টেকনাফে রবি এয়ারটেল নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা: ক্ষুব্ধ গ্রাহক

প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২০ ১২:০৯ : পূর্বাহ্ণ

এম আমান উল্লাহ আমান, টেকনাফ:: টেকনাফ উপজেলায় মোবাইল কোম্পানীর থ্রিজি-ফোরজি নেটওয়ার্ক থাকলেও বর্তমানে ইন্টারনেট গতি জিরু জিতে পরিণত হয়েছে ।

চট্রগ্রাম বিভাগে সর্বাধিক গ্রাহক নিয়ে প্রথম থাকা রবি ও এয়ারটেল কোম্পানির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা চরম হতাশায় পড়েছে। গত একমাস ধরে এ কোম্পানীই সর্বত্র থ্রিজ-ফোরজি নেটওয়ার্ক আপন শক্তি জ্বলে উঠার প্রচারে দাবিদার রবি ও এয়ারটেল ইন্টারনেট দামাকা অফার খামাকা অফার নানাবিধ লোভনীয় মেসেজে অতিষ্ঠ নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা থেকে রেহাই নেই টেকনাফের মানুষের।

অনেকে উন্নত প্রযুক্তি সমৃদ্ধ দামি দামি ব্রাণ্ডের মোবাইল ব্যবহার করেও নেটওয়ার্ক সিগ্ন্যাল নামে মাত্র থ্রিজি-ফোরজি দেখালে চলেনা ইন্টারনেট।

টেকনাফ উপজেলার রোহিঙ্গা ইস্যুতে যদিও হোয়াইক্যং, হ্নীলা দু’ইউনিয়নে সরকার কতৃক নেটওয়ার্ক গতি সীমিত রাখার নির্দেশনা রয়েছে। এছাড়া টেকনাফ সদর, সাবরাং,বাহার ছড়া, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের অন্তত ৭০% মানুষ অভিযোগ করে জানান ইন্টারনেট নির্ভর কাজ করতে গিয়ে করোনা চলাকালেও প্রচন্ড বেগ পেতে হচ্ছে। এমন কি টেকনাফ পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে শীলবনিয়া এলাকায় বসবাসরত এক ব্যবসায়ী বলেন, করোনা কালে বাসা থেকে বের না হওয়ার চেষ্টা করলেও ইন্টারনেট গতি না পাওয়াই ইন্টারনেট নির্ভর কাজ করতে আমাকে আলো শপিংমলে আসতে হয়।
এখানে নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট গতির কোন পরিবর্তন নেই যেখানে রয়েছে(আলো শপিংমলে) রবি ও এয়ারটেল কাস্টমার কেয়ার এবং কোম্পানির সেলস অফিস।

রবি ও এয়ারটেলের প্রচার বিজ্ঞাপনে দেখা যায় , “জ্বলে উঠুন আপন শক্তিতে” প্রতারনার এ বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রাহকের নজর কাড়তে সক্ষম হলেও কাংখিত ফলাফল থেকে বঞ্চিত গ্রাহকরা।

করোনাকালে লক-ডাউন এবং হোম কোয়ারান্টাইনের মত দুঃসময়েও নেটওয়ার্ক বিড়ম্বনা থেকে রেহাই নেই টেকনাফের মানুষের। সেবার মান না থাকলেও তাদের দেওয়া ক্রয়কৃত ইন্টারনেট অফার ব্যবহারে অক্ষম বান্ডিল মিনিট ও ইন্টারনেট বান্ডিলের মেয়াদ ঠিকই শেষ হয়ে যায়। সেবার নামে নির্ধারিত অর্থ কেটে নিতে এতটুকু কার্পণ্য নেই তাদের। ফলে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সাধারণ গ্রাহক। কিন্তু এ নিয়ে রবি ও এয়ারটেল কাস্টমার কেয়ারে সরাসরি এবং ফোনে বারবার অভিযোগ করার পরও কোন সুরাহা হচ্ছেনা বলে ক্ষুব্ধ হয়ে জানান ভুক্তভোগীরা।

বিশেষ সুত্রে জানজায়, টেকনাফে
রবি ও এয়ারটেলের অনেক টাওয়ার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট এবং অকেজো ফলে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যপারে কতৃপক্ষ অবগত থাকলেও টেকনাফের মানুষের অবস্থা বুঝে নিরবে চালিয়া যাচ্ছে তাদের প্রতারণা মূলক ব্যবসা।

কোম্পানির এসব বিষয়ে অবগত এক কর্মকর্তা জানান, চলমান মহামারি করোনার দোহাই দিয়ে টেকনিক্যাল টিম ঢাকা থেকে টেকনাফ না আসায় এখানকার নেটওয়ার্কের মান উন্নয়ন করা হচ্ছেনা।

এদিকে ইন্টারনেট বিড়ম্বনার শিকার অনেকে জানান, যেকোন সময় সেবার নামে প্রতারণা বন্ধে ও নেটওয়ার্ক কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি করতে গ্রাহক সমাবেশ কিংবা রবি ও এয়ারটেল সিম পুড়িয়ে প্রতিবাদ আন্দোলনে যেতে পারে তারা। তাই দ্রুত সময়ে ইন্টারনেট সেবায় থ্রিজি-ফোরজি গতি বৃদ্ধির মাধ্যমে গ্রাহক সেবা বৃদ্ধি ও নেটওয়ার্ক সচল রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন টেকনাফে কর্মরত এনজিও ও স্থানীয় গ্রাহকরা।


সর্বশেষ সংবাদ