টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

দেশ জুড়ে ইয়াবা আতংক:ধরা পড়ছে বহনকারি : গডফাদাররা বহাল তবিয়তে : প্রায় পরিবারে স্নায়ু যুদ্ধ :

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১১৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

শফিউল্লাহ শফি :বর্তমান সময়ে পত্রিকার পাতা কিংবা টেলিভিশনের পর্দা চোখে পড়তেই দেখা মিলে ছেলে কিংবা মেয়ের হাতে মা কিংবা বাবার মৃত্যু। এমনকি মেয়ে কিংবা ছেলের হাতে মাতা-পিতা দুই জনেই খুন। এ রকম মর্মান্তিক ঘটনা আধিকাল থেকে ১০ বছর পূর্বেও ছিলোনা। কোটি টাকা অথবা সম্পদের জন্যও কখনো এ নির্মম ঘটনার জন্ম দেয়নি প্রিয় সন্তানরা। কিন্তু বর্তমানে ইয়াবা নামক একটি মরণ নেশার মাদক ছিন্ন ভিন্ন করে পেলছে জনম জনমের বন্ধনও। খুনের মতো জগন্য ঘটনার জন্ম দিতে বর্তমানে এক সেকেন্ডও চিন্তা করছেনা ওঠতি বয়সের যুবক যুবতিরা। শুধুমাত্র মাদকের কারণে আজ দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ। ইয়াবা নিয়ে প্রতিনিয়ত গ্রেপ্তার হচ্ছে হরেক পেশার মানুষ। কিন্তু বরাবরের মতোই পর্দার আড়ালে থেকে যাচ্ছে গডফাদাররা। যে কারনে সম্প্রতি সময়ে বেপরোয়া ভাবে বেড়েই চলছে ইয়াবা পাচার। ইয়াবার অপ সংস্কৃতিতে দেশ আজ সয়লাব। দেশ জুড়ে চলছে ইয়াবা আতংক।
বর্তমান সময়ে যেদিকে থাকায় সেদিকেই ইয়াবা নামক গোলাপী ট্যাবলেটে চেয়ে গেছে বাংলার আকাশ-বাতাস, শহর-গ্রাম, ধনী-গরীব, যুব সমাজসহ সব মহল্লায়। ইয়াবা ব্যবসা করে কেউ হয়ে যাচ্ছে রাতারাতি কোটিপতি। আর কেউ হচ্ছে ধ্বংস। আবার ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়ে অনেকেই বছরের পর বছর কারাগারের ঘানি টানছে। দুঃখের সাথে বলতে হয় ইয়াবা নিয়ে যারা কারাগারে যাচ্ছে তারা সবাই ইয়াবা বহনকারী মাত্র। কিন্তু ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে ইয়াবা গডফাদাররা। অতীতের রেকর্ড মতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ৩৬ ইয়াবা ব্যবসায়ী থেকে বেড়ে বর্তমানে হয়েছে শতাধিক। তাদের মধ্যে পুলিশ, র‌্যাব কিংবা বিজিবি’র হাতে কেউ আটক হয়নি। তারা বরাবরের মতো রয়ে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে। গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে তারা সকলেই প্রশাসনের প্রতিনি সেক্টর মাসিক ও দৈনিক ম্যানেজ করে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে। সচেতন মানুষ মনে করেন ইয়াবা গড ফাদারদের আইনের আওতায় আনা হলে দেশের প্রায় পরিবার নিরাপদে বসবাসের পাশাপাশি ইয়াবার আগ্রাসন থেকে মুক্ত হবে। সম্প্রতি রাজধানীতে কলেজ পড়–য়া মেয়ের হাতে পুলিশ দম্পতি খুনের ঘটনায় পুরো দেশবাসিকে ভাবিয়ে তুলেছে। রাজধানীর অধিকাংশ পরিবারে বর্তমানে কর্তাদের মধ্যে চলছে স্নায়ু যুদ্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইয়াবা সেবনকারীর সাথে কথা বলে জানা যায়, দিনে ৫-১০টা ট্যাবলেট তাদের সেবন করতে লাগে। যদি কখনো অর্থের সংকটে পড়ে তখন কোনো অপরাধ করতে বিন্দু পরিমান চিন্তা হয়না তাদের। ইয়াবার নেশা মাথায় নাড়া দিলে আপন পর চিনতে খুবই কষ্ট হয়। যতক্ষন এ নেশা মাথা থেকে দুর হবেনা ততক্ষন মন স্থির থাকেনা। অনেক কষ্টে বাবা-মার টাকা চুরি করে এ নেশার চাহিদা মেটাতে হয়। যদি বাড়ি থেকে টাকা না পায়, তাহলে সে টাকা জোগাড় করতে চুরি, ছিনতাইয়ের পথ বেছে নিতে হয়। যদি ইয়াবা সেবন করতে না পারি, তাহলে সারাদিন অস্থির, দুর্বল, মাথা ব্যাথা, ঘুম কম হয়। এতে কি করছি না করছি তা হুশ থাকে না। এ সময় গুলোতে কোন অপরাধ সংগঠিত করলে, তার পরিনামও মাথায় থাকে না। বর্তমানে জেলার অনেক ধর্ণাঢ্য পরিবারের সদস্যরা ইয়াবা মাদকাসক্ত হওয়ায় কোটি টাকার সম্পত্তি নষ্ট করে যাচ্ছে। পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে পিতা মাতার ইজ্জত সম্মানও। এমনি উদাহারণ আছে কক্সবাজারের প্রায় পাড়া-মহল্লায় পুরুষের পাশাপাশি মেয়েরা ইয়াবা গননা, ভাঙ্গা ট্যাবলেট আলাদা ও মান যাচাই করতে গিয়ে ইয়াবা আসক্ত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি স্কুলমূখী ছাত্ররা ৭ম ও ৮ম শ্রেণিতে উঠা মাত্র তারা আর পড়ালেখায় মন বসাতে পারছে না পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে। কেননা, তার অন্যান্য সমবয়সী ছাত্ররা ইয়াবা পাচার করে নামিদামী মোটর সাইকেল ও মোবাইল নিয়ে আরাম আয়েশে দিন যাপন করছে। তার কেন পিঁছিয়ে থাকবে সে চিন্তা করে পড়ালেখা বাদ দিয়ে সহসাই ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে। যার কারণে টেকনাফে কিশোর, যুবক-যুবতী, মাঝ বয়সী ও বয়স্ক লোক এ ইয়াবা ব্যবসায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িয়ে পড়ছে। ইয়াবার আগ্রাসনে অভিভাবকরাই প্রকৃতপক্ষে দোষী বলে দাবী করেন অনেকেই। তারা নিজেরাই সন্তানদের ইয়াবা ব্যবসায় উৎসাহিত ও জোগান দিয়ে থাকে। আর যারা ইয়াবা নির্মূলের দায়িত্বে আছেন, তারাও ইয়াবার আগ্রাসনে সমান অংশীদার। কেননা, আমরা সবাই জানি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ইয়াবা জব্দ করে সোর্স মানির নাম ভাঙ্গিয়ে অধিকাংশ ইয়াবা নিজেরাই গায়েব করে ফেলে। তা আবার ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়। সব কিছু মিলিয়ে জেলার পাশাপাশি পুরো দেশে যেভাবে ইয়াবার আগ্রাসন চলছে তাতে কোন দিন ইয়াবা নির্মূল করা যাবে না বলে মত প্রকাশ করছেন সচেতনমহল। কেননা, যারা এগুলো নির্মূলের দায়িত্বে আছে তারা আরো বেশি লাভবান হচ্ছে। ইয়াবার ব্যবসায়ীরা পুঁজি খাটিয়ে ব্যবসা করছে, ধরা পড়লে হয়তো কিছুদিন সময় লাগে তা ফুশিয়ে উঠতে। কিন্তু প্রশাসনের লোকজনের পুঁজি দিতে হয় না। ধরা পড়লেই নির্দিষ্ট ভাগ করে কিছু নামেমাত্র দেখিয়ে বাদ বাকী ইয়াবা বিক্রি করে দেয়। ইয়াবা আগ্রাসন কিভাবে বন্ধ হবে তা আর কেউ সঠিকভাবে দিক নির্দেশনা নিতে পারবেনা। কেননা, দায়িত্বশীলদের পুরোপুরি সততা, নিষ্ঠা না থাকলে তা কোন দিন সম্ভব হয়ে উঠবে না। পাশাপাশি তারা যদি সৎ ও নিষ্ঠাবান না হয় তাহলে এদেশের পতিটি পরিবারে জন্ম নেবে ঐশীর মতো ইয়াবা মাদাকাসক্ত কিশোরিদের। আর তাদের রাক্ষুসে ছোবলের শিকার হবে পুলিশ দম্পতির মতো অনেকেই।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT