হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপরিবেশ

সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপে দেড় হাজার একর জমিতে লবন চাষাবাদ হচ্ছেনা

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ  ..শাহপরীরদ্বীপের ভেড়ীবাঁধের ভাঙ্গণে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের পানিতে প্লাবিত অব্যাহত থাকায় সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপে দেড় হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছেনা । একই কারণে গেল বর্ষা মৌসূমে আমন চাষাবাদ এবং শীত মৌসূমে তরমুজ, মরিচ, খিরা, বাঙ্গি, শশা, পেলং, পানের বরজসহ মৌসূমী তরি-তরকারী ও শাক-সবজির চাষাবাদ হয়নি । এতে কৃষকদের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে এবং হচ্ছে বলে জানা গেছে । বিসিক টেকনাফ লবণ কেন্দ্রের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ৮১২একর, নীলায় ১হাজার ৪৩০একর, শাহপরীরদ্বীপে ৪২৪একর, টেকনাফ সদরে ৯২০একর, সাবরাংয়ে ১হাজার ৪৩০একর মোট ৫হাজার ১৬একর জমিতে সনাতন পলিথিন পদ্ধতিতে লবণের চাষাবাদ হয়েছিল । মোট উৎপাদন হয়েছিল ১লাখ ২২হাজার ১০০ মেট্রিক টন লবণ । এবছরও লবণ চাষীরা যথাসময়ে লবণ উৎপাদনের কাজে নেমেছিল । বিসিক সূত্র জানায়, চলতি লবণ মৌসূমে টেকনাফ সদর ইউনিয়নে ৯২০একর, সাবরাংয়ে ১হাজার একর, শাহপরীরদ্বীপে ৪৪৫একর, নীলায় ১হাজার ৪৩০একর এবং হোয়াইক্যং ইউনিয়নে ৫১৬একরসহ মোট ৪হাজার ৩১১একর জমিতে লবণ চাষাবাদের টার্গেট চাষীরা মাঠে নেমেছিল । যা গত বছরের তুলনায় ৭০৫একর কম জমিতে এবছর লবণ চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল । ১৪ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত এসব জমিতে লবণ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ৭হাজার ১০ মেট্রিক টন । লবণ চাষীরা জানান, এবছর লবণ উৎপাদনের চাষাবাদের মৌসূমের শুরু থেকে এপর্যন্ত আবহাওয়া সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে । ফলে লবন উৎপাদন ভালই হচ্ছে। মৌসুম শেষ হওয়া পর্যন্ত আবহাওয়া বর্তমানের মতো অনূকূলে থাকলে আশাতীত উৎপাদন হবে বলে তাদের ধারনা। কিন্তু সবচেয়ে মারাত্মক অবস্থা সৃষ্টি করেছে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম অংশের বিধ্বস্থ বেড়ী বাাঁধ। গত বর্ষায় বঙ্গোপসাগরে ঢেউয়ের আঘাতে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম পাড়া ৬৮ নং ফোল্ডার বেড়ী বাঁধের বেশ কিছু অংশ  লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছে। সেই সাথে বিশাল জনবসতির লোকালয় সাগরের করাল গ্রাসে চলে গিয়েছে।  সাগরের জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত থাকে। সাগরের জোয়ারের পানি ও ঢেউয়ের আঘাতে টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ কার্পেটিং সড়ক বিধ্বস্থ হয়ে এখনও যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এখনও পূর্নিমা ও অমাবশ্যার “জো” এর সময় শাহপরীরদ্বীপ  ও সাবরাংয়ের বিশাল এলাকা প্লাবিত থাকে। সাগরের লবনাক্ত পানিতে প্লাবিত থাকায় গত বর্ষায় আমন মৌসুমে প্রায় দেড় হাজার একর জমিতে আমন চাষাবাদ করার সম্ভব হয়নি। আর বর্তমানে  শীতকালীন বিভিন্ন ফসলসহ লবন উৎপাদন বা চাষাবাদ করা যাচ্ছেনা। বেড়ী বিধ্বস্থ হওয়ার পর থেকে শাহপরীরদ্বীপের সচেতন বাসিন্দাগণ বিধ্বস্থ বেড়ী বাঁধ পূনঃ নির্মাণের দাবীতে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন, স্বারকলিপি পেশ, আবেদন, সংবাদ সম্মেলন কওে সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। কিন্তু ফলোদয় হয়নি। শাহপরীরদ্বীপের বিধ্বস্থ বেড়ীবাঁধের পূনঃ নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘ ৭ মাসেও জোড়া লাগেনি টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ সড়কের। এই ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টির জন্য যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত  তাদের বিরুদ্ধেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। আর কয়েক মাস পরেই আবারও বর্ষা শুরু হবে। গত বর্ষায় সাগরের ভয়াবহ ভাঙ্গনে শতাধিক বসতবাড়ী, বাস্তু ভিটা, মসজিদ-মক্তব সাগর গর্ভে বিলীন হয়ে গিয়েছিল।  বর্ষা শুরু হওয়ার আগে সে বিধ্বস্থ বেড়ী বাঁধ পূণঃ নির্মান করা না হলে পরিস্থিতি গত বর্ষার চেয়ে আরও ভয়াবহ হবে বলে আশংকা রয়েছে। বেড়ী বাঁধ পূনঃ নির্মাানের যে উপযুক্ত সময় তা দ্রুতই শেষ হয়ে যাচ্ছে। এখনও কাজ শুরু করার লক্ষন দেখা যাচ্ছেনা। বর্ষা শুরু হলে বেড়ী বাঁধ পূনঃ নির্মাণের কাজ করা মোটেও সম্ভব হবেনা। একদিকে সর্বপ্রকার উৎপাদন বন্ধ উপরন্তু সাগরের ভয়াবহ ভাঙ্গনে শাহপরীরদ্বীপের ৩০ হাজার বাসিন্দার অস্তিত্ব  রক্ষাসহ জীবন-মরন প্রশ্ন হয়ে দাড়িয়েছে। বিসিক শাহপরীরদ্বীপ ও সাবরাংয়ের একাধিক স্থানে “লবন চাষাবাদের জন্য নির্ধারিত স্থান’ সম্বলিত বড় বড় সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। কিন্তু সেখানে লবন চাষ নেই। বেড়ী বাঁধ বিধ্বস্থ হয়ে সাগরের জোয়ারের পানি আসা যাওয়া অব্যাহত থাকায় শাহপরীরদ্বীপের ৪৪৫ একর এবং সাবরাংয়ের ১ হাজার একর জমিতে লবন চাষাবাদ হচ্ছেনা। ##