তি হন।দাউরায়ে হাদিস এলেম অর্থাৎ বর্তমান এম,এ পাস ডিগ্রী লাভ করেন হাফেজ মৌঃ কাসেম।পরে দ্বিনি খেদমত শুরু করেন নিজ এলাকায় অবস্থিত দ্বিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামেয়া আল ইসলামিয়া
ফারুকিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন।পরে উক্ত মাদ্রাসার কিতাব বিভাগের সিনিয়র শিক্ষকের দায়ত্ব গ্রহন করেন।
পরিশেষে সাবরাং নয়া পাড়া ফারুকিয়া মাদ্রাসার সমস্ত আঞ্জামের দায়ত্ব ও নায়েবী তালিমাত অর্থাৎ শিক্ষক পরিচালনা কমিঠির সভাপতির দায়ত্ব পান তিনি।মৃতকালিন তিনি ছিলেন সচ্ছল অধ্যাপক ও অত্যান্ত মার্জিত এক আলেম।তিনি তাহার আদরের একমাত্র ছেলে মুহাম্মাদ ছালেমকে তার মত একজন দক্ষ হাফেজ ও আলেম হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন।
ছেলে মুহাম্মাদ ছালেমই মাশাল্লাহ বাপের মতই
মেধাবী মূখ দশ পারা কোরআন শরিফ হেফজ করে বাবাকে শুনিয়েছিলেনন বাকী বিশ পারা বাবাকে শুনানোর আগেই না আসার পথে চলে গেলেন ছেলের স্বপ্ন দেখা হাফেজ মৌঃ কাসেম।
খোদা তাআলার মর্জিতে কেউ দুঃখ করতে নেই
আল্লাহ যাহা করেন বুঝে করেন একথাই আমাকে বলতেন তিনি। মিত্যুর আগের দিনই আমার সাথে বসে রাতের খাবার খেয়েছিলেন প্রিয় ভাই হাফেজ মৌঃ কাসেম সাহেব। এটাই ছিলো তাহার সাথে আমার শেষ সাক্ষাৎ।
মরহুম হাফেজ মৌঃ মুহাম্মাদ কাসেম সাহেব ০৪,০৭,২০১৭ ইংরেজীতে তাহার আদরের দুই মেয়ে এক ছেলেসহ আমাদের মত অসংখ্য আত্বিয় স্বজন রেখে জান্নাতের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
স্মৃতি চারনে::: হাফেজ আবদুল্লাহ সানি, সাবরাং, টেকনাফ,ককসবাজার। ০১৮১৪ ২৭৬ ০৮৮।


সর্বশেষ সংবাদ