টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

হালাল টাকায় ইয়াবা ব্যবসা!

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১২৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে


হালাল টাকায় ইয়াবা ব্যবসা!

মায়ানমার থেকে প্রতিদিন কেবল বাংলাদেশেই প্রায় ৩০ লাখ পিস ইয়াবা পাচার হয়। আর এ জন্য মায়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে মায়ানমারের আটটি সংগঠন গড়ে তুলেছে ৩৭টি ইয়াবা কারখানা। মুখোশধারী চোরাচালানিদের হাত দিয়ে এসব মাদক পৌঁছে যাচ্ছে দেশের অলিতে গলিতে। ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ। বাড়ছে অনাকাঙ্খিত ঘটনা। এর শিকড় অনুসন্ধানে নামে বাংলানিউজ। দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে নানা অজানা তথ্য। আজ পড়ুন নবম পর্ব।
মায়ানমার সীমান্ত থেকে (টেকনাফ, কক্সবাজার): ‘হালাল টাকা দিয়ে ইয়াবা ব্যবসা করি। এটা আবার অবৈধ হয় কেমনে? আমরা হারাম খাই না, নিজের টাকা খাটাইয়া হান্ডেড পার্সেন্ট হালাল রুজি করি’। এই বক্তব্য টেকনাফের একজন উল্লেখযোগ্য ইয়াবা ব্যবসায়ীর।   কেবল এই ব্যক্তিই নন। টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজারের অধিকাংশ ইয়াবা ব্যবসায়ী ইয়াবা আমদানি, পাচার ও এর ব্যবসাকে অবৈধ ব্যবসা হিসেবে দেখেন না। এবং প্রায় সবারই এ বিষয়ে বক্তব্য এক ও অভিন্ন।   একজন ইয়াবা ব্যবসায়ী বলেন, ‘বাপের জমি বেচা টাকা দিয়ে এ ব্যবসা করি। শতভাগ হালাল টাকার ব্যবসা। বর্মাইয়া দালালরা মংডু থেকে নিয়ে আসে। আর টেকনাফে আমরা তাদের থেকে টাকার বিনিময়ে কিনে নিয়ে ব্যবসা করি। এটা আমার কাছে অবৈধ মনে হয় না। এই দানার ব্যবসা কইরা আমরা বেকারত্ব দূর করছি। বাড়িতে ভালো ঘর করছি। দামি বাইক কিনছি। ভাইরে বিদেশে পাঠাইছি’।   ওই ব্যবসায়ী বলেন, মায়ানমার থেকে এসব ইয়াবা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কৌশলে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে দেশে ঢুকানো হয়। তবে বিভিন্ন কৌশলের আশ্রয় নিতে হয়। টেকনাফে পৌঁছানোর পর টেকনাফ থেকে কক্সবাজার হয়ে সারা দেশে বিশেষ কৌশলে ছড়িয়ে পড়ছে এই ইয়াবা।   তার মতে, সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে এই ইয়াবার ক্রয়-বিক্রয়, গ্রাহক ও চাহিদা। অতি অল্প সময়ে অনেক টাকার মালিক হওয়া যায়। আর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারিতে পড়লেও সমঝোতার মাধ্যমে সহজে ছাড়া পাওয়া যায়।   কিভাবে এ ব্যবসা পরিচালনা করেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন সায়েন্সের যুগ। একবার হ্যালো করলেই তো হয়ে যায়। মোবাইল ফোনে সহজে কথা বলে আন্ডারগ্রাউন্ডের ব্যবসায়ীদের রকমভেদে দাম নির্ধারণ করা হয়। দাম-দর ঠিক হলে পাচারকারীর মাধ্যমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়া শুরু করি। ইয়াবা কখন পৌঁছাবে, এখন কোন জায়গায়, কোন সমস্যা হয়েছে কি না ইত্যাদির বিষয়ে মোবাইলে কথা বলে নিই। তবে এক নাম্বার আমরা বেশি দিন রাখি না। বার বার ফোন নাম্বার চেঞ্জ করি।   অনেক সময় মোবাইলে রুপক অর্থ ব্যবহার করেন বলে জানান এই ইয়াবা ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, কথা বলার সময় যদি অপরিচিত মানুষের সামনে পড়ে যাই তখন ইয়াবাকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করি। অনেক সময় বিভিন্ন সংকেতও ব্যবহার করি। যেমন ইয়াবার দাম ও আকার নির্ধারণ করতে বলি বড় ভাই কতো, ছোট ভাই কতো বলে।   অন্য একজন বলেন, যদি কেউ অপরাধ করে থাকেন তবে তারা প্রশাসনের লোক ও সরকারের এমপি মন্ত্রীরা।   তিনি বলেন, টেকনাফে ব্যবসা করতে হলে প্রত্যেককেই পুলিশ, বিজিবি. কোস্টগার্ড, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরকে টাকা দিতে হয়। এই টাকার ভাগ নেন গোয়েন্দা সংস্থার লোকরাও।   স্থানীয় রাজনীতিবিদদের এজেন্টরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা তোলেন। এরপরও আমাদেরকে অবৈধ মাদক ব্যবসায়ী বলা হয় বলে তিনি আক্ষেপ করেন।   অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, ইয়াবা ব্যবসা অবৈধ হলে এতো ইয়াবা আসে কেন? তাছাড়া যেসব ইয়াবা ধরা পড়ে সেগুলোইবা কি ভাবে আবার ব্যবসায়ীরা পান?   স্কুল শিক্ষক আব্দুল মোতালেব বলেন, এই ব্যবসা একটি ঘৃণিত ব্যবসা হলেও এখানকার ব্যবসায়ীদের কেউ এটাকে খারাপ ব্যবসা হিসেবেই দেখতে চান না।   এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, প্রশাসনের দুর্নীতি ও জেগে জেগে ঘুমানোর কারণে মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, এটা খারাপ ব্যবসা হলে প্রশাসন টাকার বিনিময়ে ছাড় দিতো না।   একজন বেসরকারি কর্মকর্তা বলেন, কক্সবাজার প্রশাসন টাকা কামানোর কারখানা। যে কারণে টাকা কামাতে এখানে বদলি পেতে প্রশাসনে নিলামের ব্যবস্থা হয়। কে কার চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে ইয়াবা রুটে বদলি পাবেন তার প্রতিযোগিতা চলে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT