হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ক্রীড়াপ্রচ্ছদ

৬ বছর জেল হতে পারে নেইমারের

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: বিশ্বসেরা হতে চান নেইমার। এ পথে মেসি-রোনালদোকে আদর্শ মানছেন। এ কারণেই আরও শিখতে চান, আরও জিততে চান।। চান আরও বেশি ট্রফি। সে পথে অনেক অনেক গোলও করতে চান। প্লেয়ার্স ট্রিবিউনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দারুণ সব স্বপ্নের কথা বলেছেন নেইমার। তবে সেসব স্বপ্ন বাস্তবে রূপ পাবে কি না সন্দেহ জেগেছে। কারণ, ব্রাজিলের আদালতে ছয় বছরের জেলের শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে নেইমারের।

সান্তোস থেকে নেইমারের বার্সেলোনা আসার পথটি মসৃণ ছিল না। নেইমারের মূল্যের ৪০ ভাগ মালিকানা ছিল ডিআইএসের। প্রথমে জানা গিয়েছিল সান্তোস থেকে নেইমারকে কেনার সময় ১৭.১ মিলিয়ন ইউরো দিয়েছে বার্সেলোনা। ডিআইএসকে ওই অর্থের ৪০ ভাগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে জানা যায় নেইমারকে আনতে আসলে ৫৭.১ মিলিয়ন খরচ হয়েছে। ব্রাজিলিয়ান বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ডিআইএস তাই অভিযোগ করেছিল, দলবদলের আসল অঙ্কটা গোপন করে তাদের ঠকানো হয়েছে।

এরপর জানা যায়, রিয়াল মাদ্রিদকে না বলে যেন বার্সেলোনাকে বেছে নেন, এটা নিশ্চিত করতে নেইমার ও তাঁর বাবাকে প্রচুর অর্থ দিয়েছে কাতালান ক্লাবের সাবেক সভাপতি সান্দ্রো রোসেল। যার ফলে নেইমারকে আনতে বার্সেলোনার মোট খরচ হয় ৮৩.৩ মিলিয়ন! এর ফলে দলবদলের বাজারে বিশাল এক অঙ্ক হাতছাড়া হয় সান্তোসের। এর ফলে ব্রাজিলিয়ান ক্লাব নেইমার ও তাঁর বাবার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছিল। সেখানেই নেইমারের বিরুদ্ধে দুই বছরের জেলের শাস্তি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে শাস্তি বেড়ে এখন ছয় বছরও হয়ে যেতে পারে।

কাতালুনিয়ার দৈনিক লা ভ্যানগার্ডিয়া জানিয়েছে, নেইমারের বিরুদ্ধে অভিযোগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল বিচারক জোসে মারিয়া ভাসকেজ হনরুবিয়ার। নেইমারের দলবদলের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত একারই নেওয়ার কথা কেন্দ্রীয় ফৌজদারি আদালতের প্রধানের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভাসকেজ বিষয়টি জাতীয় আদালতের ফৌজদারি বিভাগে পাঠিয়ে দিয়েছেন। সেখানে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট নেইমারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন। মামলার বাদী দুই বছরের শাস্তি চেয়েছিলেন বাদীরা। কিন্তু নেইমার, তাঁর বাবা ও রোসেলের মধ্যকার সব তথ্য বিবেচনা করে বিচারক ভাসকেজের মনে হয়েছে, নেইমারের ছয় বছরের জেল হওয়া উচিত। একজনের আদালতে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত শাস্তি দেওয়া যায়, তাই আদালত বদলানোর এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভাসকেজ।

মামলায় বলা হয়েছে, ২০১১ সালে বার্সেলোনার পক্ষে রোসেল নেইমারদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছিলেন। সেখানে তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ২০১৪ সালে ফ্রি এজেন্ট হয়ে যাবেন নেইমার। ফলে কোনো ট্রান্সফার ফি না দিয়েই বার্সেলোনায় যেতে পারবেন এই ফরোয়ার্ড। এর বিনিময়ে নেইমাররা ৪০ মিলিয়ন ইউরো পাবেন। যদিও এ পরিকল্পনা কাজে লাগেনি, ২০১৩ সালেই বার্সেলোনায় গিয়েছেন নেইমার। তাই সান্তোসকে ১৭ মিলিয়ন দিতে হয়েছিল বার্সার। বাকি ৪০ মিলিয়ন পিতা-পুত্র পেয়েছেন।

নেইমারের আইনজীবীরা দাবি করেছিলেন, এ অভিযোগে বিচারকাজ স্পেনে হোক। কারণ, স্পেনে সাধারণত দুই বছরের শাস্তি হলেও সেটা স্থগিত সাজা হয়, কিন্তু ব্রাজিলে সে সুযোগ নেই। ব্রাজিলের আদালত সে দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের যুক্তি ২০১১ সালের ঘটনা এবং তখনো নেইমার বার্সেলোনায় যোগ দেয়নি, ফলে এর বিচার ব্রাজিলেই হতে হবে।

এখন শাস্তি বাড়ানোর জন্য আদালতের নতুন বিভাগে নেওয়া হচ্ছে নেইমারের অভিযোগ। জেলের শাস্তি কি তাহলে পেতেই হবে নেইমারকে?

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.