হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

সেনাবাহিনী-আরসা যুদ্ধ প্রত্যাবাসনে ব্যাঘাত ঘটাবে না: মিয়ানমারের জেনারেল

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও আরসা (আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি)-এর মধ্যকার লড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারবে না বলে দাবি করেছেন দেশটির এক সেনা জেনারেল। জ মিন তুন নামের ওই ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিয়ানমার সেনাবাহিনীর জনসংযোগ শাখা ট্রু নিউজ ইনফরমেশন টিম-এর সেক্রেটারি। সরাসরি রোহিঙ্গাদের নাম উচ্চারণ না করে এ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে ‘রাখাইন রাজ্য ত্যাগকারী’দের প্রত্যাবাসন বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। ইলেভেন মিয়ানমারে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মিয়ানমারের সেনা সদস্য

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর রাখাইনে পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ। পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরিয়ে নিতে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার প্রত্যাবাসন চুক্তি সম্পন্ন হয়। গত বছরের ৬ জুন নেপিদোতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার ও জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর মধ্যেও সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে নানা জটিলতায় এখন পর্যন্ত প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় একজন রোহিঙ্গাকেও ফিরিয়ে নেয়নি মিয়ানমার।

আবার রাখাইনের সশস্ত্র সংগঠন আরসার সঙ্গেও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর লড়াই অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ গত ৪ জুন মংডুতে আরসার ১০ সদস্যের সঙ্গে সেনাবাহিনীর নতুন করে সংঘর্ষ হয়েছে। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবি, তারা প্রত্যাবাসনের জন্য প্রস্তুত। আরসার সঙ্গে লড়াই চলমান থাকলেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ব্যাঘাত ঘটবে না।

মিযানমারের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ মিন তুন বলেন, ‘তাদেরকে (রাখাইন ছেড়ে যাওয়াদের) আবারও গ্রহণ করতে আমরা পরিকল্পনা করেছি। প্রক্রিয়া অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। আমরা শিবির স্থাপনের কাজও শেষ করেছি। লড়াইয়ের কারণে এ প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে না। তবে বরাবরের মতো অপর পক্ষ একে অনিরাপত্তাজনিত কারণ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারে।’

সীমান্ত নিরাপত্তা প্রশ্নে জ মিন তুন বলেন, সেনা সদস্যদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে সীমান্তরক্ষী পুলিশ বাহিনী সেখানে কাজ করছে। ‘নিরাপত্তা অভিযানের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করছে। তাছাড়া জেলা ও শহর প্রশাসন কর্তৃপক্ষ এবং অন্য সংগঠনগুলো আমাদেরকে সহযোগিতা করছে।’ বলেন তুন।

সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের নিয়ে আসিয়ানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট টিম’-এর তৈরি করা একটি প্রতিবেদন ফাঁস হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, দুই বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থাকা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ৫ লাখ মানুষকে ফিরিয়ে নেবে মিয়ানমার। প্রতিবেদনটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের পক্ষ থেকে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। সংস্থাটির মিয়ানমার বিষয়ক গবেষক লরা হাই ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন,আসিয়ানের প্রতিবেদন সেনাবাহিনীর নিপীড়নের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হওয়া,এখনও রাখাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের ভয়াবহ দুরাবস্থা এবং সেখানকার জাতিগত সশস্ত্র সংঘাতের ব্যাপকতাকে হাজির করতে ব্যর্থ হয়েছে। রাখাইনে আরাকান বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর চলমান যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে অ্যামনেস্টির গত সপ্তাহের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নতুন ‘যুদ্ধাপরাধ’র অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘এমন বাস্তবতায় সেখানে [৫ লাখ রোহিঙ্গার] নিরাপদ-স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের চিন্তা হাস্যকর’ বলেছেন লরা হাই।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.