টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ প্রশাসনে তিন লাখ ৮০ হাজার পদ শূন্য গোদারবিলের জামালিদা ও নাইট্যংপাড়ার ফয়েজ ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ গ্রেপ্তার পরীমনির কান্না অথবা নিখোঁজ ইসলামি বক্তা এসএসসি-এইচএসসির পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি দেখে : শিক্ষামন্ত্রী টেকনাফে পাহাড় ধ্বসে ৩৩ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ট্রাজেডি আজ পড়ে আছে বিলাসবহুল বাড়ি,নেই দাবিদার শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ লম্বাবিলে বাস—সিএনজির মুখোমুখী সংঘর্ষে রোহিঙ্গাসহ ২ জন নিহত

আজ দূর্গা’র বিসর্জন

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৩
  • ১২৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
Puja-sm3

পাঁচদিন শারদীয় দুর্গোৎসবের দশমী সোমবার। এদিন সকালে দুর্গাদেবীর যথা বিহিত পূজা শেষে ভক্তবৃন্দের চোখের জল ফেলার পালা। কেননা মা এদিন মর্ত্য ছেড়ে কৈলাস যাত্রার প্রস্তুতি।
বছরান্তে আশ্বিন-কার্তিকের পঞ্চমী থেকে দশমী তিথির পাঁচটি দিবস `জগজ্জননী` উমা দেবীর পিতৃগৃহ ঘুরে যাওয়া। পাঁচ দিনের শারদ উত্সব শেষ হল ১৪ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে।
ঢাকায় বিকেলে বুড়িগঙ্গায় দেবী বিসর্জন দেওয়া হবে। তার আগে রাজধানীর অধিকাংশ প্রতিমা নিয়ে ঢাকেশ্বরী থেকে মিছিল বের করা হবে। মিছিল শেষে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে বুড়িগঙ্গায়।
দুর্গাপূজা এক সময় শুধুমাত্র সীমাবদ্ধ ছিল পুরান ঢাকার কোতোয়ালি এলাকায়। বিগত কয়েক বছর ধরে পুরো ঢাকায় পূজার আয়োজন হচ্ছে মহাসমারোহে।
শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ আশ্রম, মিরপুর কেন্দ্রীয় মন্দির, ধানমন্ডি সর্বজনীন পূজা কমিটি, গুলশান বনানী সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, কলাবাগান সর্বজনীন পূজা উত্সব, রমনা কালীমন্দির, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে ও ব্যক্তিগতভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে উত্সবমুখর পরিবেশে।
আলোকসজ্জা আর নানা কারুকার্যে সজ্জিত হয়ে ওঠে প্রতিটি মণ্ডপ। গত ৫ বছর ধরে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীর বাসিন্দারা এবারও বনানী খেলার মাঠে জাঁকজমকভাবে পূজার আয়োজন করেন গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা উত্সবের ব্যানারে।
এ বছর সারাদেশে ২৯ হাজারের বেশি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হয়েছে। ঢাকা মহানগরে এ বছর পূজা মন্ডপের সংখ্যা ২১২টি। গতবছর এ সংখ্যা ছিলো ২০২টি।
মহানগরের চকবাজারে ৫টি, লালবাগে ৫টি, হাজারীবাগে ৯টি, কোতয়ালীতে ২১টি, বংশালে ২টি, সূত্রাপুরে ২৩টি, ওয়ারীতে ১৪টি, গেন্ডারিয়ায় ১৪টি, কদমতলীতে ৭টি, শ্যামপুরে ৬টি, ডেমরায় ১০টি, যাত্রাবাড়ীতে ৬টি, সবুজবাগ-শাহাজাহানপুরে ৬টি, মুগদায় ৪টি, মতিঝিলে ১টি, রামপুরায় ১টি, খিলগাঁওয়ে ৩টি, বাড্ডায় ৯টি, ভাটারায় ৪টি, গুলশান-বনানীতে ৮টি, খিলক্ষেতে ৩টি, তেজগাঁওতে ৪টি, শেরেবাংলা নগরে ৩টি, শাহবাগে ২টি, রমনায় ১টি, ধানমন্ডিতে ১টি, মোহাম্মদপুরে ৮টি, মিরপুরে ২টি, দারুসসালামে ৮টি, শাহ আলীতে ১টি, পল্লবীতে ৪টি, কাফরুলে ১টি, উত্তরখানে ১টি, দক্ষিণখানে ১টি, উত্তরায় ২টি, বিমানবন্দরে ১টি এবং তুরাগ থানায় ১১টি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশ, আনসার, র্যাবসহ অন্যান্য আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি প্রায় প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী দায়িত্ব পালন করেন।
সোমবার বিজয়া দশমী। আসছে বছর আবার এসো-এ ভারাক্রান্ত মিনতি রেখে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোত্সব। আবার সমগ্র পক্ষটি দেবীপক্ষ।
দেবীপক্ষের সূচনা হয় পূর্ববর্তী অমাবস্যার দিন; এই দিনটি মহালয়া। অন্যদিকে দেবীপক্ষের সমাপ্তি পঞ্চদশ দিন পূর্ণিমায়; এই দিনটি কোজাগরী পূর্ণিমা নামে পরিচিত ও বার্ষিক লক্ষ্মীপূজার দিন। দুর্গাপূজা মূলত পাঁচদিনের অনুষ্ঠান হলেও মহালয়া থেকেই প্রকৃত উত্সবের সূচনা ও কোজাগরী লক্ষ্মীপূজায় তার সমাপ্তি।
প্রতি বছর দুর্গতি নাশিনী দুর্গা মায়ের পূজা অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনায় উদযাপন করা হয়। সবাই দুর্গা মাকে আহ্বান করে বলে – ‘মাগো, তুমি আমাদের দুর্গতি নাশ করে দাও, আমাদের মানসপটে লালিত-পালিত হিংসা বিদ্বেষ-হানাহানি দূর করে দাও। আমাদের শক্তি দাও, আমাদের শান্তি দাও’।
পৌরাণিক মতে, দুর্গাদেবী হলেন ব্রহ্মার মানস কন্যা। যখন সংসারে অসুরের রাজত্ব চলছিল, চারদিকে অসুরের জয়, অসুরের দাপটে মানবকূল, মানবকূল ত্রাহি ত্রাহি করছিল, অসুর তাদের আসুরিক বৃত্তি দ্বারা সবার স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল, শান্তি-সমৃদ্ধি তার হিংসার আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল।
সেই আগুনে পুড়ে যাচ্ছিল মানুষের ভাল গুণ বা মানবীয় সত্ত্বা। তখন দেবী দুর্গাকে সৃজন করে ব্রহ্মা তাকে সর্বশক্তিতে ভরপুর করে অসুর বিনাশের জন্য মর্ত্যে প্রেরণ করেছিলেন। তখন দুর্গা দেবী তার দিব্যশক্তির দ্বারা আসুরী শক্তি বা অপশক্তিকে (অসুরকে) পরাভূত করে পুন:শান্তির জন্য সমর্থ হয়েছিলেন।
এ ঘটনাকে ভিত্তি করে সেই যুগ যুগ ধরে চলে আসছে দুর্গা মায়ের মৃন্ময়ী মূর্তিতে চিন্ময়ী মূর্তির আরাধনা। এটিকে কেন্দ্র করেই প্রথম থেকে পাক-ভারত উপমহাদেশের তান্ত্রিক গোষ্ঠির সদস্যগণ পালন করে আসছে এই শারদীয় দুর্গোৎসব যা অবশেষে সনাতন হিন্দু  র্ধমাবলম্বীরা বিশেষ করে  বাংলাভাষা ভাষী ও বাংলা অঞ্চলের হিন্দুরা ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান হিসেবে করে যাচ্ছেন।
এবার ঢাকা শহরের টিকাটুলীর সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ প্রাঙ্গণে দখো গয়িছেে এক ভিন্নধর্মী আয়োজন ‘চৈতন্য দুর্গোৎসব’। এখানে দুর্গার মৃন্ময়ী মূর্তির জায়গায় ছলি চৈতন্য বা চিন্ময়ী মূর্তি। এখানে দেখা গছেে একাডেমীর ছাত্রছাত্রীরা ধ্যানস্থ অবস্থায় দুর্গা, লক্ষী, সরস্বতী, কার্তিক, গণেশ, অসুরের ভূমিকায় আছে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT