টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভূমিধসের শঙ্কা মোট জনসংখ্যার চেয়েও ১ কোটি বেশি জন্ম নিবন্ধন! বাড়তি নিবন্ধনকারীরা কারা?  বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের

হোটেল মোটেল জোনে ব্যাপক জলাবদ্ধতা, সী-গাল সড়ক দিয়ে স্বাভাবিক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৩
  • ১১৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

p-5ইমাম খাইর,কক্সবাজার। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে কক্সবাজার শহরের হোটেল মোটেল জোনে ব্যাপক জলাবদ্ধতা  সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার প্রতি সড়ক বৃষ্টির পানিতে টই টম্বুর হয়ে গেছে। বিশেষ করে হোটেল সী-গালের সড়কে অতিরিক্ত জলাবদ্ধতায় বিকল্প নদীর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে স্বাভাবিক চলাচল। এ কারণে সাধারণ পথচারীদের অবর্ণনীয় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতেকরে হোটেল মোটেল এলাকার ঐতিহ্যময় চেহারা পাল্টে গেছে।  শ্রীহীন হয়ে পড়েছে পুরো হোটেল মোটেল জোন এরিয়া।

সুত্র জানায়, ব্যবসায়ীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে কক্সবাজার পৌর মেয়র হোটেল মোটেল জোনের সড়কগুলো ২ আগষ্ট পরিদর্শন করে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর প্রকৌশলীকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু তা এখনো কার্যকর হয়নি । এতেকরে পর্যটন এলাকায় মান ক্ষুন্ন হওয়ার পাশাপাশি মানুষের দূর্ভোগ বাড়ছে। অপরিকল্পিত ড্রেনেজের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারিদিকে।

সোমবার বিকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, হোটেল মোটেল জোনের ১ নং সড়ক দিয়ে চলাচলে স্বাভাবিক অবস্থা নেই। বৃষ্টির পানি অপসারণের ব্যবস্থা না থাকায় হোটেল সী-গাল, বায়ো প্রপার্টিজ লিঃ, আগ্রাবাদ বীচ রিসোর্ট লিঃ ও রেডিসন ব্লু এর সামনে ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার পীচঢালা সড়কগুলো কাদা মাটিতে ভরপূর হয়ে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বিশেষ করে হোটেল সী-গাল এলাকায় জাল ফেলে মাছ ধরছে সাধারণ লোকজন। এ সড়ক দিয়ে গাড়ি চলচল করতে না পেরে উল্টো দিকে ফেরত যাচ্ছে। সাধারণ পথচলাও সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।

ভূক্তভোগীরা জানিয়েছে, পৌরসভার সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র রাজবিহারী দাশ ড্রেনের কাজ যথাযথভাবে না করে গোপন সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এ প্রকল্প থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অল্প টাকা ব্যয়ে তৈরী করেছেন সরু ড্রেন। এ কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি এ প্রকল্প দেখিয়ে অনেক টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পৌরবাসির।

এদিকে হোটেল মোটেল জোনে বেদখল নালা নর্দমাগুলো এখনও পৌর কর্তৃপ উদ্ধার করতে পারেনি। এতেকরে সামান্য বৃষ্টিতে শহরের ড্রেনসমূহে ব্যাপক কাদামাটি জমে থাকে। দেখা দেয় ব্যাপক জলাবদ্ধতা। সড়কের পাশ্ববর্তী ডোবা থেকে নির্গত পচা দুর্গন্ধ পরিবেশকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

তাছাড়া, হোটেল মোটেল জোন এলাকায় পয়ঃনিষ্কাশনের জায়গা না রেখে অধিকাংশে নির্মিত হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন। সড়কের কিনার ঘেঁষে গড়ে তুলেছে অবৈধ স্থাপনা। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে করুণ অবস্থা দাঁড়িয়েছে। এতেকরে স্থানীয়রাসহ আগত পর্যটকরা চরম দূর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।

ইতালি থেকে সৈকতে বেড়াতে আসা পর্যটক মি.কাফি খান জানান, তিনি বিনোদনের জন্য কক্সবাজারে বেড়াতে এসেছেন। হোটেল সী-গালে রুম নিয়েছেন। পথে পানি জমে থাকায় তিনি বেড়াতে বের হতে পারছেন না। সৈকত নগরীর এ অবস্থা জানলে তিনি কক্সবাজারে আসতেন না।

একইভাবে জাপান থেকে বেড়াতে আসা মি. মেরি দুঃখ করে জানান, কক্সবাজারে কোন কর্তৃপক্ষ নেই মনে হয়। না হলে পর্যটন এলাকার এ অবস্থা হওয়ার কথা না।

হোটেল সী-গালের প্রধান নির্বাহী পরিচালক শেখ ইমরুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, হোটেল মোটেল জোনে অবস্থিত অন্তর্জাতিক মানের হোটেলগুলোর কারণে বিশ্বদরবারে কক্সবাজারের মান অনেক বেড়েছে। পৌর করও আমরা নিয়মিত পরিশোধ করে থাকি। তাছাড়া কক্সবাজারে উন্নয়নের মূল দৃষ্টান্ত হোটেল মোটেল জোন এলাকা। এরপরও এই এলাকাকে অবহেলার কারণে পর্যটকদের নিকট কক্সবাজারের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।

হোটেল সী-গালকে সর্বোচ্চ করদাতা প্রতিষ্ঠান উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে লিখিত আবেদন দেয়া হয়েছে। এখনোও তা নিরসনে উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অথচ আমরা প্রতিবছর সরকারকে কোটি টাকা রাজস্ব দিচ্ছি। সৃষ্ট জলাবদ্ধতা নিরসন না হওয়ায় হোটেলের অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাসেম সিকদার জানান, হোটেল মোটেল থেকে কলাতলী পর্যন্ত অপরিকল্পিত ড্রেনেজের কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে অনেক ফাইভ স্টার মানের হোটেলের চলাচলের মূল সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এ কারণে হোটেল ব্যবসার মারাতœক ক্ষতি হচ্ছে।

পৌর মেয়র সরওয়ার কামাল জানান, সাবেক পৌর পরিষদের অপরিকল্পিত কাজের কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। শীঘ্রই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সড়কগুলো সংস্কার করে চলাচলের উপযুক্ত করা হবে।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT