টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সাফল্য-ব্যর্থতায় মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্তি রোববার

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৩
  • ২০৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

undefined

ঢাকা, ৫ জানুয়ারি,ফোকাস বাংলা নিউজ: রোববার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের চার বছর পূর্ণ হবে। গত ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি সরকার গঠন করে। এর আগে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একাই ৪৯ ভাগ ভোট পেয়ে ২৩০টি আসনে বিজয়ী হয়। শরিকরা বিজয়ী হয় ৩২টি আসনে। আওয়ামী লীগ ও শরিক দলের নেতৃবৃন্দ মনে করেন, দিন বদলের প্রত্যয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে চার বছর আগে যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছিল তাতে অর্জিত হয়েছে অভূতপূর্ব সাফল্য। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করে চলেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ইতিহাস প্রতিজ্ঞা রক্ষার ইতিহাস� প্রতিশ্র�তি বাস্তবায়নের ইতিহাস। যা প্রতিশ্র�তি দেয় তা পূরণ না করে আওয়ামী লীগ ঘরে ফিরে না। সৈয়দ আশরাফ বলেন, �নির্বাচনী প্রতিশ্র�তিও আমরা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করেছি। সরকারের বাকি মেয়াদে সকল প্রতিশ্র�তি বাস্তবায়ন করা হবে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, আমাদের লক্ষ্য গণতন্ত্র, সামাজিক অধিকার, অসাম্প্রদায়িক সমাজ নির্মাণ। আমরা সব লক্ষ্যই হাসিলের পথে। তবে মানুষের ক্ষমতায়ন বিশেষ করে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকার একটু পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণাই হবে আমাদের আগামী নির্বাচনের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসন দুর্নীতি, জঙ্গিবাদী, সন্ত্রাস এবং অকার্যকর রাষ্ট্রের কলংক মোচন করে বাংলাদেশকে আবার বিশ্বসভার মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। সমাজ অর্থনীতি রাজনীতিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, উন্নয়ন দৌড়ে তৃতীয় বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ দেশের অন্যতম বাংলাদেশ। শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সুশাসনের ক্ষেত্রে অসাধারণ সাফল্যের জন্য আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় বাংলাদেশ স্থান করে নিয়েছে সুখী দেশের তালিকায়। বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়া, মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস এবং গড় আয়ুষ্কাল বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে উল্লেখ করে তিনি বলেন, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য এখন নিয়ন্ত্রণে। চালসহ খাদ্য-সামগ্রীর দাম কমেছে এবং স্থিতিশীল রয়েছে। বিশ্বমন্দা মোকাবেলা করে প্রবৃদ্ধির হার প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের সমাধান, রফতানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বিশাল সাফল্য এবং নারীর ক্ষমতায়নের অগ্রগতি এই সরকারের সময়েই হয়েছে। মিয়ানমারের সাথে সমুদ্র বিজয় এবং জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবিত শান্তির মডেল গৃহীত হওয়া এ সরকারের অভূতপূর্ব অর্জন বলে উল্লেখ করেন হানিফ। তিনি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির অভূতপূর্ব ব্যবহারের ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি সংহত এবং চার মূলনীতি প্রতিষ্ঠায় যে দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল সে লক্ষ্যেই মহাজোট সরকার অগ্রসর হয়েছে। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বাজার মূল্য, দুর্নীতি উঠা-নামা করলেও স্বাভাবিক বিবেচনায় খারাপ বলা যাবে না। তবে আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে সে ব্যাপারে একটা অনিশ্চয়তা আছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবাই মিলে আলাপ-আলোচনা করলে গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। অনেক কিছুই বাস্তবায়ন হয়েছে। সবটুকু না হলেও সরকারের বাকি মেয়াদে অনেকটাই সম্ভব হবে। ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক বলেন, কৃষি, শিক্ষাখাতে অনেক সাফল্য আছে। বিগত ৪ বছরে প্রথম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে ৯২ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে�এর কৃতিত্ব অবশ্যই সরকারের উল্লেখ করে তিনি বলেন, �তবে দুর্নীতি কমিয়ে আনা, দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখাসহ সরকারের অন্যান্য প্রতিশ্র�তি বাস্তবায়নে কম সাফল্য এসেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সাফল্য অর্জিত হলেও বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা রয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত অভিন্ন শিক্ষানীতি চালু করা হয়নি। বৈদেশিক নীতি ও কানেকটিভিটিতে সাফল্যের কারণে গার্মেন্টস শিল্প লাভবান হয়েছে বলে জানান তিনি। রেমিটেন্স বৃদ্ধি ও কলমানির হার কমলেও সামষ্টিক অর্থনীতির অবস্থা খুব ভালো নয়। তিনি বলেন, চার বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পেলেও ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কারণে সাবসিডির সিংহভাগ ব্যয় হচ্ছে। এছাড়াও শেষ মেয়াদে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করায় জনজীবনে যন্ত্রণা আরো বেড়েছে। দীর বুকে ৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু বানিয়ে দক্ষিণাঞ্চলবাসীকে সড়ক পথে সরাসরি ঢাকায় আনার স্বপ্ন দেখিয়ে যাত্রা শুরু করলেও মহাজোট সরকারের চার বছর গড়ালেও সেই সেতুর কাজ শুরু করা যায়নি এখনো। পুরোনো খতিয়ান ছাড়া নতুনের আবাহন সার্থক হয় না। এ সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার ভেতর থেকে শক্তি ও দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করা তাই দরকার। মহাজোট সরকারের ৪র্থ বছর পূর্ণ হতে চলেছে ৬ জানুয়ারি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এ বছর শুরু হলেও ধীরগতি এবং অপ্রস্তুতি অনেককে আশাহত করেছে। দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির জাঁতাকলে দরিদ্র-নিম্নবিত্ত তো বটেই, মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোরও নাভিশ্বাস উঠছে। বিরোধী দল এ সরকারের আমলে সংসদে প্রায় পুরো সময়ই অনুপস্থিত থেকেছে এবং সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় রাজনৈতিক সমস্যা সংকটে রূপ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উচ্চ আদালতের সক্রিয়তা ছিল প্রভাববিস্তারী। পঞ্চম ও সপ্তম সংশোধনী বাতিল হলেও রাষ্ট্রধর্ম-সম্পর্কিত বিতর্কের সুরাহা হয়নি। সবচেয়ে আলোচিত ছিল উচ্চ আদালত কর্তৃক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল করা। অন্যদিকে দুদক ও মানবাধিকার কমিশনের কাক্ষিত বিকাশ এ বছরেও ঘটেনি। যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয় এবং দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়া ছিল এ বছরের সবচেয়ে সমালোচিত বিষয়। মন্ত্রিসভায় ঈষৎ পরিবর্তন জনগণের আকাক্ষা পূরণ করতে পারেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সরকারি দল ও বিরোধীদের রাজনৈতিক অনুশীলনের ক্ষেত্রে উন্নতি হয়নি। বিরোধ-সংঘাতের সেই পুরোনো আবর্তেই রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে। বছর আসে বছর যায়। একটি নতুন সূর্য উকি দেয়। চলে যাওয়া প্রতিটি বছরই রেখে যায় কিছু স্মৃতি। কিছু স্মৃতি হয় মধুর আর কিছু হয় তিক্ত। চলে যাওয়া বিগত বছরের সেই মধুর স্মৃতি গুলোকে আরও মধুর ও তিক্ত স্মৃতি গুলোকে মধুর স্মৃতিতে রুপান্তর করার জন্যই হয়তবা নতুন বছরের আগমন ঘটে। বিশ্ব রাজনীতিতে ঘটে নানা নাটকীয়তা, অর্থনীতিতে ঘটে নানা ঘটনা। দেশের রাজনীতিতে প্রতিনিয়ত ঘটতে থাকে নানা ঘটনা, বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল উত্তপ্ত। দুটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বিদায়ী বছরে, যেগুলো আশুলিয়া ট্রাজেডি ও ফ্লাইওভার ট্রাজেডি হিসেবে দীর্ঘ নিঃশ্বাসের কারণ হয়ে থাকবে ওই দুই দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের স্বজনদের কাছে। আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে আগুনে পুড়ে মারা যান ১০৭ জন গার্মেন্ট কর্মী আর লাফিয়ে পড়ে মারা যান আরও ১০ জন। চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে ফ্লাইওভারের ৩টি গার্ডার ধসে বহু লোক হতাহত হয়। জিনিসপত্রের দাম লাগামছাড়া। এর ভেতর দিয়ে চলতে হচ্ছে আমাদের। চলতে হবেই। সরকার আপাতত কোনো সুখবর দিতে পারছে না। তাদের নজর রাজনৈতিক পুষ্টি জোগানের দিকে। খাদ্য অপুষ্টিতে জাতি যে রুগ্ণ হয়ে যাচ্ছে সে দিকে কোনো নজর তাদের নেই। বাংলাদেশের ব্যাংকিং সেক্টরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্থ কেলেঙ্কারি, সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা হোটেল শাখা থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনা। এছাড়া ডেসটিনি গ্র�পের কেলেঙ্কারি, পদ্মা সেতু দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ইত্যাদি বহুল আলোচিত ঘটনা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল নয়। এ সরকারের আমলে শেয়ারবাজারে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, হলমার্কসহ নানা কেলেঙ্কারি এবং ব্যাপক হারে ব্যাংক থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার কারণে ব্যাংকিং খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলে। ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদরা পুরো বছর ধরেই নানা সময়ে হতাশা প্রকাশ করে এসেছেন। ২০১২ সালে বিশেষভাবে আলোচিত অপরাধমূলক ঘটনা ব্যবসায়ী ইলিয়াস আলীকে গুম, ঢাকায় সাংবাদিক সাগর-রুনীর জোড়া খুন, সৌদি দূতাবাস কর্মকর্তা হালাফ হত্যাকাণ্ড ও ছাত্রলীগ ক্যাডারদের হাতে নিরীহ ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড। বছরের প্রথম মাসেই সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয় কয়েকজন কর্মকর্তার সরকার উৎখাতের চেষ্টার কথা। পরের মাসেই খুন হলেন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার- মেহেরুন রুনি। এপ্রিলে ঘুষ কেলেঙ্কারিতে রেল মন্ত্রণালয় ছাড়তে হয় সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে। মাঝরাতে বনানীর রাজপথ থেকে নিখোঁজ হলেন রাজনীতিক ইলিয়াস আলী। জুনে ফাঁস হলো ডেসটিনির অর্থ পাচারের ঘটনা। জুলাইতে পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে পদ ছাড়তে হলো যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে। অক্টোবরে বিবেকবর্জিত সন্ত্রাস সহ্য করতে হলো রামু-উখিয়ায় বৌদ্ধবিহারে।দেশে তোলপাড় হওয়া হল-মার্ক অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনা ফাঁস হলো। নভেম্বরে ঘটে গেল মায়ের বুকে গুলি করে সন্তান পরাগকে অপহরণ করার ঘটনা। চট্টগ্রামে ধসে পড়ল উড়ালসড়কের গার্ডার। আর শোক প্রকাশের এমন কোনো ভাষাই যথেষ্ট নয়, আগুনে পুড়ে যেভাবে প্রাণ হারালেন আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসের কর্মীরা। ডিসেম্বরে বিজয়ের মাসে দেখতে হলো রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও, বিশ্বজিতের মতো নিরীহ যুবকের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড।তবে এটিই চূড়ান্ত ছবি নয়। এই বছরটিতে সাফল্যও এসেছে অনেক ক্ষেত্রে। বিদায়ী বছরে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুম হয়েছেন। তিনি রাজনৈতিক নেতা বলে তার কথা আমাদের মনে আছে। কিন্তু গুমের তালিকা অনেক লম্বা। সাধারণ অনেক মানুষ গুম হয়েছেন। তাদের কারো লাশ পাওয়া গেছে নদীনালায়। মানবজীবনের এমন করুণ পরিণতির কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি সরকার। বিরোধী দল দলন ইচ্ছেমতো করেছে সরকার। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সরকারদলীয় কর্মীর ভূমিকায় মাঠে ছিল গত বছরজুড়ে। হরতালের সময় এক যুবকের গলায় পা রেখে পুলিশ বুঝিয়ে দিয়েছে আমজনতা কোনো মানুষের কাতারেই পড়ে না। বছরজুড়েই সরকারের আলোচনা ছিল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার আর বিরোধী মতের সমালোচনায় মুখর। কেবল রাজনৈতিক নয়, অরাজনৈতিক ক্ষেত্রেও দরকার নেই এমন প্রসঙ্গ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে মহাজোট সরকার। নোবেল বিজয়ী প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের বক্তব্য নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। এ নিয়ে বছরজুড়েই ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক ছিল আলোচনার শীর্ষে। শেয়ারবাজার ছিল সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়। লাখ লাখ বিনিয়োগকারীর অশ্র�ও সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়নি। এ কেলেঙ্কারিতে জড়িত ছিলেন বড় বড় রাঘববোয়াল। এক রকম ধামাচাপাই দেয়া হয়েছে এই কেলেঙ্কারি তদন্তের রিপোর্ট। এমনকি এই বিনিয়োাগখেকোদের নাম পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। বিনিয়োগ হারিয়ে আত্মহত্যার নজিরও রেখে গেল ২০১২। রামু ও উখিয়ায় বৌদ্ধবিহারে হামলা হয়েছে বিদায়ী বছরে। হাজার বছরের ইতিহাসে এটি একটি ব্যতিক্রম ঘটনা। এ ঘটনা দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ� করেছে মারাত্মকভাবে। কিন্তু সরকার চেষ্টা করেছে এখান থেকে কিভাবে ফায়দা তোলা যায়। এ সরকারের আমলে বিশেষ করে গত বছরজুড়ে শিক্ষাঙ্গনে ছিল অস্থিরতা। বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় রাজনৈতিক বিবেচনা প্রাধান্য পাওয়ায় বুয়েটজুড়ে ছিল ক্ষোভ-বিক্ষোভ। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রামসহ দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ছিল অস্থির। ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছিল লাগামহীন। তাদের নিয়ন্ত্রণে সরকার বরাবরের মতোই ছিল ব্যর্থ। এ সবচেয়ে বড় আলোচিত ঘটনা ছিল স্কাইপ কেলেঙ্কারি। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিজামুল হকের সাথে প্রবাসী আইনজীবী আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সংলাপ ফাঁস হয়ে যায়। আমার দেশ পত্রিকা এটি প্রকাশ করলে সরকার ক্ষিপ্ত হয়। নিজামুল হক পদত্যাগে বাধ্য হন। সরকার আমার দেশ-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইন ও রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে মামলা করে। বর্তমানে তিনি পত্রিকা অফিসে বন্দী জীবন যাপন করছেন। পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারির নায়ক আবুল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রী দেশপ্রেমিক বলে বর্ণনা করেন। লন্ডনে তিনি এমন কথা বলার পর এ নিয়ে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন। সেই দেশপ্রেমিক সৈয়দ আবুল হোসেনকে বাদ দিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক মামলা করে সাতজনের বিরুদ্ধে। তাদের দু�জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে বিশ্বব্যাংক ফেরেনি পদ্মার অর্থায়নে। সামনে ফিরবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ঋণদাতা প্রধান সংস্থা বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে জটিলতার মধ্যে বাকি এক বছরেও বহু প্রতীক্ষিত এই সেতুর কাজ শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের �দুর্নীতিকে� সামনে এনে তার বিপরীতে মহাজোটকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানায় আওয়ামী লীগ। আর তাতে ব্যাপক সাড়াও মেলে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে যে পাঁচটি ক্ষেত্রকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়, তাতে �সুশাসন� প্রতিষ্ঠা অনুচ্ছেদে (৫.২) ছিল- প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব ও আয়ের উৎস প্রতি বছর জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। সম্পদের হিসাব দেয়ার কথা গত চার বছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কয়েকবার বললেও তার ফল দেখা যায়নি। বরং ২০১০ সালে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আয়কর বিবরণীতে দেয়া হিসাবই যথেষ্ট। নতুন করে আর সম্পদের হিসাব দিতে হবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা ওঠার পর ২০১১ সালে অর্থমন্ত্রী আবার বলেন, মন্ত্রী, মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য ও বিচারপতিদের সম্পদের হিসাব দিতে হবে। কিন্তু এরপর দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও তার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি। নির্বাচনী এই প্রতিশ্র�তি বাস্তবায়িত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলি খান বলেন, দুঃখজনক হল এই কাজটিও আমরা করতে পারলাম না। মন্ত্রী-এমপিদের সম্পদের হিসাব পাশের অঙ্গীকার �সাহসী� ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই কাজটি করতে পারলে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে যেত। মন্ত্রীদের সম্পদের হিসাবের বিষয়ে জানতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গত সপ্তাহে বলেন, মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা তাদের সম্পদের হিসাব সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিচ্ছেন। �আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, অনেকেই তাদের সম্পদের হিসাব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জমা দিচ্ছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT