টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

হ‍ঠাৎ টাকা দে!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৫৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম::::baidani-sm20130802073846এক কর্মদিবসের তখন দুপুর সাড়ে ১২টা। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিলের ফুটপাত ধরে হাঁটছেন এক যুবক। হঠাৎ তাকে ঘিরে ধরলেন কয়েকজন নারী। এ সময় ১৭ থেকে ১৮ বছরের এক তরুণী তার দিকে সাপের বাক্স ধরে বলে উঠলেন- ‘টাকা দে’।   এচিত্র শুধু রাজধানীর মতিঝিল অঞ্চলেরই নয়। রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর, শাহবাগ, হাতিরপুল, ফার্মগেট, মহাখালী, গুলিস্তান, যাত্রাবাড়ী, রামপুরাসহ অধিকাংশ এলাকায় হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে এ চিত্র।   এসব এলাকার পথচারীরা অভিযোগ করেন, ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া সাধারণ মানুষকে প্রায়ই সাপের বাক্স হাতে থাকা নারীদের হয়রানির শিকার হতে হয়। আর ঈদ সামনে থাকায় এ হয়রানির মাত্রা বেড়েছে অতিরিক্ত হারে।   তারা অভিযোগ করেন, সাপের বাক্স হাতে নারীরা সাধারণ পথচারীকে এমনভাবে ধরেন, টাকা না দিয়ে তাদের হাত থেকে রেহাই পাওয়া দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।   এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, টাকা না দিলে এই নারীদের নানা আপত্তিকর কথা শুনতে হয়। আর তাদের টার্গেট যুবক ও তরুণরা।    দৈনিক বাংল‍া মোড় থেকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরের দিকে ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সময় এ নারী দলের খপ্পরে পড়েন ব্যাংক কর্মকর্তা মিলন। হঠাৎ ৬ থেকে ৭ জন নারী তাকে ঘিরে ধরেন।

এদের মধ্য থেকে অল্প বয়সী দুই তরুণী তার দিকে সাপের বাক্সসহ হাত বাড়িয়ে বলে ওঠে- ‘টাকা দে। আমাদের বিয়ের খরচের জন্য।’

তারা বলেন, ‘টাকা দে। তাহলে তুই সুখী হবি, ভালো মেয়ে পাবি। আর টাকা না দিলে তোর কপালে কোনো ভালো মেয়ে জুটবে না।’

এমন বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে মিলন কয়েকবার বেরিয়ে আসার চেষ্টা করলেও তার হাত ধরে টেনে ধরেন নারীরা। উপায়ান্তর না পেয়ে কিছু টাকা দিয়ে রেহাই পান তিনি।   গুলিস্তানের ফুটপাতের ব্যবসায়ী আনোয়ার জান‍ান, বায়তুল মোকাররম মসজিদ এলাকা, দৈনিক বাংলার মোড়, দিলকুশা ও গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় প্রতিনিয়ত সাপের বাক্স হাতে থাকা নারীদের কাছে হয়রানির শিকার হতে হয় সাধারণ পথচারীদের। তবে অন্য সময়ের তুলনায় ঈদ সামনে থাকায় বর্তমানে পথচারীদের এ হয়রানির শিকার অনেক বেড়েছে।   মালিবাগে সাপের বাক্স হাতে থাকা এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে জোছনা পরিচয় দিয়ে জানান, রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে সে ও তার দলের অন্য সদস্যরা (৮ জন) ঘুরে বেড়ান।   তারা থাকেন মেঘনা সেতুর পাশে একটি অস্থায়ী আবাসস্থলে। প্রতিদিন সকালে সেখান থেকে এখানে আসেন। সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন অঞ্চলে অর্থের যোগানে ঘুরে বেড়ান। বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দিনশেষে যা পান, তাতে প্রত্যেকের ভাগে দুইশ থেকে আড়াইশ টাকা করে থাকে।   কেন এ পেশায় নেমেছেন জানতে চাইলে জো‍ছনা বলেন, ‘আমরা বেদে। আমাদের স্থায়ী কোনো থাকার জায়গা নেই। বেদের ঘরে জন্ম নেওয়ার কারণে কেউ কোনো কাজ দেয় না। তাই, পেটের দায়ে এ পেশা বেছে নিয়েছি।’   বাংলাদেশ সময়: ১৯০৯, আগস্ট ০২, ২০১৩ এএসএস/সম্পাদনা: বেনু সূত্রধর, নিউজরুম এডিটর, আশিস বিশ্বাস, অ্যাসিস্ট্যান্ট আউটপুট এডিটর

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT