টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফ সমিতি ইউএই’র নতুন কমিটি গঠিতঃ ড. সালাম সভাপতি -শাহ জাহান সম্পাদক বৌ পেটানো ঠিক মনে করেন এখানকার ৮৩ শতাংশ নারী ইউপি চেয়ারম্যান হলেন তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু টেকনাফে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারের আর্তনাদ: সওতুলহেরা সোসাইটির ত্রান বিতরণ করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর বিধি, জনসমাবেশ সীমিত করার সুপারিশ হেফাজত মহাসচিব লাইফ সাপোর্টে জাদিমোরার রফিক ৫ কোটি টাকার আইসসহ গ্রেপ্তার মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ: বিপাকে করিডোর ব্যবসায়ীরা টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা বাহারছরা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা

‘সেফগার্ড’ চায় পুলিশ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০১৭
  • ৬৯ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন বাতিল দাবি করেছে পুলিশ। শান্তি, স্থিতি ও দেশের নিরাপত্তায় পুলিশের কর্মস্পৃহা বাড়ানোর লক্ষ্যে এ আইন বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে পুলিশ বাহিনী। বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়, ফৌজদারি কার্যবিধিসহ প্রচলিত অন্যান্য আইন দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যকে ‘সেফগার্ড’ প্রদান করেছে। তবে এ আইন পুলিশের অধিকার খর্ব করেছে। গতকাল সোমবার পুলিশ সপ্তাহ-২০১৭-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর কল্যাণ প্যারেডে বাহিনীর পক্ষ থেকে এ দাবি তোলা হয়। প্রথমবারের মতো রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত এ প্যারেডে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
নির্যাতন এবং অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক অথবা অমর্যাদাকর আচরণ অথবা শাস্তির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ সনদের কার্যকারিতার জন্য এ আইন করা হয়। পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের শিকার আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ২০০৯ সালে জাতীয় সংসদে বেসরকারি বিল হিসেবে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) বিল উত্থাপন করেছিলেন। যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৩ সালে বিলটি সংসদে পাস হয়। এদিকে, গত নভেম্বরে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিনা পরোয়ানায় (৫৪ ধারা) আটক ও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের (১৬৭ ধারা) ক্ষেত্রে ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন উচ্চ আদালত।  ২০১৩ সালে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন প্রণয়নের পর ২০১৫ সালে পুলিশের পক্ষ থেকে আইনের ১৪টি ধারা ও উপধারা সংশোধন চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। প্রস্তাবে আইনের সাতটি ধারা বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি একটি নতুন ধারা সংযুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। আইন প্রণয়নের চার বছর পর শেষ পর্যন্ত আইনটি বাতিলের দাবি করা হলো। বিশিষ্ট আইনজ্ঞ অ্যাডভোকেট শাহ্দীন মালিক সমকালকে বলেন, সংবিধান বা যে কোনো আন্তর্জাতিক আইনে রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করা বড় অপরাধ। পুলিশ নির্যাতনের লাইসেন্স চাইছে। আইনের মাধ্যমে নির্যাতন কমানোর লক্ষ্যে রশি টেনে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল। কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরনের আইন বাতিল চাইতে পারে না।
পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হকের সভাপতিত্বে প্রথমবার অনুষ্ঠিত কল্যাণ প্যারেডে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নানা দাবি-দাওয়া তুলে ধরা হয়। কল্যাণ প্যারেডে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পুলিশ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করছে। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গিবাদ মোকাবেলা করছে। সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে গিয়ে তারা হকচকিত হয়নি। জনগণও জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করছে। পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেন, প্রথমবারের মতো পুলিশের সব পর্যায়ের সদস্যকে নিয়ে কল্যাণ প্যারেড হলো। এটা পুলিশ বাহিনীর ইতিহাসে অত্যন্ত স্মরণীয় দিন। আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশের উন্নয়নে নানা উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করেছে। জনবল বাড়ানো ছাড়াও বিভিন্ন বিশেষ ইউনিট গঠন করা হয়েছে। পুলিশের জন্য বাজেট বাড়ানো হয়েছে। পুলিশ অনুগত শৃঙ্খলা বাহিনী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে। সন্ত্রাস নির্মূলে অবিরাম সংগ্রামরত একটি অনুগত ও সুশৃঙ্খল বাহিনীর প্রধান হতে পেরে তিনি খুশি। অধিকাংশ পুলিশ সদস্য দিনে ১৬ ঘণ্টার বেশি দায়িত্ব পালন করেন।  