টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সীমান্তবর্তী টেকনাফে পাচারের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারে ৩৭টি কারখানায় ১৩ ধরনের ইয়াবা উৎপাদন হয়

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট, ২০১৩
  • ১৩১ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

yaba-ctn-300x25211বাংলাদেশে পাচারের উদ্দেশ্যে মিয়ানমারের রাখাইন ও শিন প্রদেশের ৩৭টি কারখানায় ১৩ ধরনের ইয়াবা উৎপাদন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এইসব কারখানার বিস্তারিত তথ্য মিয়ানমার সরকারকে দিলেও তারা কোন ব্যবস্থা নেয়নি।বিজিবি ও মাদ্কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ২০১১ সালে প্রথমবারের মত ৩৭টি কারখানার তালিকা মিয়ানমার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, দুই দেশের মাদ্কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠক ও বিজিবি-নাসাকার পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পৃথক পৃথকভাবে এসব তালিকা দেওয়া হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানিয়েছে, তালিকা হস্তান্তরের পরও কোন ব্যবস্থা নেয়নি মিয়ানমার সরকার।মিয়ানমার  সীমান্তবর্তী টেকনাফে কর্মরত বিজিবি’র ৪২ ব্যাটেলিয়ান (অপারেশন) অফিসার ক্যাপ্টেন এইচ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, সরকারি পর্যায়ে তালিকা দেওয়া ছাড়াও সেই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে প্রতিটি পতাকা বৈঠকে এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানানো হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কিনা তা আমাদেরকে জানায়নি।

ক্যাপ্টেন কামরুল আরো বলেন, “মিয়ানমারের চারটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ১৫টি স্থান দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবা বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। সে তালিকাও তাদের দেয়া হয়েছে।”“আমাদের কাছে যে তথ্য আছে তাতেও প্রমাণ হয় ইয়াবা কারখানা বন্ধের ব্যাপারে প্রতিবেশি দেশের সরকার কোন ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেয়নি,” উল্লেখ করেন তিনি।

৩৭টি কারখানা বিজিবি ও মাদ্রকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রগুলো জানিয়েছে, ৩৭টি ইয়াবা কারখানার সবগুলোই বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন ও শীন প্রদেশে অবস্থিত। এরমধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি কারাখানা রাখাইন প্রদেশের মংডুর কাছাকাছি কাকাং মংটং ও তাচিলেকে অবস্থিত। এই দুটি কারাখানা পরিচালিত হয় ইউডাব্লিউএসএ’র (ইউনাইটেড ওয়া স্টেট আর্মি) নামে।

বিজিবির ৪২ ব্যাটেলিয়নের অপারেশন অফিসার এইচ কামরুল হাসান জানিয়েছেন, বড় সাতটি কারখানা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী লোকালয়ের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত। বেশিরভাগ কারখানা পাহাড়ি এলাকায় হলেও বিভিন্ন জনবসতিতে ছোট ছোট কিছু কারাখানা গড়ে উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১০-১১ সালেই ৩৭ কারখানার তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিলো। বর্তমানে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক কারখানা সীমান্তের কাছাকাছি কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। আগে রাখাইন প্রদেশ থেকে ইয়াবা আসলেও এখন উত্তর মিয়ানমারের শীন প্রদেশ থেকেও বাংলাদেশ এই মরন নেশা আসছে।

সূত্র আরো জানিয়েছে, বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের সাথে মিয়ানমারের পঞ্চাশ ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা গেছে। এরমধ্যে বড় চারটি সিন্ডিকেটই মংডূ শহরকেন্দ্রিক। তিনজন রোহিঙ্গা ও একজন রাখাইন মিলে সিন্ডিকেটগুলো পরিচালনা করছে।

এছাড়া থাইল্যান্ড ও লাওসের সীমান্তবর্তী ইউডাব্লিউএসএ পরিচালিত আরো বড় ছয়টি ইয়াবা কারখানার তথ্য বাংলাদেশী সংস্থাগুলোর কাছে আছে। তবে, একসময় এইসব কারাখানার ইয়াবা বাংলাদেশে আসলেও এখন তা শুধু পাশ্ববর্তী থাইল্যান্ড ও লাওসে যাচ্ছে।

১৩ প্রকারের ইয়াবা বিজিবির দেয়া তথ্য অনুযায়ী মিয়ানমার থেকে ১৩ প্রকার ইয়াবা বাংলাদেশে আসছে।

প্রথমে এক দুই প্রকারের ইয়াবা উৎপাদিত হলেও, বাংলাদেশে চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ক্রমান্বয়ে এর আকার-প্রকারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে, এরমধ্যে বাংলাদেশে ‘আর সেভেন’ এবং ‘চম্পা’ নামের দুই ধরনের ইয়াবা বেশি আসছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৭ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সারওয়ারুল ইসলাম।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রধান রাসয়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল সাহা বলেন, “ইয়াবা উৎপাদনের মূল কাচামাল হচ্ছে মিথাইল এ্যাম্ফিথামিন ও ক্যাফেইন। এরসাথে বিভিন্ন ধরনের উপাদান মেশানো হয়ে থাকে। মিথাইল এ্যাম্ফিথামিন উৎপাদন হয় এফিড্রাহাব ঘাস থেকে।”

লাল রঙের আর-৭ ইয়াবা বেশি ব্যবহার করছে দেশের মাদক ব্যবহারকারীরা।

“তবে কয়েক বছর আগে ঢাকার আমিন হুদার কাছে পাওয়া স্বচ্ছ ও নীল রংয়ের ইয়াবা এখন পর্যন্ত আর কোথাও পাওয়া যায়নি,” উল্লেখ করেন দুলাল সাহা।

গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গাল খ্যাত চীন, থাইল্যান্ড এবং মিয়ানমার সীমান্তের জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় এফিড্রাহাব ঘাস বেশি উৎপাদিত হয়। অনুমোদিত ঔষধ কারাখানাগুলোতে এফিড্রাহাব ঘাস ও অন্যান্য উপাদান থেকে এ্যম্ফিথামিন প্রস্তুত করা হয়।

নেশাদ্রব্য হিসেবে ইয়াবার কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য প্রস্তুতের সময় এ্যাম্ফিথামিনের সাথে ক্যাফেইন ছাড়াও গৃহস্থালি পরিষ্কারের বিভিন্ন রাসায়নিক এবং ক্যামেরার ব্যাটারিতে ব্যবহৃত লিথিয়াম যোগ করা হয়।

মাদক গ্রহনকারীদের রুচি ও আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রেখে কারখানাগুলোতে ইয়াবার মধ্যে নানা উপাদান মিশিয়ে ভিন্ন ভিন্ন নামে বাজারে চালু করা হয়েছে।

এরমধ্যে বাজারে স্থানীয় ইয়াবাও পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে একাধিক সূত্র।

আতঙ্কের বিষয় হলো, এক সময়ের পাচারকারীদের অনেকে এখন নিজেরাই ইয়াবা উৎপাদন শুরু করেছে।

এইরকম একজন ইয়াবা উৎপাদনকারী শ্যামল মজুমদারকে গত অক্টোবরে চট্টগ্রামের বাকলিয়া থেকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। তার কাছ থেকে নিজের তৈরী ইয়াবা, কাচামাল ও যন্ত্রপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (হেডকোয়ার্টার) মাহমুদা বেগম বলেছেন, “বাকলিয়া থেকে উদ্ধার করা যন্ত্রপাতি ও কাচামাল দিয়ে ‘নকল’ ইয়াবা তৈরী হতো।”

ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে ইয়াবা রুট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের গোয়েন্দা শাখা চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রধান ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, আগে কক্সবাজার ও বান্দরবান সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশে আসলেও মাঝে এই রুট বিস্তৃত হয়েছিলো রাঙ্গামাটি সীমান্ত পর্যন্ত। ইদানিং কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত দিয়েও ইয়াবা আসছে।

“এখনো টেকনাফ দিয়ে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা বাংলাদেশে আসছে। নানা প্রচেষ্টায় মাঝে মাঝে ইয়াবার প্রবাহ কমে গেলেও তা একেবারে বন্ধ করা যাচ্ছেনা,” উল্লেখ করেন তিনি।

টেকনাফের নাজির পাড়াসহ কয়েকটি এলাকার নব্বই শতাংশ মানুষ ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত বলে জানিয়েছেন ৪২ বিজিবির অপারেশন অফিসার ক্যাপ্টেন এইচ কামরুল।

ঢাকার আমিন হুদার কাছে যেমন এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিরল ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছিল, তেমনি চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের একটি গুদাম থেকে গতবছর এ যাবৎ কালের সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান আটক করা হয়েছে। মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত বাণিজ্যের মাধ্যমে বিভিন্ন পণ্যের সাথে আসা এই চালানে আড়াই লাখেরও বেশি ইয়াবা ছিলyaba-ctn-300x25211

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT