হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদশিক্ষা

‘হেড স্যার’ নেই টেকনাফের ২৬টি প্রাইমারী স্কুলে, পদশুন্য ১১৮টি

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … (মাতৃত্ব ছুটিতে ৫ জন, চিকিৎসা ছুটিতে ২ জন, পদশুন্য ১১৮টি)
সারা দেশের মধ্যে শিক্ষার হার সর্বনিম্ম রোহিঙ্গা অধ্যুষিত সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল অবস্থা চলছে। টেকনাফ উপজেলায় প্রাইমারী স্কুলসমুহে ভর্তি হওয়া প্রায় ৪০ হাজার শিশুদের জন্য সরকারী নিয়মানুসারে শিক্ষক থাকার কথা প্রায় ১০০০ জন। সেখানে টেকনাফের ৬৪টি সরকারী প্রাইমারী স্কুলে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা মাত্র ৩৯২ জন। অনুমোদিত এই স্বল্প সংখ্যক শিক্ষকদের মধ্যেও ১১৮টি পদ শুন্য রয়েছে। তম্মধ্যে আবার রয়েছে মাতৃত্ব ছুটিতে ৫ জন, চিকিৎসা ছুটিতে ২ জন, ২৬ জন প্রধান শিক্ষকসহ পদশুন্য ১১৮টি। অনুমোদিত পদের মধ্যে ৯৪টি সহকারী শিক্ষকের পদও শুন্য রয়েছে।
টেকনাফের ৮টি সরকারী, ১৩টি নতুন জাতীয়করণকৃত এবং ৫টি ১৫০০ স্কুলসহ মোট ২৬টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই বলে জানা গেছে। এতে বিপাকে পড়েছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। আবার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ৭ শত থেকে ৮ শত। অথচ শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা মাত্র ৩ থেকে ৪ জন। প্রধান শিক্ষকবিহীন স্কুলগুলোর মধ্যে হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ৯টি, হ্নীলা ইউনিয়নে ৪টি, টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ৪টি, সাবরাং ইউনিয়নে ২টি, বাহারছড়া ইউনিয়নে ৪টি, সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউনিয়নে ১টি এবং পৌরসভায় ২টি। ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনের প্রথম স্তর অতি গুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্টান প্রাইমারী স্কুলে প্রধান শিক্ষক না থাকায় লেখা-পড়া, স্কুল পরিচালনাসহ সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরমভাবে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। এসব স্কুলগুলোতে সহকারী শিক্ষকগণ কোন রকম ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় দীর্ঘ দিন ধরে প্রধান শিক্ষক না থাকা স্কুলগুলোর মধ্যে রয়েছে ৮টি সরকারী প্রাইমারী স্কুল, ১৩টি নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারী প্রাইমারী স্কুল এবং ‘বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে ১৫০০ স্কুল স্থাপন’ (সংক্ষেপে দেড়হাজার স্কুল) প্রকল্পের ৫টি স্কুল। তাছাড়া শামলাপুর জব্বারিয়া শাহীন-শরীফ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও টেকনাফ পৌর এলাকা মেয়র হাজী ইসলাম-শাহজাহান সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এ ২টি স্কুলে মন্ত্রণালয় থেকে এখনও প্রধান শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করা হয়নি। সে হিসাবে উপজেলায় মোট ২৬টি সরকারী প্রাইমারী স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। শেষোক্ত স্কুল ২টিও চলছে ‘ভারপ্রাপ্ত’ হিসাবে সহকারী শিক্ষক দিয়ে।
উপজেলার ৩৪টি সরকারী প্রাইমারী স্কুলের মধ্যে অবসর গ্রহণ জনিত কারণে ৮টি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ শুন্য হলেও দীর্ঘ সময় ধরে তা পুরণ করা হয়নি। অপরদিকে নতুন জাতীয় করণকৃত ২৫টি স্কুলের মধ্যে ১৩টি সরকারী প্রাইমারী স্কুলে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকের অভাবে পদ গুলো পুরণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। দীর্ঘ সময় ধরে প্রধান শিক্ষক পদে সরাসরি নিয়োগ এবং পদোন্নতি বন্ধ থাকায় পদ গুলো বছরের পর বছর ধরে শুন্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রধান শিক্ষক বিহীন ৮টি সরকারী প্রাইমারী স্কুলগুলো হচ্ছে হোয়াইক্যং ইউনিয়নের কেরুনতলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দৈংগাকাটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোয়াইক্যং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গিখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শীলখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকনাফ সদর ইউনিয়নের পল্ল¬ানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের জিনজিরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, পৌরসভার টেকনাফ বার্মিজ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
১৩টি নতুন জাতীয়করণ সরকারী প্রাইমারী স্কুল হচ্ছে হোয়াইক্যংয়ের হরিখোলা শিশু কল্যাণ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী মুহাম্মদ হোছন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, উনছিপ্রাং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হোয়াইক্যং নোয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহেশখালীয়াপাড়া সরকারী বিদ্যালয়, রোজারঘোনা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, হ্নীলার আলী আকবরপাড়া সরকারী প্রাথমিক, দরগাহপাড়া সুফিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, জাদীমুরা এমআর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, টেকনাফ সদরের বড় হাবিবপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বর্ডার গার্ড সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাবরাং চান্দলীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহারছড়া নোয়াখালীয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
‘বিদ্যালয় বিহীন গ্রামে ১৫০০ স্কুল স্থাপন’ প্রকল্পের ৩টি স্কুল হচ্ছে কচুবনিয়া এমপি বদি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলীরডেইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়।
জনবহুল উপজেলার ২৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় স্কুলের শৃংখলা রক্ষা, পরিচালনা কমিটি গঠনসহ আভ্যন্তরীণ কর্মকান্ড পরিচালনায় শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল, দলাদলি থাকায় পড়ালেখায় মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি পাঠদান, শৃংখলা এবং স্কুল পরিচালনা কমিটি গঠনসহ আভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে আছে। বেশ কয়েকটি স্কুলে পরিচালনা কমিঠি ও শিক্ষকদের মধ্যে চলছে কোন্দল ও দলদলি। আর প্রধান শিক্ষক বিহীন স্কুল গুলোতে লেখাপড়ার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে বলেও অভিভাবকদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
প্রধান শিক্ষক না থাকা স্কুল সমূহে লেখাপড়ার মান দিন দিন বিঘœ হচ্ছে স্বীকার করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মাষ্টার এরশাদুর রহমান দ্রুত সময়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতির দাবী জানান।
উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার আশীষ বোস বলেন ‘প্রধান শিক্ষক নিয়োগ ও সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এ সংকট বিরাজমান রয়েছে’। টেকনাফ উপজেলার শিক্ষা অফিসার মোঃ এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলোর শিক্ষক সংকট দুরীকরণে সরকার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে ১১মে শিক্ষক নিয়োগ পরিক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। হয়ত শীঘ্রই নতুন নিয়োগকৃত শিক্ষক দিয়ে টেকনাফের বিরাজমান সংকট নিরসন হবে বলে আশা করছি’। ##

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.