হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপর্যটনপ্রচ্ছদবিশেষ সংবাদ

সেন্টমার্টিনদ্বীপে ফুল দিয়ে পর্যটক বরণ

 

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করার প্রথম দিন ১৩ নভেম্বর দুপুরে ফুল দিয়ে পর্যটকদের বরণ করেছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ। এসময় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও দ্বীপের ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, পর্যটন মৌসুম শুরু হলেও রাখাইনে সহিংসতা ও রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার ১৩ নভেম্বর থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল শুরু হয়। ৩০৪ পর্যটক নিয়ে সোমবার সকাল ১০টায় দমদমিয়া জেটি ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ রওয়ানা করে। পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারী সিন্দাবাদ সেন্টমার্টিনদ্বীপে পৌঁছলে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নুর আহমদ ফুল দিয়ে পর্যটকদের বরণ করেন।
এদিকে প্রতিবছর অক্টোবর মাস থেকে পর্যটন মৌসুম শুরু হলে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ঢল নামে। কিন্তু চলতি বছর মিয়ানমারে সহিংসতা শুরু হওয়ায় নিরাপত্তা জনিত কারণে কর্তৃপক্ষ জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেয়নি। কারণ হিসাবে জানা গেছে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে জাহাজগুলো মোহনায় নাব্যতা সংকটের কারণে মিয়ানমার জলসীমা দিয়ে চলাচল করতে হয়।
টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথের অভিজাত পর্যটকবাহী জাহাজ কেয়ারি সিন্দাবাদ টেকনাফের ব্যবস্থাপক মো. শাহ আলম জানান উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়া সম্পন্নের পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক জাহাজ চলাচলে অনুমতি দিয়েছেন। বৈরী আবহাওয়া ও রোহিঙ্গা ইস্যুসহ বিভিন্ন অজুহাতে প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় পর্যটক মৌসুম শুরু হলেও জাহাজ চলাচল বন্ধ ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচলের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ায় এই রুটে পর্যটকবাহী চলাচলে অনুমতি দিয়েছে নৌ-মন্ত্রণালয়। নৌ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসনও অনুমতি দিয়েছে। এতে সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ চলাচলে আর কোনো বাধা রইলনা। তিনি আরও জানান, টেকনাফের দমদমিয়া ঘাট হয়ে নিয়মিত পথেই জাহাজগুলো চলাচল করবে। দীর্ঘদিন জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় হোটেল-মোটেল কর্মচারী এবং পর্যটক সংশ্লিষ্টরা আর্থিক অভাবে দিনাতিপাত করছিল। অবশেষে অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচলের সংবাদ পেয়ে আনন্দিত হয়েছেন সেন্টমার্টিনদ্বীপের বাসিন্দাগণ।
অপরদিকে দীর্ঘদিন জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ী ও সেন্টমার্টিনদ্বীপের ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হয়েছে। তবুও অবশেষে জাহাজ চলাচল করায় তাদের মধ্যে খুশির আমেজ চলছে। এরুটে প্রতিবছর পর্যটন মৌসুমে ৬ থেকে ৭ টি জাহাজ নিয়মিত চলাচল করে এবং লক্ষ লক্ষ পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমন করেন। সোমবার শুধুমাত্র একটি জাহাজ ছেড়ে গেলেও পর্যায়ক্রমে আরও জাহাজ যোগ হবে।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন ‘জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাওয়ায় সেন্টমার্টিনবাসীর মধ্যে স্বস্থি ফিরে এসেছে। সেন্টমার্টিনের অধিকাংশ মানুষের জীবিকা পর্যটক নির্ভর। দীর্ঘ প্রায় দেড় মাস জাহাজ চলাচল না করায় দের্শ-বিদেশী অসংখ্য পর্যটক দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি সরকার প্রচুর রাজস্ব হারিয়েছে। এতদিন জাহাজ চলাচল বন্দ থাকায় সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অবশেষে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলে ভুমিকা পালনকারী সকলকে বিশেষতঃ এমপি, ডিসি, টুয়াক, স্থানীয় প্রশাসন, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, নৌবাহিনীসহ সকলকে দ্বীপবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি’। ##

 

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.