হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদরাজনীতি

৫০ প্রার্থী বদলের নেপথ্যে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::

আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা না করলেও আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত প্রার্থীদের হাতে দলীয় মনোনয়নপত্র হস্তান্তর করেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটির প্রার্থী তালিকায় বেশকিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। নতুন মুখ এসেছে ৫০ জন। দশম সংসদের এমপিদের মধ্য থেকে ৪১ জন বাদ পড়েছেন। নানা কারণে তাদের আসনে নতুনদের প্রার্থী করা হয়েছে। মহাজোটের শরিকদের জন্য ৭০টি আসন ছেড়ে বাকি ২৩০ আসনে প্রাথমিকভাবে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে দলটি।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ ও জোটের প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এ পরিবর্তন হতে পারে অল্প কয়েকটি আসনে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বর। ওই দিন পর্যন্ত অনেক কিছুই হতে পারে। গত নির্বাচনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দশম সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে ব্যাপক চমক দেখা গিয়েছিল। এবার তেমন কিছু ঘটার সম্ভাবনা না থাকলেও শেষ দিনে কিছু চমক থাকবে। কারণ, আমাদের দলীয় প্রার্থী সবার কাছ থেকেই প্রার্থিতা প্রত্যাহারের স্বাক্ষর নিয়ে রাখা আছে। দলীয় প্রধান চাইলে শেষ মুহূর্তে যে কাউকে সরে দাঁড়াতে হতে পারে।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা ঘেঁটে দেখা গেছে, মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মনোনয়ন পাননি এবার। দলের উপদেষ্টা পরিষদের বর্ষীয়ান এ সদস্যের সিলেট-১ আসনে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে তার ছোট ভাই ও জাতিসংঘের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একেএম আবদুল মোমেনকে। অবশ্য মুহিতের এ বাদ পড়াটা ঘটেছে তার নিজের ইচ্ছায়। বেশ কিছুদিন থেকেই তিনি বলে আসছিলেন, আগামী নির্বাচনে দল থেকে প্রার্থী হবেন না। এমনকি দলীয় মনোনয়ন ফরম কেনার দিনও বলেছিলেন, ডামি প্রার্থী হিসেবে ফরম কিনছি।

জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবার কোনো আসন থেকে মনোনয়ন পাননি। দশম সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৬ আসনটি আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছেড়ে দিলে ওই আসনে উপনির্বাচনে বিজয়ী হন শিরীন। নিজের শ্বশুরবাড়ির এলাকা এ আসনে এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আওয়ামী লীগের চারজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে দুজন মনোনয়ন পাননি। ঢাকা-১৩ আসনে দলীয় কোন্দলের অভিযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। এ আসনে বরিশাল থেকে এসে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রথমবার নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর কবির নানক। মোহাম্মদপুরের স্থানীয় মানুষ বিষয়টি তখন থেকেই স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। এর পরও ২০১৪ সালের নির্বাচনেও এ আসন থেকে এমপি হন নানক। কিন্তু এবারের নির্বাচনে বিএনপির শক্ত প্রার্থী মোহাম্মদপুর থেকে নির্বাচন করার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দা ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকার টিকিট দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি দলের প্রভাবশালী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুুর রহমান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ আসনে জনপ্রিয়তার জরিপে অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে থেকেও দলের ‘অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তের’ কারণে মনোনয়ন পাননি। নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে ১ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন আবদুর রহমান। জানা গেছে, স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েকটি গ্রুপের বিরোধিতা আবদুর রহমানের নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে এমনটিও ভাবনায় নিয়েছে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড। এ আসনে রহমানের বিরোধিতাকারী অপর তিন মনোনয়নপ্রত্যাশী কাজী সিরাজ, লিয়াকত শিকদার, আরিফুর রহমান দোলনও মনোনয়ন পাননি। পেয়েছেন সাবেক একজন আমলা। জানা গেছে, মনোনয়ন না পেলেও আগামীতে দলের আরও গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখা যেতে পারে ছাত্রলীগের সাবেক শীর্ষনেতা আবদুর রহমানকে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই বলয়ের বিরোধিতার কারণে মনোনয়ন পাননি আওয়ামী লীগের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। মাদারীপুরের রাজনীতিতে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে বাহাউদ্দিন নাছিমের বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্য। শুধু তাই নয়, মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেনের নেতাকর্মীরও প্রত্যাশা করেছিলেন এবার এ আসনে সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন মনোনয়ন পাবেন। পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাহাউদ্দিন নাছিম ও আবুল হোসেন কাউকেই মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ। গোলাপ প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

আওয়ামী লীগের আরেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের নামে অনেক আগে থেকেই নানা অভিযোগ রয়েছে। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও তার নামে বেশকিছু অনিয়ম ছিল। অনেকেরই ধারণা ছিল, আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনেই কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে বাদ পড়বেন। কিন্তু সম্মেলনে দলীয় পদ টিকে গেলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে আর মনোনয়ন ধরে রাখতে পারেননি মোজাম্মেল। তার পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির জনপ্রিয় কার্যনির্বাহী সদস্য ইকবাল হোসেন অপু।

সংসদের সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব) শওকত আলী বাদ পড়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনে। শারীরিক অসুস্থতার কারণেই মনোনয়ন চাননি ৭ বারের এমপি। তিনি চেয়েছিলেন তার ছেলেকে এ আসনে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে। কিন্তু এ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল শামীমকেই বেছে নিয়েছে আওয়ামী লীগ। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শামীম ছাত্র রাজনীতির সময় থেকেই এ আসনের মানুষের খোঁজখবর নিতেন। একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো দলীয় মনোনয়ন পেলেন তিনি।

নানা কারণে বিতর্কিত সাবেক ফুটবলার ও ক্রীড়া উপমন্ত্রী আরিফ খান জয় বাদ পড়েছেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে। নেত্রকোনা-২ আসনের এমপি হওয়ার পর থেকেই জয় ও তার ভাইদের নামে একের পর এক অভিযোগ ওঠা শুরু হয়। তিনি তার কর্মফলের কারণেই মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন বলে মনে করেন নেত্রকোনার সাধারণ মানুষ। নেত্রকোনা-৩ আসনে বাদ পড়েছেন ইফতিখার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু। ওই আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুর কাদের কোরাইশীর সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কোন্দলের সুযোগে ব্যবসায়ী পিন্টু দলীয় মনোনয়ন পান। এবার মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। ছাত্রলীগের সাবেক এ শীর্ষনেতা দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে এ আসনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে আগে থেকেই নানা সমালোচনা ছিল পিরোজপুর-১ আসনের এমপি একেএম আউয়ালের নামে। তিনি ও তার ভাইয়েরা আওয়ামী লীগের পারিবারিক বলয় তৈরি করেছেন এমন অভিযোগ ছিল সর্বজনস্বীকৃত। এসব কারণে আউয়ালের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম। সুপ্রিমকোর্টের এ আইনজীবীর সময়টা বেশ ভালোই যাচ্ছেআওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে দলের আইন সম্পাদক হওয়ার এক বছরের মাথায়ই পেলেন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন।

মাগুরা-১ আসনে মনোনয়ন হারিয়েছেন বর্তমান এমপি এটিএম আবদুল ওয়াহাব। এখানে প্রার্থী করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব অ্যাডভোকেট সাইফুজ্জামান শিখরকে। মূলত এ আসনটি শিখরদের পারিবারিক আসন। তিনি যে এ আসনে মনোনয়ন পাবেন এটা সবাই জানতেন। সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসীন আলী মারা যাওয়ার পর তার আসনে উপনির্বাচন করে বিজয়ী হন সৈয়দা সায়েরা মহসীন। এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে ভেবে সেখানে প্রার্থী করা হয়েছ্ েমৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমেদকে।

দলের সভাপতিম-লীর প্রবীণ সদস্য ও জতীয় সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে তার ফরিদপুর-২ আসনে এবার মহাজোটের শরিক জাকের পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সলকে প্রার্থী করা হতে পারে। জাকের পার্টির চেয়ারম্যান অবশ্য তার নিজ আসন ফরিদপুর-৪ থেকেই প্রার্থী হতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু ওই আসনে দলের সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ শক্ত প্রার্থী হওয়ায় আসনটি নিজেদের হাতেই রেখেছে আওয়ামী লীগ।

পাবনা-২ আসনের এমপি খন্দকার আজিজুল হক আরজুর স্থানে মনোনয়ন পেয়েছেন আহমেদ ফিরোজ কবীর। দেশের এক শীর্ষ ব্যবসায়িক গ্রুপের মালিকের অনুরোধেই ফিরোজ কবীর মনোনয়ন পেয়েছেন বলে জানা গেছে। কুষ্টিয়া-৪ আসনের এমপি আবদুর রউফের পরিবর্তে সাবেক এমপি মরহুম আবুল হোসেন তরুণের ভাতিজা ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী-৫ আসনের বিতর্কিত এমপি আবদুল ওয়াদুদ দারার আসনে প্রার্থী করা হয়েছে ডা. মনসুর রহমানকে। বিতর্কিত এমপি আবদুর রহমান বদির কক্সবাজার-৪ আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন তার স্ত্রী শাহীন আক্তার চৌধুরী। জনমত জরিপে বদি অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও বিতর্কের কারণে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

কানসাট আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আলোচনায় স্থান করে নেওয়া গোলাম রাব্বানী এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন হারিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াত তোষণের অভিযোগ ওঠায় তার আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. সামিল উদ্দিন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে জিয়াউর রহমানকে।

ঢাকা-২০ আসনে এমএ মালেকের বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন এ আসনের সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজির অনেক দিন থেকেই এ আসনে নির্বাচনে আগ্রহী ছিলেন। নওগাঁ-৫ আসনের বর্তমান এমপি আবদুল মালেক মনোনয়ন পাননি। প্রার্থী করা হয়েছে নিজাম উদ্দিন জলিল জনকে। তিনি দলের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিলের ছেলে। খুলনা-৬ আসনে অ্যাডভোকেট শেখ মোহাম্মদ নুরুল হকের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রার্থী জেলার যুবলীগ নেতা আখতারুজ্জামান বাবু। সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের বর্তমান এমপি গাজী ম. ম. আমজাদ হোসেন মিলনের পরিবর্তে মনোনয়ন পেয়েছেন ডা. আবদুল আজিজ।

সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের বর্তমান এমপি আবদুল মজিদ ম-লের বদলে তার ছেলে আবদুল মোমিন ম-লকে প্রার্থী করা হয়েছে। টাঙ্গাইল-৩ আসনে আমানুর রহমান রানার বদলে তার বাবা আতাউর রহমান খান, নেত্রকোনা-১ আসনে ছবি বিশ্বাসের পরিবর্তে মানু মজুমদার মনোনয়ন পেয়েছেন। তিনি ছবি বিশ্বাসের ভগ্নিপতি। বাগেরহাট-২ আসনে মীর শওকাত আলী বাদশার স্থলে মনোনয়ন পেয়েছেন শেখ ফারহান নাসের তন্ময়। বর্তমান এমপিদের মধ্যে খুলনা-২ আসনে মিজানুর রহমানের বদলে শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, পটুয়াখালী-৪ আসনে মাহবুবুর রহমান তালুকদারের বদলে মহিব্বর রহমান, বরিশাল-৫ আসনে জেবুন্নেছা আফরোজের বদলে কর্নেল (অব) জাহিদ ফারুক শামীম, নাটোর-১ আসনে আবুল কালামের বদলে শহিদুল ইসলাম বকুল, ঝিনাইদহ-৩ আসনে নবী নেওয়াজের বদলে সফিকুল আজম খান চঞ্চল, যশোর-২ আসনে অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম মনিরের বদলে মেজর জেনারেল (অব) ডা. নাসির উদ্দিন, টাঙ্গাইল-২ আসনে খন্দকার আসাদুজ্জামানের বদলে তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির, টাঙ্গাইল-৬ আসনে খন্দকার আবদুল বাতেনের বদলে আহসানুল ইসলাম টিটু, কিশোরগঞ্জ-২ আসনে সোহরাব উদ্দিনের বদলে পুলিশের সাবেক আইজি নূর মোহাম্মদ, গাজীপুর-৩ আসনে অ্যাডভোকেট রহমত আলীর বদলে ইকবাল হোসেন সবুজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে ফয়জুর রহমান বাদলের বদলে এবাদুল করিম বুলবুল এবং ময়মনসিংহ-১১ আসনে অধ্যাপক ডা. আমান উল্লাহর বদলে কাজিম উদ্দিন আহমেদ ধনু মনোনয়ন পেয়েছেন। মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের এমপি সুকুমার রঞ্জন ঘোষ মনোনয়ন পাননি। তার আসনে বিকল্পধারার প্রার্থী মাহী বি. চৌধুরী জোটের পক্ষ থেকে মনোনয়ন পেতে পারেন।

এবার জেটের কিছু আসনেও প্রার্থী দিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত দুই নির্বাচনে জোটের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোর মধ্যে নড়াইল-২ আসনে ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ হাফিজুর রহমানের পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছে জাতীয় ক্রিকেট ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজাকে। জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানের পঞ্চগড়-১ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে ওই আসনের সাবেক এমপি মোজহারুল হক প্রধানকে। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের পটুয়াখালী-১ আসনে আওয়ামী লীগের এম শাহজাহান মিয়াকে প্রার্থী করা হয়েছে। জাপার এমপি জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলুর চট্টগ্রাম-৯ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলকে দলীয় প্রার্থী করা হয়েছে। নওফেল চট্টগ্রাম সাবেক মেয়র মহিউদ্দীন চৌধুরীর ছেলে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গুডবুকে রয়েছে তরুণ এ ব্যারিস্টার। জাপার এমপি অ্যাডভোকেট সালমা ইসলামের ঢাকা-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বিশিষ্ট ব্যাবসায়ী সালমান এফ রহমানকে প্রার্থী করা হয়েছে। জাপার এমপি মোহাম্মদ ইলিয়াছের কক্সবাজার-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী করা হয়েছে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলমকে। জামালপুর-৪ আসনের বর্তমান এমপি জাপার মামুনুর রশিদের পরিবর্তে সাবেক এমপি ডা. মুরাদ হাসানকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। জাপার এমপিদের মধ্যে সেলিম উদ্দিনের সিলেট-৫ আসনে হাফিজ আহমেদ মজুমদার, আমির হোসেনের কুমিল্লা-২ আসনে ব্যবসায়ী নেতা মাতলুব আহমাদের স্ত্রী সেলিমা আহমাদ মেরি এবং এমএ হান্নানের ময়মনসিংহ-৭ আসনে সাবেক এমপি রুহুল আমিন মাদানীকে মনোনয়ন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়ানোর ফলে আওয়ামী লীগের আশীর্বাদে ঢাকা-১৭ আসনে জয়ী হয়েছিলেন বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান এসএম আবুল কালাম আজাদ। এবার এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুক।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.