কুমিল্লা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর সালেহীন বলেন, ‘পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন বা মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার বিধান রেখে নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন করা হয়েছে। আইনটিতে নির্যাতনের সংজ্ঞায় মানসিক কষ্টকে নির্যাতন বলা হলেও তা নির্ধারণের কোনো মানদণ্ড না থাকায় যে কেউ এ আইনে পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করার সুযোগ পাচ্ছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এক রায়ে পুলিশের বিরুদ্ধে যে কোনো নির্যাতনের অভিযোগ তদন্ত ছাড়া আবশ্যিকভাবে এ আইনের অধীনে তদন্ত কর্মকর্তা, অফিসার ইনচার্জ বা কমান্ডিং অফিসারের বিরুদ্ধে ‘সুয়োমোটো’ মামলা নেওয়ার জন্য জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এ আইনে একাধিক থানার ওসিসহ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে।’ কল্যাণ প্যারেডে শান্তি, স্থিতি ও দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় পরীক্ষিত পুলিশের কর্মস্পৃহা বাড়াতে এ আইন বাতিলে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়। কল্যাণ প্যারেডে ঝিনাইদহে কর্মরত সার্জেন্ট মশিউর রহমান বলেন, থানা ও ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা নেই। পুলিশের কার্যালয় ও আবাসন সমস্যাও রয়েছে। কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত ডরমিটরি নেই। আবাসন ও পুলিশের স্থাপনার জন্য জায়গা বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। উপ-পরিদর্শক সুজন কুমার কুণ্ডু বলেন, পুলিশে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ পোষ্য কোটা রয়েছে। একইভাবে এসআই ও সার্জেন্ট পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ১০ ভাগ কোটা ব্যবস্থার দাবি করেন তিনি। পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, অনেক সময় দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা গুরুতর আহত হন। তাদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ হাসপাতালের অনেক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। পুলিশ হাসপাতালের জন্য সরাসরি চিকিৎসক নিয়োগের সুযোগ ও রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ১০টি আইসিইউ ও বিভাগীয় পর্যায়ে ১৫০ শয্যা এবং জেলায় ৫০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান তিনি। সহকারী পুলিশ সুপার তাপস রঞ্জন ঘোষ বলেন, পুলিশে ২৮৯টি নতুন সার্কেল করা হয়েছে। নতুন নতুন ইউনিট হচ্ছে। তবে থানা ও তদন্ত কেন্দ্রের জন্য জমির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  এ ছাড়া একজন নারী কনস্টেবল বলেন, বছরে পুলিশে দুই সেট ইউনিফর্ম বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা যথেষ্ট নয়। বছরে তিন সেট পোশাক দেওয়ার দাবি জানান তিনি। সবার বক্তব্য শোনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্য শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে প্রথমবার রাজারবাগ এসে দেখেছি, এ এলাকায় জরাজীর্ণ দশা ছিল। একসময় রাজারবাগে প্যারেড গ্রাউন্ড ছিল না। বসবাসের জন্য ভালো ব্যবস্থা ছিল না। আমার কাছে কেউ দাবি জানায়নি। নিজ থেকে রাজারবাগে প্যারেড গ্রাউন্ড তৈরিসহ অনেক উন্নয়ন করেছি। আগে পুলিশের কথা শুনলেই এ দেশের মানুষ খারাপ দৃষ্টিতে দেখত। আমরা এ দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে কাজ করেছি।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে থানা ও পুলিশের অন্যান্য স্থাপনা জরাজীর্ণ। একসময় দায়িত্ব পালনের জন্য ভালো যানবাহনও ছিল না। ঘটঘট শব্দ করে লক্কড়ঝক্কড় গাড়ি নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই অপরাধী পালিয়ে যেত। পুলিশ বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে আওয়ামী লীগ সরকার নানা উদ্যোগ নিয়ে তা বাস্তবায়ন করছে। এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন পোশাক পরে দায়িত্ব পালনে বছরে চার সেট পোশাক দেওয়ার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ঢাকায় আরেকটি পুলিশ ব্যারাক প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, পুলিশ যদি আরও সক্রিয় হয়, আমাদের অর্থনীতির আরও উন্নতি হবে। দেশের সব সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসায় পুলিশের জন্য আলাদা বেড রাখা হবে। অস্ত্র রাখার কোতের উন্নয়ন, পুলিশের স্থাপনা নির্মাণের জন্য ভবন তৈরির জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, পুলিশ অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তাদের কাজে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও আনন্দিত।  প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে কেউ পুলিশের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করলে তার বিরুদ্ধে শাস্তির সুযোগ আইনে রয়েছে। মিথ্যা মামলা করলে আপনারা তদন্ত করুন। কাজ করলে মানুষের ভুল হতেই পারে। তবে পুলিশের হাত-পা বেঁধে দিলে তারা কাজ করবে কীভাবে? শেখ হাসিনা বলেন, ‘জিয়া, এরশাদ ও খালেদা বাংলাদেশকে একটা ভিক্ষুকের জাতি হিসেবে বিদেশের কাছে নিয়ে যেত; কিন্তু বাঙালি করুণার পাত্র নয়। তারা বীরের জাতি। নিজস্ব অর্থায়নে আমরা পদ্মা সেতু করছি।’

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT