টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
রোহিঙ্গাদের এনআইডি কেলেঙ্কারি : নির্বাচন কমিশনের পরিচালকের বিরুদ্ধে দুপুরে মামলা, বিকালে দুদক কর্মকর্তা বদলি সড়কের কাজ শেষ হতে না হতেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং! আপনি বুদ্ধিমান কি না জেনে নিন ৫ লক্ষণে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশি ভোটার: নিবন্ধিত রোহিঙ্গাও ভোটার! ইসি পরিচালকসহ ১১ জন আসামি হ’ত্যার পর মায়ের মাংস খায় ছেলে ব্যাংকে লেনদেন এখন সাড়ে ৩টা পর্যন্ত আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত লকডাউন বাড়ল মডেল মসজিদগুলোয় যোগ্য আলেম নিয়োগের পরামর্শ র্যাবের জালে ধরা পড়লেন টেকনাফ সাংবাদিক ফোরামের সদস্য ও ইয়াবা কারবারি বিপুল পরিমাণ টাকা ও ইয়াবা উদ্ধার রোহিঙ্গাদের তথ্য মিয়ানমারে পাচার করছে জাতিসংঘ: এইচআরডব্লিউ

সীমান্তে স্থল মাইন বসিয়েছে মিয়ানমার : জনগণের মাঝে ক্ষোভ আতংক

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১৪৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

Pic-1-300x273

রফিকুল ইসলাম: ::::আন্তর্জাতিক সীমানা আইন লংঘ করে এবং বাংলাদেশের জোরালো আপত্তি স্বত্বেও মিয়ানমার বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে একাধিক পয়েন্টে স্থল মাইন স্থাপন করেছে। স্থল মাইন বি¯েফারণে ইতিমধ্যে ৫ জন হতাহত হয়েছে। মারা গেছে অনেক বন্য জীব-জন্তু। স্থল মাইন স্থাপনে বাংলাদেশ উদ্বেগ অপসারণের দাবী জানানোর পরেও মিয়ানমার এ গুলো অপসারণ করছেনা। সীমান্ত এলাকার উভয় দেশের জনগণের মাঝে এই নিয়ে ক্ষোভ ও আতংক বিরাজ করছে। স্থানীয় গ্রামবাসী ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলের মাঝামাঝি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ মিয়ানমার সীমান্তের মিয়ানমার অংশে সে দেশের সেনাবাহিনী ও নাসাকা অসংখ্য স্থানে বিচ্ছিন্ন ভাবে বেশ কিছু স্থল মাইন বসায়। বাংলাদেশের ৩৫নং থেকে ৬৩নং সীমান্ত পিলার পর্যন্ত পাহাড়ী ও ঘন জঙ্গল বেষ্টিত এলাকা সমূহে বিস্ফোরক দ্রব্য ও মাইন বসানো হয়। বিশেষ করে ৩৭, ৩৮, ৩৯ ও ৪০নং সীমানা পিলারের ১৫০ থেকে ২০০ ফুট অভ্যন্তরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এসব মাইন বসিয়েছে সেনা সহযোগীতায় তৎকালীন সীমান্ত রক্ষায় নিয়োজিত নাসাকা বাহিনী। এপ্রিল থেকে আগষ্ট পর্যন্ত সময়ে সীমান্তের উক্ত অংশে মাইন বিস্ফোরণে মিয়ানমারের এক নাগরিক নিহত সহ ৪ জন গুরুতর আহত ও অনেক বন্য জীবজন্তু এবং ০২টি গবাদি পশু (গরু ও ছাগল) মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখিত সীমান্ত এলাকা সংলগ্ন উভয় দেশের লোকজনের বসবাস রয়েছে। গত কয়েকদিন পুর্বে ৩৭-৩৮নং পিলারের মাঝামাঝি বাইশপারি পাহাড়ী জঙ্গল এলাকায় মিয়ানমারের টংব্র“ রাইট এলাকার নূর মোহাম্মদ (৩৪) এক রোহিঙ্গা মাইন বিস্ফোরনে গুরুতর আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তে মাইন বসানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাংলাদেশী গ্রামবাসীরা উদ্বিগ্ন ও আতংকিত। সীমান্তের আমতলী মগপাড়ার তোয়াইচ চিং কারবারি, জলপাই তলী এলাকার বাদশা মিয়া, সব্বির আহমদ, তুমব্র“ এলাকার মোহাম্মদ হোছন, মাষ্টার জহির বলেন সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা হয়ে আমাদের সর্বদা আতংকে থাকতে হয়। অনেক লোক বিভিন্ন কারণে অবৈধ ভাবে সীমান্ত পেরিয়ে এপার ওপার যাথায়াত করে থাকে। ভূল পথ দিয়ে যাথায়াতে প্রাণ নাশ ঘটতে পারে। আমরা সীমান্তে বসানো মাইন অপসারণের দাবী করছি। আন্তর্জাতিক সীমানা আইন অনুযায়ী উভয় দেশের সীমান্তে কোনরূপ বিশৃংখলা ও উত্তেজনা ছাড়া প্রতিপক্ষকে না জানিয়ে সীমান্তের মিয়ানমার তাদের অংশে যত্রতত্র মাইন বসাতে পারে না বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য মাইন মাটির নিচে পুঁতে রাখা এক ধরণের শক্তিশালী ¯িপ্রন্টার বিস্ফোরক। যা ঐ পথ দিয়ে যাথাযাতকারী শত্র“পক্ষকে ধ্বংস করতে বিশেষ সহায়ক। বিশেষ করে যুদ্ধের সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নিদ্দিষ্ট স্থান ও যথাযাত পথে এসব মাইন বসানো হয়। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই কক্সবাজারে বিজিবি ও নাসাকা’র সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠকে সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পুঁতা মাইন সহ সবধরণের বিস্ফোরক দ্রব্য অসারণে দু’দেশ নিজ নিজ উদ্যোগে কাজ করার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। কক্সবাজারস্থ ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খালিদ হাসান বলেন সীমান্তে তাদের এলাকায় কোন মাইন বসানোর নিদ্দিষ্ট তথ্য নেই। মাইন বিস্ফোরণের হতাহতের খবরও সঠিক নয়। নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ মেহেদী হাসান বলেন সীমান্তের ৩৫ থেকে ৬৩নং পিলার এলাকার কিছু কিছু অংশে বিচ্ছিন্ন ভাবে আই.ডি. জাতীয় বিস্ফোরক বসানো হয় চলতি বছরের শুরুর দিকে। এসব বিস্ফোরক অপসারণে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের নিকট একাধিকবার প্রতিবাদ পত্র ও নিয়মিত পত্র যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে স্থাপিত মাইন অপসারণের নির্ভরযোগ্য খবর পাওয়া যায়নি। কারণ হিসেবে যেটি অনুধাবন করা হচ্ছে গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ সীমান্তের বিপরীতে নিয়োজিত সে দেশের সীমান্ত রক্ষী নাসাকার স্থলে নতুন ভাবে লুনথিন বাহিনী মোতায়ন করা হয়েছে। নতুন বাহিনীর উপর সেই দেশের কর্তৃপক্ষের কি নির্দেশনা তা এখনো স্পষ্ট হয়নি। তবে মিয়ানমার কি কারণে সীমান্তে মাইন বসিয়েছে তা জানা সম্ভব না হলেও সে দেশের অসমর্থিত সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইন প্রদেশে মুসলিম রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের মাঝে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় উত্তেজনাকে কাজে লাগাতে জঙ্গি সন্ত্রাসী ও সে দেশের বিদ্রোহীরা যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সে জন্য গোপনে সীমান্তে কিছু কিছু অংশে এসব মাইন বসানো হয়েছে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ধারনা বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের একাংশ বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ করে রাখাইন প্রদেশে চুরি, ডাকাতি সহ বিভিন্ন ধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। অনুপ্রবেশকারী সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে মাইন বসানো হতে পারে বলে প্রতীয়মান করা হচ্ছে। জানা গেছে, গত জুন মাসে পররাষ্ট্র সচিবের মিয়ানমার সফর কালে প্রতিপক্ষের সাথে বৈঠকে সীমান্ত এলাকায় মাইন বসানোর ব্যাপারে আলোচনা হয়েছিল। এ সময় সীমান্তের শূণ্য লাইন এলাকায় নতুন করে আর কোন মাইন না বসাতে এবং পূর্বে বসানো মাইন অপসারণের জন্য মিয়ানমারকে জোরালো ভাবে জানানো হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ঐ বৈঠকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ সীমান্ত এলাকায় আর কোন মাইন না বসানোর প্রতিশ্র“তি দিলেও আগে স্থাপিত মাইন গুলো তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়নি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সীমান্তের জিরো লাইন বা নো-ম্যান্স ল্যান্ড থেকে ১৫০ গজের ভিতরে কোন স্থাপনা নির্মাণ বা অন্য কোন স্থাপন করা যাবেনা। কিন্তু মিয়ানমার তা লঙ্গন করে বার বার সীমান্তের নো-ম্যান্স ল্যান্ডে মাইন পুঁতে থাকে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে নো-ম্যান্স ল্যান্ডে পুঁতা মাইনের আঘাতে অসংখ্য বাংলাদেশী কাটুরিয়া, বন্যপ্রাণী ও গবাদি পশু হতাহতের ঘটনা ঘটে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT