সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাতযাপন নিষিদ্ধ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ১১:৫৫ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং দেশী-বিদেশী পর্যটক ভিআইপি ও ভিভিআইপিসহ শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষার দোহাই দিয়ে দ্বীপে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সদয় দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন সেন্টমার্টিনদ্বীপ ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ।
এপ্রসঙ্গে ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বব্যাপী ‘মানবতার মা’ হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। আমাদের প্রাণের দাবি মমতাময়ী মায়ের কাছেই। আমি সরকারের সিদ্ধান্ত এবং মন্ত্রীর ঘোষণাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলতে চাই দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ১ হাজার ৩৫৪ পরিবারের সাড়ে ১০ হাজারেরও বেশী মানুষ বসবাস করে। ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৩০৪ জন। আবাসিক হোটেল আছে ৮৪টি। দ্বীপের বাসিন্দারা এমনিতেই গরীব। উপরন্ত দ্বীপবাসীর ৮০ ভাগেরও বেশী লোকের আয়ের উৎসই হচ্ছে পর্যটক কেন্দ্রীক। সেন্টমার্টিনদ্বীপে মানুষ বসবাস করবে, পর্যটক যাতায়ত করবে কিন্ত হোটেল থাকবেনা এবং পর্যটকরা রাত যাপন করতে পারবেনা তা বাস্তবায়িত হলে দ্বীপের বাসিন্দাগণ চরম আর্থিক দুর্ভোগের সম্মুখীন হবে। দ্বীপের অসহায় গরীব মানুষের দুঃখ-দুর্দশা বেড়ে যাবে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার আগে অবশ্যই আবশ্যিকভাবে দ্বীপবাসীর জন্য যথাউপযুক্ত বিকল্প আয়ের উৎস এবং কর্মসংস্থান ঠিক করতে হবে’।
উল্লেখ্য, দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ এবং দেশী-বিদেশী পর্যটক ভিআইপি ও ভিভিআইপিসহ শিক্ষার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় পর্যটন দ্বীপ সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় সেখানে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তিনি বলেছেন সব পরিকল্পনা শেষ। কিছুদিনের মধ্যেই এটি কার্যকর করা হবে। রবিবার ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এ ঘোষণার প্রেক্ষিতে দ্বীপবাসীসহ স্থানীয় সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আবার অনেকে সরকারী এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানিয়েছেন।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশ দূষণে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বছরে এদেশে আর্থিক ক্ষতি হয় ৫২ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বে যেসব মানুষ মারা যান তার ১৬ শতাংশই মারা যান পরিবেশ দূষণের কারণে। যেখানে বাংলাদেশে এ হার প্রায় দুই গুণ। দেশটিতে পরিবেশ দূষণের কারণে মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ।
আনিসুল ইসলাম বলেন, ‘পরিবেশ দূষণ আমাদের কাছে নতুন কিছু নয়। বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ নদীর পাশে গেলে এটি আরও পরিষ্কার হয়। তারপরও আমরা পরিবেশ রক্ষার চেষ্টা করছি। পরিবেশ রক্ষায় সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হবে। একইসঙ্গে দখলকৃত সব জমি উদ্ধারে কাজ করা হচ্ছে। বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির বিরুদ্ধে ৬০০ মামলা করা হয়েছে। যেগুলো চলমান। পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে সামনের সংসদ অধিবেশনে নতুন পরিবেশ আইন উঠছে। তাছাড়া গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো যেন নদী দূষণ করতে না পারে এজন্য নজরদারি হচ্ছে। বুড়িগঙ্গাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি কারখানা সাভারে স্থানান্তর করা হয়েছে’।
অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার বলেন, ‘পরিবেশ দূষণের কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫২ হাজার ১৬০ কোটি টাকার লোকসান হয়। যা জিডিপির ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। বাংলাদেশে বছরে যেসব মানুষ মারা যান তার ২৮ শতাংশই পরিবেশ দূষণের কারণে। পরিবেশ দূষণে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ২০১৫ সালে বাংলাদেশের শহর অঞ্চলে ৮০ হাজার মানুষ পরিবেশ দূষণের কারণে মারা যান’। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনজুরুল হান্নান খান, বিশ্ব ব্যাংকের প্রোগ্রাম লিডার সঞ্জয় শ্রীবান্ত প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ##


সর্বশেষ সংবাদ