সিভিল সার্জন অফিসে ডেপুটেশনে থাকা ডাঃ সাকিয়া হককে টেকনাফ হাসপাতালে ফেরতের দাবি

প্রকাশ: ২৭ জুলাই, ২০২০ ১১:২০ : অপরাহ্ণ

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … অবহেলিত সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ ৫০ শয্যা হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাকিয়া হককে টেকনাফ হাসপাতালেই ন্যাস্ত করার দাবী উঠেছে। গত কয়েক মাস ধরে তিনি ডেপুটেশনে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত রয়েছেন। এমনিতেই টেকনাফ টেকনাফ ৫০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট প্রকট। ২৯ জন মঞ্জুরীকৃত পদের বিপরীতে বর্তমানে করোনাকালে মাত্র কয়েকজন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। এমতাবস্থায় টেকনাফ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সাকিয়া হককে ডেপুটেশনে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসে ন্যাস্ত করা হয়েছে। বর্তমানে টেকনাফ হাসপাতালে চরম চিকিৎসক সংকট চলছে।
জানা যায়, ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর একযোগে ৮ জন ডাক্তার টেকনাফ হাসপাতালে যোগদান করেছিলেন। তম্মধ্যে ডাঃ সাকিয়া হক একজন। এরা সকলেই ছিলেন ৩৯তম বিসিএস ক্যাডার। বহুমাত্রিক গুণাবলী ও অভিজ্ঞতার অধিকারী ডাঃ সাকিয়া হক টেকনাফ হাসপাতালে যোগদান করার পর অল্প সময়ের মধ্যেই রোগীদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এমনিতেই টেকনাফ হাসপাতালে চরম চিকিৎসক সংকট বিরাজমান। উপরন্ত করোনা ভাইরাসের এই দুর্যোগকালে ডাঃ সাকিয়া হককে টেকনাফ হাসপাতাল থেকে ডেপুটেশনে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসে ন্যাস্ত করা হয়েছে। যা রুগীসহ সর্বসাধারণ মেনে নিতে পারছেননা।
২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর একযোগে যোগদানকৃত ৮ জন ডাক্তার হলেন ঢাকা রমনার ডাঃ সাকিয়া হক (মেডিকেল অফিসার), চট্রগ্রামের পাঁচলাইশের ডাঃ সুমনা রশিদ (সহকারী সার্জন), ডাঃ সুফিয়া আক্তার (সহকারী সার্জন), চট্রগ্রামের খুলশীর ডাঃ মুহাম্মদ আহনাফ চৌধুরী (মেডিকেল অফিসার), চট্রগ্রামের পাঁচলাইশের ডাঃ নাঈমা সিফাত (মেডিকেল অফিসার), চট্রগ্রাম বাকলিয়ার ডাঃ শুভ্র দেব (সহকারী সার্জন), চট্রগ্রামের পাঁচলাইশের ডাঃ রুমনা রশিদ (মেডিকেল অফিসার), ডাঃ মোঃ আবরার জাহিন খান (সহকারী সার্জন)। ৮ জনের মধ্যে ১জন ছাড়া সকলেই চট্রগ্রামের বাসিন্দা।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ জন ডাক্তার টেকনাফ ৫০ শয্যা হাসপাতালে একযোগে যোগদান করার পর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ সুমন বড়–য়া, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ এনামুল হক, মেডিকেল অফিসার ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল ও ডাঃ প্রণয় রুদ্র ফুলের তোড়া দিয়ে তাঁদের স্বাগত জানিয়েছিলেন। নতুন যোগদানকৃত ৮ জন ডাক্তারের মধ্যে ডাঃ মুহাম্মদ আহনাফ চৌধুরী (মেডিকেল অফিসার) ও ডাঃ রুমনা রশিদকে (মেডিকেল অফিসার) সেন্টমার্টিনদ্বীপ ১০ শয্যা হাসপাতালে পোস্টিং দেয়া হয়েছিল। টেকনাফ উপজেলায় সরকারী মঞ্জুরীকৃত মোট ডাক্তারের পদ সংখ্যা ২৯টি। কিন্ত কাগজে-কলমে ২৯ জন থাকলেও বাস্তবে ১০ জনও নেই। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ জন ডাক্তার টেকনাফ ৫০ শয্যা হাসপাতালে একযোগে যোগদান করায় সীমান্ত উপজেলা ও রোহিঙ্গা অধ্যুষিত টেকনাফে এবং দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে ডাক্তার সংকট কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছিল। কিন্ত কিছু দিন যেতে না যেতেই বদলী ও ডেপুটেশনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে আগের সেই অবস্থায় ফিরে এসেছে। বর্তমান টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডাঃ টিটু চন্দ্র শীল চিকিৎসক সংকট ও কর্মচারী স্বল্পতার মধ্যে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ পরিস্থিতিতে কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসে প্রেষণে থাকা ডাঃ সাকিয়া হককে সত্বর পুনরায় টেকনাফ হাসপাতালেই ন্যাস্ত করার জন্য সুশীল সমাজসহ সর্বমহলের পক্ষ থেকে দাবী উঠেছে। ##


সর্বশেষ সংবাদ