হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারপ্রচ্ছদ

৬২ রোহিঙ্গা মিয়ানমার ফিরেছে গোপনে

রফিকুল ইসলাম []
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবির থেকে ৬২ জন রোহিঙ্গা গোপনে স্বদেশ রাখাইন ফিরে গেছে বলে দাবি করেছে মিয়ানমার সরকার। তবে কোন শরনার্থী শিবির থেকে কত জন নারী পুরুষ বা শিশু কবে কিভাবে ফিরে গেছে তা বিস্তারিত জানায়নি দেশটি। এদিকে গত রোববার ভোরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ২৩ জন নারী ও শিশু।
রোববার সন্দ্যায় মিয়ানমার স্টেট কাউন্সিলর অফিস থেকে প্রচারিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশের কক্সবাজার রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবির থেকে এসব রোহিঙ্গা ফিরে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে ৬২ জন সীমান্ত দিয়ে গোপনে রাখাইন ফিরে যাওয়া ৪জন কে নিয়মিত আইনে মামলায় আটক করা হয়েছে। অপর ৫৮ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার রাষ্ট্রপতি সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করেছেন। সেসব রোহিঙ্গাদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আটক করলেও রোববার তাদেরকে সীমান্তের নাকপুরা ট্রানজিট ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিবৃতিতে মিয়ানমার বলেছে রাখাইনে বাস্তুচ্যুত জনগোষ্টীকে বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য গত বছরের ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সে চুক্তি অনুবল অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ফেরত আসা বাস্তুচ্যুত জনগোষ্টীকে নাগা খু ইয়া বা নাকপুরা ও তাঙ পিও লিটইউ নামের সীমান্তবর্তী দুইটি অভ্যর্থনা কেন্দ্রে তাদের পরিচয় যাচাই করা শেষে হ্লা পুই খুয়াংয়ের ট্রানজিট শিবির অস্থায়ী ভাবে রাখার কথা।
দেশটি দাবি করেছে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমারের সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুণবাসন মন্ত্রী ড. ইউ মাই আয়ে এপ্রিলে কক্সবাজারে কুতুপালং শরনার্থী শিবির ও চলতি ১৭ মে মাসে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী সচিব ঢাকা সফর করেছেন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হলেও বাস্তুচ্যুত মুসলিম জনগোষ্টীর প্রায় সকলে প্রত্যাবাসনের নিয়ম কানুন সম্পর্কে স্পষ্ট অবগত নয়। ফলে তাদের অনেকেই স্বেচ্ছায়, নিজদের উদ্যোগে কক্সবাজারের বিভিন্ন আশ্রয় শিবির থেকে রাখাইনে ফেরত আসছে। দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যাবাসনের নির্দিষ্ট কাঠামো অনুযায়ী স্বেচ্ছায় হতে হবে। চুক্তি অনুযায়ী ফেরত আসাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। ফেরত আসা ৫৮ জন মুসলিম উদ্বাস্তু জনগোষ্টীকে রাষ্ট্রপ্রতি ক্ষমা করে দিয়েছেন। ক্ষমা প্রাপ্ত ৫৮ মুসলিম জন গোষ্টীকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়ে নাকপুরা অভ্যর্থনা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে বলে মিয়ানমার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জিএনএল গতকাল সোমবার জানিয়েছে।
তবে যেসব রোহিঙ্গাদের মধ্যে যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশে আশ্রয় শিবির গুলো থেকে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায় ফিরিয়ে যাওয়ার এমন দাবি সম্পর্কে বাংলাদেশে শরনার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের কোন তথ্য নেই বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য গত এপ্রিল মাসে সীমান্তের তুমব্রু কুনারাপাড়া জিরো লাইনে অবস্থানরত রাখাইনের একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইফতার আলম ৫ সদস্যের পরিবার নিয়ে গোপনে মিয়ানমারে ফিরে যায়। উক্ত পরিবারকে তুমব্রু অভ্যর্থনা কেন্দ্রে যাবতীয় প্রত্যাবাসনিক কার্যক্রম শেষে হ্লা পুই খুয়াংয়ের ট্রানজিট শিবিরে কয়েকদিন রাখার পর বর্তমানে সে নিজ গ্রামের পরিবর্তে মংডু শহরে বসবাস করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে রোববার ভোরে টেকনাফ সদরের নোয়াখালীপাড়া সীমান্ত দিয়ে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে আরো ২৩ রোহিঙ্গা। উক্ত রোহিঙ্গাদের মধ্যে ১৫ জন নারী ও ৮ জন শিশু রয়েছে। এসব রোহিঙ্গাদের কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে অস্থায়ী ভাবে গড়ে তোলা আশ্রয় শিবিরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.