টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সেন্টমার্টিন দখল করে নিচ্ছে রোহিঙ্গারা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

ফরিদুল মোস্তফা খান, কক্সবাজার …
দেশের নারিকেল জিঞ্জিরা নামে খ্যাত কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রতি এবার বদ নজর ফেলেছে রোহিঙ্গারা। জেলার প্রতিটি অঞ্চল গিলে রোহিঙ্গারা এবার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সেন্টমার্টিন দ্বীপকে টার্গেট করে সেখানে বসবাস শুরু করে দিয়েছে। ইতিমধ্যে ছোট এ এলাকার প্রতিটি লোকালয়ে রোহিঙ্গাদের অবস্থান আশংকাজনক হারে বাড়ছে।
মিয়ানমারে দফায় দফায় দাঙ্গার পর সীমান্তে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে রোহিঙ্গারা অনুপ্রবেশ করতে পারেনি তেমন। সীমান্তের এমন কড়াকড়ির কারণে রোহিঙ্গারা নিজ দেশ থেকে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেয় সেন্টমার্টিন দ্বীপে। বর্তমানে রোহিঙ্গারা এ সেন্টমার্টিনকে নিজেদের একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে বেছে নিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই এখানে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঘটছে। সেন্টমার্টিন আওয়ামী লীগের নেতা স্থানীয় বাসিন্দা মুজিবুর রহমান জানান, মিয়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর ব্যাপকভাবে সেন্টমার্টিনে রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঘটে। এখনও অনেক রোহিঙ্গা কোন কোন জায়গায় আশ্রিত আছে এবং প্রতিদিন অনুপ্রবেশও ঘটছে ব্যাপক হারে। তিনি জানান, রোহিঙ্গারা যাতে এখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে না পারে সে জন্য তারা স্থানীয়ভাবে কাজ করছেন বলে জানান। সেন্টমার্টিন পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা রহিম মিয়া জানান, সেন্টমার্টিনের পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়া, কুনাপাড়া, মাঝিরপাড়া, ডেইলপাড়া, গলাচিপাপাড়াসহ এ এলাকার সবপাড়ায় এখন রোহিঙ্গাদের আস্তানা গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া সমুদ্রের তীরে গাছপালার আড়ালে তারা বসবাস করার জন্য ঘরবাড়ি গড়ে তুলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেন্টমার্টিন দ্বীপের অপর এক বাসিন্দা জানান, কিছু কিছু নামধারী প্রভাবশালী মহল মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতিমধ্যে এ প্রভাবশালীরা তাদের নির্মিত বিভিন্ন হোটেল-কটেজ ভাড়া দিয়েছে রোহিঙ্গাদের। এ ছাড়া এসব নেতা মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের আসতে উদ্বুদ্ধ করছে সেন্টমার্টিনে তাদের জন্য নিরাপদ স্থানের নিশ্চিয়তা দিয়ে। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আমিন জানান, বর্তমানে সেন্টমার্টিনে আসা পর্যটকদের আইডি কার্ড চেক করে দেখা হচ্ছে, যাতে রোহিঙ্গা শনাক্ত করা যায়। এ ছাড়া কোস্টগার্ড ও পরিষদের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবক নিয়মিত রোহিঙ্গা প্রতিরোধে কাজ করছে বলে জানান এ স্থানীয় চেয়ারম্যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সেন্টমার্টিন দ্বীপের মোট জনসংখ্যা প্রায় ৬ হাজার। বর্তমানে এ জনসংখ্যা রোহিঙ্গাসহ সাড়ে ৮ হাজারে দাঁড়িয়েছে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোহিঙ্গা ভিক্ষুর এবং শিশুদের কারণে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে যাওয়া পর্যটকরা হয়রানির শিকার হন। সেন্টমার্টিন দ্বীপকে রোহিঙ্গামুক্ত করার জন্য জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে সচেতন মহল।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT