টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভূমিধসের শঙ্কা মোট জনসংখ্যার চেয়েও ১ কোটি বেশি জন্ম নিবন্ধন! বাড়তি নিবন্ধনকারীরা কারা?  বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের

২৪ অক্টোবর সামনে রেখে জামায়াতের রোহিঙ্গা মিশন!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৩
  • ৯৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
 ২৪ অক্টোবর সামনে রেখে জামায়াতের রোহিঙ্গা মিশন!

বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রণপ্রস্তুতি সম্পন্ন করছে রোহিঙ্গা সলিডিরাটারি অর্গানাইজেশন (আরএসও)। নতুন লোকবল, প্রশাসনিক শক্তি ও ভারী অস্ত্র সংগ্রহের মাধ্যমে ক্রমেই ভয়ংকর শক্তিধর হয়ে উঠছে মায়ানমারের এই বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠনটি। কক্সবাজার-বান্দরবান জেলার দুর্গম পাহাড়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও টহলের কার্যক্রম চালাচ্ছে আরএসও। বাংলাদেশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তাই প্রায়ই কঠিন চ্যালঞ্জের সম্মখীন হতে হচ্ছে এই জঙ্গি সংগঠনের। মায়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে প্রায়ই বাংলাদেশ সীমান্তে গুলির ঘটনা ঘটছে আরএসওর। এতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন স্থানীয় পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠী। বাংলানিউজের স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট রহমান মাসুদ ও স্টাফ করেসপন্ডেন্ট ইলিয়াস সরকার এর দীর্ঘ সরেজমিন অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এ বিষয়ে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কক্সবাজার (মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত) থেকে ফিরে: সরকার পরিবর্তনে নিরীহ রোহিঙ্গাদের ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার জামায়াত!
এরই মধ্যে দলটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে বর্তমান সরকার এবং আওয়ামী লীগ সম্পর্কে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে ক্ষেপিয়ে তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরকার বিরোধী স্লোগান দিতে শোনা গেছে। ‘শেখ হাসিনা আতাইমা (সৎ মা), খালেদা জিয়া আসল মা, আর যাবো না বর্মা’ স্লোগান এখন রোহিঙ্গা শিশুদের খেলার বিষয়ও হয়ে উঠেছে।
দরিদ্র পীড়িত রোহিঙ্গারা অর্থের প্রলোভন ও মায়ানমার সরকারের নির্যাতনে অনেকটা বাধ্য হয়েই জামায়াতের ফাঁদে পা দিচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন জনৈক নুরুল আমিন নামের একজন ক্যাম্পবাসী রোহিঙ্গা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জামায়াত দারিদ্র্যের সুযোগ নিয়েই রোহিঙ্গাদের সংঘটিত করে নাশকতার পরিকল্পনার মিশন নিয়েও মাঠে নেমেছে। সদ্য কারামুক্ত রোহিঙ্গা জঙ্গির এক শীর্ষ নেতার মাধ্যমে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র।
কক্সবাজার এলাকায় রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে ২৪ অক্টোবরের পর থেকে ১৮ দলীয় জোট ঘোষিত সরকার পতনের আন্দোলনে ব্যবহার করা হবে। এজন্য দোয়া মহফিল আয়োজনের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরকার পতনের জন্য দোয়াও কামনা করা হচ্ছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের মধ্যে দফায় দফায় ত্রাণ বিতরণ, গোপন বৈঠক, প্রশাসন ও কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতাকে ম্যানেজের চেষ্টাসহ নানা তৎপরতা চলছে।
সরকারের দায়িত্বশীল একটি সংস্থার মতে, চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো নতুন কোনো নাশকতার পরিকল্পনা নিয়ে জামায়াত এ তৎপরতা শুরু করেছে। এতে বিদেশিদের সহায়তাও উল্লেখ করার মতো। তবে সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৪ অক্টোবরের পর দেশে যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে তা শুরু হবে কক্সবাজার থেকেই।   অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মাওলানা সাঈদী মুক্তি পরিষদের ব্যানারে কক্সবাজারে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় জামায়াত-শিবির। ওই তাণ্ডবের সময় অন্তত তিনজনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় জামায়ত শিবিরের ক্যাডারের পাশাপাশি রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীও অংশ নিয়েছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে প্রমাণ পেয়েছে প্রশাসন।
শুধু কক্সবাজারেই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের সহিংসতায় রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হয়েছে বলেও স্থানীয়রা দাবি করেছে। এছাড়া গতবছর ২৯ সেপ্টেম্বর রামু উপজেলায় বৌদ্ধ বিহার ও বসতি অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায়ও রোহিঙ্গারা অংশ নিয়েছে। এসব ঘটনায় কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থান থেকে রোহিঙ্গাদের ভাড়া করে এনে নাশকতা করা হয় বলে প্রশাসনের একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ্য করা হয়।
সরকারি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের জঙ্গি সংগঠন আরএসও’র শীর্ষ নেতাদের ম্যানেজ করেই মায়ানমার থেকে আগত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নাশকতায় ব্যবহার করা হয়। মায়ানমার থেকে আসা এসব রোহিঙ্গারা অর্থ ও ত্রাণের বিনিময়ে জামায়াতের নেতৃত্বে ঘটা বিভিন্ন ধংসাত্মক কার্যক্রমে অংশ নেয়। কারণ মায়ানমার থেকে এসে হঠাৎ করে তারা কোনো কাজ জোটাতে পারে না। তাই অর্থ ও ত্রাণের বিনিময়ে তারা সহজেই এসব কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, স্থানীয় কিছু মৌলভীর নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের বস্তিগুলোতে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শাপলাপুরে সমুদ্র সৈকতের কাছে ঝাউবাগান এলাকায় একটি অবৈধ রোহিঙ্গা বস্তি রয়েছে। রোজার ঈদ উপলক্ষে চলতি বছরের ১০ আগস্ট কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শাপলাপুরে রোহিঙ্গা বস্তিতে জঙ্গিদের ত্রাণ বিতরণ করেন মৌলভী আজিজ ও মৌলভী ইউনুছের নেতৃত্বে একদল স্থানীয় ব্যক্তি। প্রায় ছয়শো পরিবারের মধ্যে ৩ কেজি সেমাই, ২ কেজি চিনি, একটি লুঙ্গি, একটি শাড়ি এবং নগদ এক হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়।
এর আগে উখিয়া উপজেলার কুতুপালং আনরেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত ২৮ জুলাই নগদ অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এর নেতৃত্বে ছিলেন আরএসও’র সামরিক শাখার প্রধান হাফেজ সালাউল ইসলাম। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন সৌদি নাগরিক আহমদ বোগদাদী, সালাউলের ছেলে সাদ নিজামী, রোহিঙ্গা নেতা জালাল ও মনজুর।
চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সৌদি নাগরিক আহমদ বোগদাদী কক্সবাজার এসে কলাতলীর আবাসিক হোটেল ওশান প্যারাডাইসে অবস্থান করেন। এরপর উখিয়া গিয়ে আনরেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গাদের মধ্যে নগদ ৭ হাজার টাকা বিতরণ করেন। শতাধিক লোকজনের মধ্যে নানা বিভিন্ন প্রকার ত্রাণও বিতরণ করেন তিনি।
এ ঘটনার কিছুদিন পর মার্চ মাসে টেকনাফের একটি মাদ্রাসায় গোপন বৈঠকের সময় আটক হন সালাউল। কিন্তু আটকের পর কিছুদিন কারাভোগ কোরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপরই আবারও পুরোদমে জঙ্গি তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তার এ তৎপরতার নেপথ্যে রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সংশ্লিষ্টতা।
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত নেতাদের মুক্তি এবং ২৪ অক্টোবরের পর সরকার পতনে কক্সবাজারে নতুন করে ব্যাপক নাশকতার পরিকল্পনা নিয়েছে জামায়াত। এতে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছে জামায়াত। রোহিঙ্গা ও জামায়াতের মধ্যে মধ্যস্থতায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টেকনাফের কুতুপাংলয়ের সাবেক মেম্বার বখতিয়ারের সহায়তায় রোহিঙ্গাদের নিয়ে সরকার বিরোধী আন্দোলনের জন্য গোপন বৈঠক করেন। আর এসব কাজে নির্দেশ দেন আরএসও’র সভাপতি ডা. ইউনুছ। যিনি চট্টগ্রামে বসবাস করেন বলে জানা গেছে।


বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT