টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গারা কন্যাশিশুদের বোঝা মনে করে অধিকতর বন্যার ঝূঁকিপূর্ণ জেলা হচ্ছে কক্সবাজার টেকনাফে মুজিববর্ষ উপলক্ষ্যে ৩০ পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার জমি ও ঘর হস্তান্তর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বারদের দায়িত্ব নিয়ে ডিসিদের চিঠি আগামীকাল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন (তালিকা) বাংলাদেশ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান টেকনাফ উপজেলা কমিটি গঠিত: সভাপতি, সালাম: সা: সম্পাদক: ইসমাইল আজ বিশ্ব শরণার্থী দিবস মিয়ানমারে ফেরা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রোহিঙ্গারা ব্যাটারিচালিত রিকশা-ভ্যান বন্ধের সিদ্ধান্ত: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ হাসিনা যতদিন আছে, ততদিন ক্ষমতায় আছি: হানিফ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ

মালয়েশিয়ায় মানব পাচার : ১০ ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে : ৩ শতাধিক দালাল জড়িত

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুলাই, ২০১৩
  • ১৫১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ship20130723044908 বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর :কক্সবাজার রিপোর্ট: সমুদ্র পথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারে ৩ শতাধিক দালাল জড়িত রয়েছে।  আর এসব দালালের নিয়ন্ত্রক হিসেবে রয়েছে প্রভাবশালী ১০ ব্যক্তি। থাইল্যান্ড ভিত্তিক যোগাযোগ রক্ষাকারি প্রভাবশালী এ ১০ ব্যক্তির দেয়া সময় মতে জাহাজে মালয়েশিয়াগামিদের পৌঁছে দিচ্ছে। আর এ কাজে সরাসরি জড়িত রয়েছে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার উপকূলের ৩৯ টি পয়েন্টকে ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার অব্যাহত রেখেছে দালালরা। আর এসব পয়েন্ট পুলিশ চিহ্নিত করেছে। পুলিশের তালিকা মতে টেকনাফের শামলাপুর, শীলখালী, বড় ডেইল, জাহাজপুরা, রাজারছড়া, হাবিরছড়া, লেংগুরবিল, লম্বরী, মুন্ডার ডেইল, বাহারছড়া, কচুবনিয়া, কাটাবনিয়া, খুরেরমুখ, শাহপরীরদ্বীপ, গোলাচর, দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া, পশ্চিম পাড়া, সেন্টমার্টিন, উখিয়ার মনখালী, সোনারপাড়া, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী, নাজিরারটেক, কস্তুরাঘাট, মহেশখালীর ঘড়িভাঙ্গা, সোনাদিয়া, কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল, পেকুয়ার মগনামা ঘাট, চকরিয়ার বদরখালী, মাতামুহুরী পয়েন্ট দিয়ে মালয়েশিয়ায় মানব পাচার করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দালালরা বলেন, জনপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় মালয়েশিয়া লোক পাঠানো হয়। এক সময় ট্রলার যোগে সরাসরি থাইল্যান্ড হয়ে এসব লোক পাঠানো হলেও বর্তমানে তার দৃশ্য উল্টো। সাগরে নির্ধারিত দূরত্বে বড় জাহাজ অপেক্ষায় থাকে। আর ওই জাহাজে ট্রলার যোগে লোক পৌঁছে দিয়ে ফেরত আসছে ট্রলার সমুহ। এ ক্ষেত্রে জন প্রতি নিদিষ্ট অংকের টাকা পুলিশের নামে চাঁদা সংগ্রহ করে দিতে হয় পুলিশের সোর্সের কাছে। সাবরাং এর ইউপি মেম্বার নুর মোহাম্মদ, বাহারছড়ার এক আওয়ামী ওলামালীগ নেতা পুলিশের নামে এ টাকা সংগ্রহ করার প্রমাণও মিলেছে। আর থাইল্যান্ড ভিত্তিক চক্রের সাথে যোগযোগ করে মালয়েশিয়ায় মানব পাচারের পুরো কার্যটি নিয়ন্ত্রণ করছে টেকনাফের প্রভাবশালী ১০ ব্যক্তি। শুধু তা নয়, এ ১০ ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পাচার হওয়া মানুষকে থাইল্যান্ড জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায়ের বিষয়টিও। আর ১০ নিয়ন্ত্রণকারি হিসেবে দালালরা যাদের নাম প্রকাশ করেছে তাদের বক্তব্য রয়েছে সাবরাং এর নিপু, আকতার কামাল, শাহেদ কামাল, সাবরাং এর ইউপি মেম্বার নুর মোহাম্মদ, শাহপরীর দ্বীপের বাজার পাড়ার ধুলু হোসেন, চকরিয়ার মৃত মোজাহের কোম্পানির ছেলে জাফর আলম কোম্পানি, মুন্ডার ডেইল এলাকার আক্তার ফারুক মার্ডারার আবদুর রহমান। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় মানবপাচারকারিদের একটি তালিকা আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কাছে প্রেরণ করেছে। ওই তালিকায় এ সব গডফাদারদের নাম রয়েছে বলে একটি সূূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই তালিকায় টেকনাফ, সাবরাং, শাহপরীরদ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের ২ শতাধিক দালালের নাম রয়েছে। রয়েছে কক্সবাজার শহর, মহেশখালী ও চকরিয়া কেন্দ্রিক দালালের নামও। এর বাইরে বরগুনা, পাবনা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানের দালালের নামও রয়েছে। এব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বাবুল আকতার জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মানবপাচারকারিদের কোন তালিকা এখনো হাতে পাননি। পুলিশ মানবপাচার রোধে ব্যাপক কাজ পরিচালনা করছে। ঈদের পর বেসরকারি সংস্থাকে সাথে নিয়ে সচেতনতা মুলক কর্মসূচি, মানব পাচারকারি ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা হবে। বিজিবি’র টেকনাফস্থ ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল জাহিদ হাসান জানান, মানব পাচার বন্ধ করার ব্যাপারে বিজিবি কাজ করতে পারে না। বিজিবি সীমান্ত পাহারায় কাজ করছে। এর মধ্যে যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের আটক ও দালালের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশের কাছে সোর্পদ করে আসছে।

nassসমুদ্রপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারে সাড়ে তিন শতাধিক দালাল সক্রিয় রয়েছেন। আর এসব দালালের নিয়ন্ত্রক হিসেবে রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ১০ ব্যক্তি।

থাইল্যান্ডভিত্তিক যোগাযোগ রক্ষাকারী প্রভাবশালী এ ১০ জনের দেওয়া সময় অনুযায়ী স্থানীয় দালালরা মালয়েশিয়াগামীদের জাহাজে পৌঁছে দিচ্ছে। আর এ কাজে সরাসরি জড়িত রয়েছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা।

বাংলানিউজের ব্যাপক অনুসন্ধানে এ চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার উপকূলের ৩৯টি পয়েন্টকে ব্যবহার করে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার অব্যাহত রেখেছেন দালালরা। এসব পয়েন্ট চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

পুলিশের তালিকা মতে পয়েন্টগুলো হলো, টেকনাফের শামলাপুর, শীলখালী, বড় ডেইল, জাহাজপুরা, রাজারছড়া, হাবিরছড়া, লেংগুরবিল, লম্বরী, মুন্ডার ডেইল, বাহারছড়া, কচুবনিয়া, কাটাবনিয়া, খুরেরমুখ, শাহপরীরদ্বীপ, গোলাচর, দক্ষিণপাড়া, জালিয়াপাড়া, পশ্চিম পাড়া, সেন্টমার্টিন, উখিয়ার মনখালী, সোনাপাড়া, কক্সবাজার সদরের চৌফলদন্ডী, নাজিরারটেক, কস্তুরাঘাট, মহেশখালীর ঘড়িভাঙ্গা, সোনাদিয়া, কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল, পেকুয়ার মগনামা ঘাট, চকরিয়ার বদরখালী ও মাতামুহুরী।

সংশ্লিষ্ট দালালরা বাংলানিউজকে বলেন, জনপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় মালয়েশিয়া লোক পাঠানো হয়ে থাকে। একসময় ট্রলারযোগে সরাসরি থাইল্যান্ড হয়ে এসব লোক পাঠানো হলেও বর্তমানে অন্যভাবে পাঠানো হচ্ছে। সাগরে নির্ধারিত দূরত্বে বড় জাহাজ অপেক্ষা করতে থাকে। আর ওই জাহাজে ট্রলারে করে লোক পৌঁছে দিয়ে ফেরত আসে ট্রলার। তবে এজন্য পুলিশকে চাঁদা হিসেবে জনপ্রতি নির্দিষ্ট অংকের টাকা পুলিশের সোর্সের কাছে বুঝিয়ে দিতে হয়।

টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য নুর মোহাম্মদ ও বাহারছড়ার এক আওয়ামী ওলামালীগ নেতা বিরুদ্ধে পুলিশের নামে এ টাকা সংগ্রহ করার প্রমাণ মিলেছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, থাইল্যান্ডভিত্তিক চক্রের সঙ্গে যোগ‍াযোগ করে মালয়েশিয়ায় মানবপাচারের পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে টেকনাফের প্রভাবশালী ওই ১০ ব্যক্তি। শুধু তাই নয়, পাচার হওয়া মানুষকে থাইল্যান্ড জিম্মি করে মোটা অংকের টাকা আদায়েরও অভিযোগ রয়েছে এই ১০ জনের বিরুদ্ধে।

আদম পাচারকারী এই ১০ স্থানীয় গডফ‍াদার হলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদির ভাগ্নে ও আবদুর রহমান দারোগার ছেলে নিপু, তার চাচাতো ভাই আকতার কামাল ও শাহেদ কামাল, সাবরাং ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ, শাহপরীর দ্বীপের বাজার পাড়ার ধুলু হোসেন, চকরিয়ার মৃত মোজাহের কোম্পানির ছেলে জাফর আলম কোম্পানি, মুন্ডার ডেইল এলাকার আক্তার ফারুক ও আবদুর রহমান। বাকি তিনজনের নাম জানা সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে আসা মানবপাচারকারীদের একটি তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইন প্রয়োগকারি সংস্থার কাছে প্রেরণ করে। ওই তালিকায় এসব ব্যক্তির নাম রয়েছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

এছাড়া ওই তালিকায় টেকনাফ, সাবরাং, শাহ পরীরদ্বীপ ও সেন্টমার্টিনের দুই শতাধিক দালালের নাম রয়েছে। রয়েছে কক্সবাজার শহর, মহেশখালী ও চকরিয়া কেন্দ্রিক দালালের নামও। এর বাইরে বরগুনা, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের দালালের নামও রয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) বাবুল আকতার বাংলানিউজকে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবপাচারকারীদের কোনো তালিকা এখনো হাতে পাননি তিনি। তবে ঈদের পর বেসরকারি সংস্থাকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও পাচারকারীদের ধরতে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হবে।

বিজিবির টেকনাফস্থ ৪২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল জাহিদ হাসান বাংলানিউজকে জানান, মানবপাচার বন্ধের ব্যাপারে বিজিবি কাজ করতে পারে না। বিজিবি সীমান্ত পাহারায় কাজ করছে। তবে যাদের পাওয়া যাচ্ছে তাদের পুলিশের কাছে সোর্পদ কর‍া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জনপ্রিয় আনলাইন সংবাদ মাধ্যম বাংলানিউজের একটি অনুসন্ধানী দল মানবপাচারের ম‍ূল পয়েন্ট কক্সবাজারের টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন সরেজমিনে ঘুরে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এ সংবাদ প্রকাশের সূত্র ধরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাপক তৎপরতা শুরু করলেও পাচারকারী গডফাদাররা থামছে না। বরং পুলিশের একটি শ্রেণীকে ম্যানেজ করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় মানবপাচার অব্যাহত রেখেছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT