টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা সবচেয়ে বড় ভুল : ডা. জাফরুল্লাহ মাদক কারবারি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত সাংবাদিক আব্দুর রহমানের উদ্দেশ্যে কিছু কথা! ভারী বৃষ্টির সতর্কতা, ভূমিধসের শঙ্কা মোট জনসংখ্যার চেয়েও ১ কোটি বেশি জন্ম নিবন্ধন! বাড়তি নিবন্ধনকারীরা কারা?  বাহারছড়া শামলাপুর নয়াপাড়া গ্রামের “হাইসাওয়া” প্রকল্পের মাধ্যমে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ ও বার্তা প্রদান প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর উদ্বোধন উপলক্ষে টেকনাফে ইউএনও’র প্রেস ব্রিফ্রিং টেকনাফের ফাহাদ অস্ট্রেলিয়ায় গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রী সম্পন্ন করেছে নিখোঁজের ৮ দিন পর বাসায় ফিরলেন ত্ব-হা মিয়ানমারে পিডিএফ-সেনাবাহিনী ব্যাপক সংঘর্ষ ২শ’ বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস বিল গেটসের মেয়ের জামাই কে এই মুসলিম তরুণ নাসের

টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আসন্ন কোরবানী ঈদও পূজাকে সামনে রেখে মিয়ানমারে পন্য পাচারের মহাধুম :স্থলবন্দরের উপর বিরুপ প্রভাব পড়ার আশংখা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১২৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

নুর হাকিম আনোয়ার,টেকনাফ::::2কোরবানী ঈদ ও পূজাকে সামনে রেখে মিয়ানমারে পন্য পাচার শুরু করছে চোরকারবারীরা।  আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের দূর্গা পূজা উৎসব উপল্েয টেকনাফ সীমান্ত থেকে হাজার কোটি টাকার পন্য চোরাচালানী বানিজ্যের কর্মসূচী বাস্তবায়নে চোরাচালানী চক্র তৎপর হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যেই চোরাকারাকারী পাচার কাজে মাঠে নেমে পড়েছে বলে বিভিন্ন মহল সূত্র থেকে জানা গেছে। আইন শৃংখলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা যায়, ৯০ শতকের পর থেকেই মতাসীন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের কিছুলোকের পৃষ্ঠপোষকতায় চলে আসছে এ চোরাচালানী কার্যক্রম। মূলত সে কারনেই আইন শৃংখলা বাহিনীর পে যথাযথ ভাবে চোরাচালান প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়না । চলতি প্রান্তিকের চলমান চোরাচালানী কার্যক্রমের পিছনেও আছে শক্তিশালী রাজনৈতিক গডফাদারের ছত্রচ্ছায়া। হাজার কোটি টাকার চোরাই বানিজ্যের আওতায় দেশীয় চোরাচালানের তালিকায় রয়েছে সুখী ট্যাবলেট, ইনজেকশন বিভিন্ন ধরণের ঔষধ, তৈল, সার, মাছ, নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী, কাচাঁ তরকারী, শুকনো খাবার, হেরোইন, ফেন্সিডিল, গাঁজা, সেমাই, মসল্লা, থান কাপড়, কসমেটিকস আইটেম ইত্যাদি সীমান্ত পথে পাচার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা গেছে -চোরাচালানের তালিকায় সুবিধা মত গম, চিনি, গুড়, পিয়াজ, রশুন আদার মত নিত্যপন্য ও প্রতিনিয়ত বাংলাদেশ ঢোঁকানো হচ্ছে  মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেট, সুপারী, ক্যালসিয়াম, আচার, লুঙ্গি, গামছা, তিল, সুপারী, চুলসহ কোটি কোটি টাকা মূল্যের মালামাল মিয়ানমার থেকে আসছে। অন্যদিকে চোরাই পণ্যের বিনিময়ে বাংলাদেশ থেকে উন্নতমানের ইউরিয়া ও টিএসপি সার, কাঁসা-পিতলের মতো মূল্যবান ধাতবদ্রব্য পাচার হচ্ছে মিয়ানমারে। অতি সম্প্রতি মিয়ানমারে ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় বিনিময় মূল্য চাড়া ও ডলার পাচার করা হচ্ছে সংগত কারনেই এর ফলে দেশের অর্থনীতি চরম তিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যাপকভাবে বলে জানিয়েছেন সীমান্ত বানিজ্যের সাথে জড়িত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কালোবাজারী জানান, টেকনাফ সীমান্তবর্তী শাহপরীরদ্বীপ, নয়াপাড়া, সাবরাং, নাজিরপাড়া, চকবাজার, হাঙ্গার ডেইল, জালিয়াপাড়া, লামারবাজার,নাইট্যংপাড়া কেরুণতলী, বরইতলী,দমদমিয়া, জাদিমুরা, মোচনী, লেদা,আলীখালী, রঙ্গিখালী,নাটমোরাপাড়া, হ্নীলা, ওয়াব্রাং, মৌলভীবাজার, খারাংখালী, নয়াবাজার, মিনাবাজার, নয়াপাড়া, উনছিপ্রাং, হোয়াইক্যং এলাকায় দিয়ে নৌ-পথে  এসব পন্য পাচার হয়।  উল্লেখ্য, নয়াপাড়া, কায়ুকখালী খাল, জাদিমুরা দিয়ে সবচেয়ে বেশি মালামাল যা মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই এই সীমান্তের নাফ নদীর তীর থেকে মিয়ানমারে পৌছানো যায়। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে টেকনাফ সীমান্তে গড়ে উঠেছে ৫০/৬০ টি চোরাচালান সিন্ডিকেট। এরকম বহুবিধ সুবিধার কারণে আসন্ন ঈদুল আযহার বাজার পুরোপুরি দখলে রাখতে দেদারসে এই সীমান্ত পথে পাচার হয়ে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকা মূল্যের রকমারী দেশীয় পন্য। টেকনাফের ব্যবসায়ীরা সীমান্তের চোরাচালান সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের বাছাই করা পন্য সামগ্রী টেলিফোনে অর্ডার পাওয়া মাত্রই মিয়ানমারে পাঠাচ্ছে। চোরাচালান সিন্ডিকেট কমিশনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার পন্যের চালান বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। তা হাতে পাওয়ার পরে মিয়ানমারের ব্যবসায়ীরা হুন্ডির মাধ্যমে বাংলাদেশী মহাজন/মাড়োয়ারদের মূল্য পরিশোধ করে থাকে। আর মিয়ানমারে মালামাল নিরাপদে পন্য পৌছানোর পরে টাকা পরিশোধ করতে হয় বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের। ফলে মিয়ানমারের পন্য কিনে বেশী লাভ ও তির ভয় না থাকায় বাংলাদেশী বড় বড় ব্যবসায়ীরা কম মূল্যের চাকচিক্যময় মিয়ানমারের পন্য কেনার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ফলে প্রতিদিন টেকনাফ সীমান্তের পথে কোটি কোটি টাকার উন্নতমানের কাপড় বাংলাদেশের ভিতরে প্রবেশ করছে। আরো বড় বড় চালান বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও চোরাকারবারীদের পণ্য সামগ্রী বহনের শ্রমিকেরা জানিয়েছে। এছাড়াও টেকনাফ সীমান্ত পথে মিয়ানমারে ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় ময়দা, সুজি, ছোলা, বুট, দারুচিনি, লবঙ্গ, এলাচী, জিরা, মরিচ, গুড়া মসলা, আতর, সেণ্ট, সেভিং ক্রীম, সেভিং লোশন, বডি লোশন, হাড়ি, কড়াই, প্লেট, গ্লাস, মগ, জগ, বালতি, গামলা, রেডিও টেলিভিশনের যন্ত্রাংশ, সাইকেল, মটর সাইকেল ও তার যন্ত্রাংশ, বাস ট্রাকের ইজ্ঞিন ও যন্ত্রাংশ, ঘর ওয়ারিং সহ বৈদ্যুতিক ও সেনেটারী সামগ্রী, সপিং ও পলিথিন ব্যাগ, ফেনসিডিল সহ নানা প্রকার মাদক দ্রব্য পাচার হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা পর থেকে শুরু করে সারারাত উল্লেখিত সীমান্ত দিয়ে এসব মিয়ানমারের পন্য আনার কাজ চলছে। মিয়ানমারের লুন্ঠিন বাহিনীর সাপ্তাহিক চুক্তিতে ডুপ্লিকেট চাবি দিয়ে তারকাটার বেড়ার গেট খুলে এবং নাফ নদী সীমান্তে নৌকাযোগে এসব নিন্মমানের পন্য পাচারে সহায়তা করছে। সম্প্রতি বর্ষা শুরু হওয়ায় দিনের বেলায়ও চোরাচালানের কাজ চলছে বেশ পুরোদমে। চোরাচালানীরা এসব পন্য আটক করা হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন ও বিজিবির কাছে  গ্রামের দোকানে বিক্রি করার বাহনা দিয়ে মিয়ানমারে অভ্যন্তরে পাচার করে দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে বিজিবি‘র ৪২ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর শফিকুর রহমান বলেন,  সীমান্ত গ্রামবাসীদের অনেকেই চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পাহারায় থাকার পরও অনেকেেত্র  চোরাচালানি পণ্য আটক সম্ভব হয় না। বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ টাকা নিয়ে পাচারে সহযোগিতার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, প্রায় প্রতিদিনই সফল অভিযান পরিচালনা করার ফলে ইয়াবা, ক্যারেন্টজাল, মদ ও কাপড় সামগ্রী আটক করছে এবং সীমান্ত প্রহরী বিজিবি চোরাচালান প্রতিরোধে সদা সর্বদা তৎপর রয়েছে। অপরদিকে টেকনাফ স্থল বন্দরের ১০ কিলোমিটারের ভিতর চোরাচালানের তৎপরতা অব্যাহত থাকার ফলে টেকনাফ স্থল বন্দরের রাজস্ব আয়ের বিরাট ধরণের ধস নেমেছে। অভিঞ্জ মহলের মতে সীমান্তের চোরাচালান প্রতিরোধে এগিয়ে  না আসলে অদূর ভবিষ্যতে টেকনাফ স্থল বন্দর আমদানী রপ্তানীর উপর বিরুপ প্রভাব পড়বে।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT