টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

১৮ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৩ শতাধিক এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারী নিদারুন দুর্দশায় নিপতিত,

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১০৪ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

এস. এম. তারেক, ঈদগাঁও:::: বেতন ভাতা উত্তোলনে ঈদগাঁও’র ৭ ইউনিয়নের দেখার কেউ নেইকক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁও’র সরকারী অনুদানভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও  মাদ্রাসার শিক্ষক কর্মচারীরা বেতনভাতা উত্তোলন করতে গিয়ে যুগ যুগ ধরে নিদারুণ দুঃখ কষ্ট নিয়ে দিনাতিপাত করে এলেও এ দুর্দশা থেকে পরিত্রাণ পেতে অদ্যাবধি কোন ব্যক্তি বা সংগঠন তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়নি। বৃহত্তর ঈদগাঁও’র বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সরকারী অনুদানভুক্ত এ ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্টান রয়েছে ১৮ টি। তম্মধ্যে ১ টি ডিগ্রী কলেজ, ৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৮ টি মাদ্রাসা। শিক্ষক কর্মচারী মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় ৩ শতাধিক জনবল রয়েছে জানা গেছে। বৃত্তর ঈদগাঁও’র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে আলাপচারিতায় জানা গেল, যুগ যুগ ধরে তারা ঈদগাঁও থেকে প্রায় ৩২ কি:মি: দুরের পথ পাড়ি দিয়ে সদরের জনতা ব্যাংক থেকে অদ্যাবধি বেতন ভাতা উত্তোলন করে আসছেন। এতে তাদের সময় ও অর্থের যেমন অপচয় হচ্ছে তেমনিভাবে ভোগান্তি হচ্ছে প্রত্যেক শিক্ষক কর্মচারীর। কোন কোন সময় সময়মত ব্যাংকে উপস্থিত হতে না পারলে ওই দিন আর টাকা উত্তোলন করা সম্ভব হয়না। অপেক্ষা করতে হয় পরদিনের জন্য। অফিস ও শ্রেণির কাজ বাদ দিয়ে শিক্ষক কর্মচারীদের শুধুমাত্র বেতন ভাতা উত্তোলনের কাজে শহরে যেতে হয় বলে অনেক সময় প্রতিষ্টানের গুরুত্বপূর্ন কাজেরও  প্রচুর ক্ষতি হয়। অথচ এখানে রয়েছে, রাষ্টায়াত্ত সোনালী, রুপালী ও কৃষি ব্যাংকের শাখাসহ বেসরকারী প্রায়সব ব্যাংকের শাখা। এলাকার শিক্ষক কর্মচারীদের  দাবী, সরকার যদি ঈদগাঁও’র রাষ্টায়াত্ত ৩ ব্যাংকের যেকোন শাখায় তাদের বেতন ভাতা উত্তোলনের সুযোগ করে দেয় তবে আর্থিক সাশ্রয় ছাড়াও নানামুখী ভোগান্তি থেকে তারা রেহাই পেতেন এবং নষ্ট হওয়া দিনটি তারা জাতির কল্যাণে ব্যয় করতে পারতেন। ঈদগাঁও’র স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম আলমগীর জানান, শিক্ষকগণ হচ্ছেন জাতি গড়ার কারিগর, এই কারিগরদের বেতনভাতা  এমনিতেই রাষ্ট্রের অন্যান্য কর্মচারীদের চেয়ে অনেক কম, এমন অবস্থায় যদি তাদের প্রাপ্ত যৎসামান্য টাকা থেকে আবারো অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয় তা সত্যিই দুঃখজনক, তিনি অত্র এলাকার শিক্ষক কর্মচারীদের দুর্দশা লাঘবে ঈদগাঁও’র রাষ্টায়াত্ত ব্যাংকের যেকোন শাখা থেকে যাতে বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারেন তার বন্দোবস্ত করার জন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান। অন্যদিকে ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচিণতম বিদ্যাপীঠ ঈদগাহ্ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা মিসেস্ খুরশীদুল জন্নাত জানান, পার্শ্ববর্তী উপজেলা মহেশখালীতে জনতা ব্যাংকের কোন শাখা না থাকা সত্বেও ওই এলাকায় কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা রাষ্ট্রায়াত্ত সোনালী ব্যাংকের শাখা থেকে বেতন ভাতা উত্তোলন করতে পারলেও ঈদগাঁওতে কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বৈষম্য তিনি মেনে নিতে নারাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, অনেক শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষক কর্মচারীরা এসব দুর্দশার জন্য নিজেদের অনৈক্য ও শিক্ষক নেতাদের দুষছেন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ এতদিন ধরে এভাবে ফেলে রাখায় তারা সরকারের পাশাপাশি শিক্ষক নেতাদের অবহেলাকে দায়ী করেন। জাতিগড়ার কারিগর খ্যাত এসব শিক্ষক কর্মচারীর সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমটাই প্রত্যাশা  ঈদগাঁও’র বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রতিজন শিক্ষক কর্মচারীর।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT