টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

হাইকোর্টে রামু ট্রাজেডির পুলিশ প্রতিবেদন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৯ নভেম্বর, ২০১২
  • ১২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মাহমুদুল আলম : কক্সবাজারের রামুর বৌদ্ধবিহার ও বসতিতে হামলার ঘটনায় পুলিশের তদন্ত কমিটি তখনকার ওসির গাফিলতি খুঁজে পেয়েছেন। কমিটির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব উপলব্ধিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন কক্সবাজারের সে সময়ের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং পুলিশ সুপার (এসপি)। রামুর ঘটনার পর চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে থাকাবস্থায় মোহাম্মদ জয়নুল বারীকে (ঘটনার সময়কার জেলা প্রশাসক) ওএসডি করা হয়। সম্প্রতি প্রত্যাহার করা হয়েছে পুলিশ সুপার সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে। এবং ওসি একে নজিবুল ইসলামকে ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যেই প্রত্যাহার করা হয়।

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রামুতে সংঘটিত ঘটনার তদন্তে পুলিশের ৩ সদস্যের কমিটির প্রতিবেদন গত বুধবার হাইকোর্টে জমা দেয়া হয়। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক মো. নওশের আলী ওই কমিটির প্রধান ছিলেন। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ-সংক্রান্ত রিট আবেদনকারী ড. ইউনুস আলী আকন্দ ওই প্রতিবেদনের অনুলিপি হাতে পেয়ে তা গণমাধ্যমকেও সরবরাহ করেছেন।

রামুতে ঘটনা শুনার পর ব্যবস্থা নিতে দেরি ছিল না দাবি করে পুলিশ প্রধানের প্রতিবেদন হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে দাখিলের ২০ দিন পর নতুন এই প্রতিবেদন এলো ভিন্ন বেঞ্চে। পৃথক দুই আবেদনে হাইকোর্টের দুটি বেঞ্চ গত ৩ অক্টোবর রামুর বিষয়ে আলাদা রুল জারি করেছিল, তাতে কিছু অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনাও ছিল। নতুন এই প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার সময় কক্সবাজারের সার্কিট হাউসে জেলা প্রশাসকের বিদায়ী অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সব কর্মকর্তা ছিলেন। জেলা প্রশাসক সংবাদ পাওয়ার পরও এ ধরনের স্পর্শকাতর এবং ভয়াবহ জটিল পরিস্থিতির চূড়ান্ত পরিণতি অনুধাবন করতে না পারায় তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যাননি এবং ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তাকেও পাঠাননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ সুপার সেলিম জাহাঙ্গীরের কাক্সিক্ষত জনসংযোগ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়, কোরআন শরিফ অবমাননার বিষয়টির গুরুত্ব ও চূড়ান্ত পরিণতি কোন পর্যায়ে যেতে পারে, তা অনুধাবনে মুন্সীয়ানার পরিচয় দিতে পারেননি তিনি। তাই তিনি সঠিক সময়ে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করেননি এবং যথাসময়ে ঘটনাস্থলেও উপস্থিত হননি।

তদন্ত কমিটির সদস্যরা জেনেছেন, পুলিশ সুপার রাত ১০টায় ঘটনা শোনেন। তিনি প্রথম দফায় ১০ জন এবং পরবর্তী সময়ে দুই দফায় মোট ৩০ জনের বাহিনী পাঠিয়েছিলেন। ধ্বংসাত্মক ঘটনা চলাকালে তারা (বাহিনী) রামুতে উপস্থিত হলেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেননি। এর আগে হাইকোর্টের অন্য একটি বেঞ্চে গত ১৭ অক্টোবর দাখিল করা প্রতিবেদনে পুলিশ প্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার জানিয়েছিলেন, রামুতে বুদ্ধ মন্দির ও বসতিতে হামলার খবর পাওয়া মাত্রই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের পদক্ষেপ নেয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে ওই রাতে রামুতে বুদ্ধ মন্দির ও ঘরবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ধর্মীয় উগ্রপন্থীরা। রাতে একটি মিছিল থেকে উত্তেজনার সূত্রপাত। পরে হাজারেরও বেশি মানুষ ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ-লুটপাটে অংশ নেয়।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজিবুল ইসলামের বিষয়ে তদন্ত কমিটি বলেছে, ওই ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য দিয়ে অবহিত না করায় সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গাফিলতির পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে বিধিবদ্ধ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। ওই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা উদ্ঘাটনে তদন্ত কমিটি মোট ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

রামুতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন-সম্পদের সুরক্ষায় কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তা প্রতিবেদন আকারে দিতে একটি রিট আবেদনে পুলিশ মহাপরিদর্শককে গত ৩ অক্টোবর নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও রামুর বাসিন্দা জ্যোতির্ময় বড়-য়ার আবেদনে ওই নির্দেশের পর বুধবার বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। পুলিশ প্রধানের পক্ষে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (আইন) মো. মিজানুর রহমানের তৈরি করা এ প্রতিবেদন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আল আমিন সরকার আদালতে দাখিল করেন।

আইজিপির প্রতিবেদনে বলা হয়, কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কাছে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়ার পর অবিলম্বে পুলিশের মহাপরিদর্শক ঘটনাস্থল বিশেষ করে রামুতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করেন। ওই এলাকায় যথাযথ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি সরকারের অন্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে হাসান মাহমুদ খন্দকার কখন খবর পেয়েছিলেন, তা প্রতিবেদনের কোথাও বলা হয়নি।

রামুতে হামলা ঠেকাতে পুলিশ প্রশাসন ব্যর্থ ছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সময়মতো তৎপর হলে ঘটনা এত বড় হতে পারত না। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠার পর রামু থানার তৎকালীন ওসি নজিবুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT