হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদ

হাতিয়ারঘুনা বসতবাড়িতে ডাকাতি, ১০ গ্রামের মানুষ ডাকাত আতংকে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … ডাকাত আতংকে নির্ঘুম রাত কাটানো টেকনাফের সেই ১০ গ্রামের ১টিতে ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অস্ত্রধারী মুখোশপরা ডাকাত দল টেকনাফ সদর ইউনিয়নের হাতিয়ারঘুনা গ্রামে দরগাহছড়া ব্রীজ সংলগ্ন মৃত ছৈয়দুর রহমানের পুত্র আবদুল জব্বারের বসত বাড়িতে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে বাড়িতে থাকা মহিলাদের জিম্মী করে নগদ দেড় লক্ষাধিক টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়। ডাকাতি ঘটনার পর পরই খবর পেয়ে টেকনাফ মডেল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মশিউর রহমান সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় টেকনাফ-কক্সবাজার মেরীন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন মিঠাপানিরছড়া এনজিও সংস্থা ব্রাকের পরিত্যক্ত কোরাল হ্যাচারীতে অস্ত্রধারী ডাকাত দলের আতœগোপন করার খবর ছড়িয়ে পড়লে ডাকাত কবলিত ১০টি গ্রামের মসজিদের মাইক থেকে এলাকাবাসীকে সতর্ক করা হয়। এতে পাশাপাশি ১০টি গ্রামের মানুষ ক্ষীপ্ত হয়ে উঠে। এসময় হাজার হাজার বিক্ষুদ্ধ জনতা কোরাল হ্যাচারী ঘেরাও করে রাখে। খবর পেয়ে রাত ৮টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক টিম এবং বিজিবির টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুলিশ-বিজিবি ব্রাকের পরিত্যক্ত কোরাল হ্যাচারীতে অস্ত্রধারী ডাকাত দলকে পাকড়াও করতে সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করে। কিন্ত এলাকাবাসী ঘেরাও করার আগেই মাইকের প্রচার শুণে ডাকাতরা স্থান ত্যাগ করে মৃত ছৈয়দুর রহমানের পুত্র আবদুল জব্বারের বসত বাড়িতে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে বাড়িতে থাকা মহিলাদের জিম্মী করে নগদ দেড় লক্ষাধিক টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুটপাট করে। ডাকাত ধরতে না পারলেও পুলিশের তড়িৎ ও সাহসী অভিযানে এলাকাবাসী সন্তষ্টি প্রকাশ করে ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ধন্যবাদ জানিয়েছে।
অপরদিকে ডাকাত আতংকে ১০ গ্রামের মানুষের রাত কাটছে নির্ঘুমে। নিরস্ত্র হওয়ায় পাহারা দিয়েও কোন কুলকিনারা পাওয়া যাচ্ছেনা। আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ঘন ঘন ডাকাতির ঘটনায় এলাকার মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। লোকালয়ের অতি নিকটে জঙ্গলে অস্ত্রধারী শতাধিক ডাকাতের অবস্থান নিয়ে পুরো এলাকার মানুষ চরমভাবে আতংকিত হয়ে পড়েছে। এলাকাবাসী পাহাড়ে আতœগোপনে থাকা ডাকাতদের ধরতে আইন শৃংখলা বাহিনীর যৌথ অভিযানসহ জরুরী হস্তক্ষেপ দাবী করেছেন। বর্ষার আগে অবস্থার উন্নতি না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে বলে এলাবাসী আশংকা প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের রাজারছড়া, হাবিরছড়া, মিঠাপানিরছড়া, দরগাহরছড়া, হাতিয়ারঘুনা, জাহালিয়াপাড়া, মাঠপাড়া, লেঙ্গুরবিল, লম্বরীসহ ১০টি গ্রামে চলছে ডাকাত আতংক। প্রায় প্রতি রাতেই ঘটেছে আইনশৃংখলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে ঘন ঘন ডাকাতির ঘটনা। কালো পোষাকে মুখোশ পরা ডাকাতরা র‌্যাব ও পুলিশের পরিচয় দিয়ে অভিযানের নামে বাড়ি ঢুকে লুটে নিয়ে যাচ্ছে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুল্যবান মালামাল। ডাকাতি করতে এসে ডাকাতরা গুলি বর্ষনও করছে।
হাবিরছড়া ও হাতিয়ারঘুনা গ্রামের লোকালয়ের অতি নিকটে জঙ্গলে অস্ত্রধারী শতাধিক ডাকাতের আস্তানা রয়েছে। যা সকলেই জানে। এরা জঙ্গলে ঝুপড়ি ঘর তৈরী করে অবস্থান করছে। রাতে শুরু হয় ডাকাতি। কোন কাঠুরিয়া জঙ্গলে গেলে বেঁধে রেখে মুক্তিপণ আদায় করে।
১৩ মার্চ রাত সাড়ে ১২টায় হাবিরছড়া গ্রামের বাসিন্দা সউদী আরব প্রবাসী সৈয়দ কাসেমের বাড়িতে ডাকাত দল হানা দেয়। এরা ছিল কালো পোষাকে মুখোশ পরা অস্ত্রধারী ডাকাত। অভিযানের নামে পুলিশের পরিচয় দিয়ে দরজা খুলতে বলে। সরল বিশ^াসে দরজা খুলে দিলে অস্ত্রের মুখে মহিলাদের জিম্মী করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পওে জানতে পারে এরা পুলিশের লোক নয়, ডাকাত। খবর পেয়ে পুরো এলাকার মসজিদের মাইকে ডাকাতির ঘটনা প্রচার করে সতর্ক করা হয়। ফেরার সময় নিরস্ত্র পাহারাদারের মুখোমুখী হলে ডাকাতরা ফাঁকা গুলি বর্ষন করে পাহাড়ের দিকে চলে যায়। ১০ মার্চ রাতে একইভাবে মোঃ নুরের বাড়িতেও ডাকাতি হয়েছে। এর আগে মিঠাপানিরছড়া গ্রামের ওমর হামজার পুত্র হাফেজ আবদুল করিম ও বদিউর রহমানের পুত্র আবদুল আমিনের বাড়িতে একই কায়দায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। প্রত্যেক বারই কালো পোষাকে মুখোশ পরা ডাকাতরা র‌্যাব ও পুলিশের পরিচয় দিয়ে অভিযানের নামে বাড়ি ঢুকে লুটে নিয়েছে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুল্যবান মালামাল।
গত ১০ মার্চ টেকনাফ স্টেশনে হোটেল দ্বীপপ্লাজার সামনে অনুষ্টিত হয়েছিল মাদক বিরোধী আলোচনা সভা। এতে টেকনাফ মডেল থানার ওসি ছাড়াও কক্সবাজার পুলিশ সুপার উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় ডাতাতের জ¦ালাতনে অতিষ্ট ও আতংকিত গ্রামবাসী বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে যথাযথ হস্তক্ষেপ কামনা এবং পাহারদার নিয়োগের তালিকা হস্তান্তর করেছিল।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘পুলিশ সব সময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে। এতে আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই। পাহাড় থেকে ডাকাত নামার খবর শোনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত ডাকাতির শিকার কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেনি। এখন থেকে উক্ত স্থানে পুলিশের একটি টিম সার্বক্ষণিক অবস্থান করবে। তাছাড়া এলাকাবাসীর দাবী মতে পাহাড়ে অবস্থানকারী দুর্বৃত্তদের আটক করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীরা কোন অবস্থাতেই ছাড় পাবেনা’। ##

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.