হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদবিশেষ সংবাদ

১৮ বছর পর নির্মানাধীন টেকনাফ কায়ুকখালী খালে সেতুর কাজে অনিয়ম

টেকনাফ প্রতিনিধি **

কক্সবাজারের টেকনাফে কায়ুকখালী খালে ১৮ বছর পর নির্মানাধীন বিকল্প সেতুর কাজে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই সেতুর কাজ এর আগে আলাদাভাবে কয়েকবারে কোটি টাকার টেন্ডার হলেও কাজটি সম্পন্ন করা হয়নি। কায়ুকখালী খালে নির্মানাধীন বিকল্প সেতুর পাশ্বের বাড়ীর সৈয়দ আলম বলেন, এ সেতুর জন্য আমরা জমি দান করেছি, আমাদের চোখের সামনে সেতুর কাজটি করা হচেছ। তবে যে কাজ চলছে অতি নিম্ন মানের। নিম্ন মানের কাজ দেখে আমি কয়েকবার বন্ধ করে দিয়েছি। এমনকি উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি)র কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে অফিসে গিয়ে ব্যবস্থা নিতে অভিযোগ দিয়ে আসছি।
তিনি বলেন, বতমানে ঠিকাদার যেভাবে কাজ করছেন, এঅবস্থায় যদি সেতু তৈরী হয়ে যায়, তাহলে কিছু দিনের মধ্যে ধ্বসে যেতে পারে। সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে টেকনাফবাসীর কপালে দূ:খ রয়ে যাবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত ২০০১ সালে কায়ুকখালী খালের উপর নতুন বিকল্প সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করেছিল। এটি টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজার মসজিদের পাশ দিয়ে পূর্ব-পশ্চিম লম্বা। এ সেতু প্রথমে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে খালের দুই প্রান্তে বড় দেয়াল নির্মাণ করে চলে যায়। এর পর ২০০৮ সালে আবারো ৭০ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েও কাজ করেনি। তবে যথাসময়ে বিকল্প সেতু না হওয়ায় এখন টেকনাফ শহরে নানা দূর্ভোগ পৌহাতে হচেছ।

সরেজিমনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর স্থানীয়দের চাহিদা প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে নতুন করে এ সেতু নির্মানের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এটি এলবিসি প্রজেক্টের মাধ্যমে সেতুর নকশা, বরাদ্ধ এবং আগের চেয়ে ব্যয় বাড়িয়য়ে সেতুটি বাস্তবায়ন করা হচিছল। বতর্মানে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে মের্সাস আসাদ এন্টারপ্রাইজ বাস্তবায়ন করছেন। সেতুটি ৩৫ মিটার লম্বা। এটি টেকনাফ লামার বাজার মসজিদ থেকে বাস ষ্টেশনের প্রধান সড়কে সাথে যুক্ত হবে। তবে নির্মাণাধীন সেতুর কাজ গত আগষ্ট মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। এ সেতুর কাজে নানা অনিয়ম দেখা যায়। এ সেতুর কাজে ব্যবহার করা হচেছ নিম্ন মানের কংক্রিত, বালি, কম পরিমানের সিমেন্ট। এমনকি সময়মত পানি দেওয়া হচেছনা। সেতুটির যে কাজ করা হচেছ যে কোন সময় ঝুকি নেম আসবে। টেকনাফের প্রাণ কেন্দ্রে খায়ুকখালী খালের অবস্থান। যাতায়াতে এই খালটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক সময় খালের উপরে ছিল কাঠের সেতু। পরবর্তীতে সেখানে পাকা সেতু করা হয়। এই খালে দুইটি পাকা সেতু রয়েছে। একটি অনেক পুরাতন প্রধান সড়কে, অন্যটি বড় ও ছোট হাজী মার্কেটের পূর্ব পাশ্বে। দুই সেতু উপর বাড়তি চাপ এবং জনগনের চাহিদা বিবেচনা করে মাঝখানে আরও একটি সেতু নিমার্ণ করা হচিছল।

টেকনাফ পৌর প্যানেল মেয়র হাজী আব্দুল্লাহ মনির বলেন, পৌর এলাকায় জনগনের বাড়তি চাপ মোকাবেলায় সাবেক সাংসদ আব্দুর রহমান বদির প্রচেষ্টায় কায়ুকখালী খালের উপর বিকল্প সেতু নির্মান করা হচেছ। এ সেতু নির্মান কাজে অনিয়ম বরদাস্ত করা হবেনা। এ বিষয়ে তদারকি করতে পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সংশিশ্ল বিভাগকে জানানো হবে ।

টেকনাফ উপজেলা প্রকৌশলী চৌধুরী মোহাম্মদ আসিফ রেজা বলেন, কায়ুকখালী খালের বিকল্প সেতু নির্মান কাজে স্থানীয়দের মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। তবে আমি শুনেছি এলজিডি অফিসের লোকজন চলে আসলে গোপনে তারা কাজ করছে। এ বিষয়টি উদ্ধতন কতৃপক্ষকে অবগত করছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কক্সবাজার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, খালের সেতুর কাজে অনিয়মের প্রমাণ ফেলে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। প্রয়োজনে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.