হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

ক্রীড়াসাহিত্য

সাধু-সাবধান! ভুঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠন

ইসমাঈল হুসাইন ইমু :   রাজধানীসহ সারাদেশের প্রায় শতাধিক ভুঁইফোড় মানবাধিকার ও সাংবাদিক সংগঠনের ভিড়ে পেশাদার সাংবাদিক, সংগঠন এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে বিড়ম্বনার মধ্যে পড়ছে। সাধারণ মানুষের কাছে আসতে সমাজের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন প্রলোভনে ওইসব সংগঠনের নেতৃত্ব পর্যায়ে বসিয়ে সাধারণ মানুষদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে থাকে ওইসব সংগঠনের কর্মকর্তারা। সাংবাদিক নামীয় এসব সংগঠনের কারণে র‌্যাব-পুলিশের কাছে এদের বিরুদ্ধে সহসাই কেউ অভিযোগ করে না। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েই এরা দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। গতকাল শুক্রবারও সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ভিআইপি কক্ষে ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশনের নামে এ ধরনের একটি সংগঠন অনুষ্ঠান করতে গেলে সংগঠনের ৩ প্রতারক পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। এরা হলেনÑ সংগঠনের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আহাদ ও রমজান আলী। এ সময় তাদের কাছ থেকে পুলিশ বিভিন্ন নামে কয়েকটি সাংবাদিক লেখা আইডি কার্ড উদ্ধার করে।

আটককৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, সারাদেশে এই চক্রের ১৬ হাজার সদস্য রয়েছে। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা করে নিয়ে আইডি কার্ড দেওয়া হয়।

গতকাল দুপুরে এরা ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশনের ব্যানারে দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অতিথি করে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিল। ভুয়া সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে সাংবাদিকরা তাদের চ্যালেঞ্জ করলে ওই আয়োজন পণ্ড হয়ে যায়। র‌্যাব ও পুলিশের দল দেখে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ওই সংগঠনের কথিত ক্রাইম রিপোর্টাররা পালিয়ে যায়। গতকাল যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের প্রত্যেকের গলায় ঝুলানো ছিল ‘প্রেস’ লেখা কার্ড। অভিযোগ রয়েছে এই সংগঠনের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন (আইএইসসিআরএফ) নামে প্রেস খচিত আকর্ষণীয় পরিচয়পত্র বানিয়ে অঞ্চলভিত্তিক ও রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মানবাধিকার ক্রাইম রিপোর্টার নিয়োগ দেয়। সংগঠনের নামে রেজিস্ট্রেশন রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ক্রাইম রিপোর্টার্স ফাউন্ডেশন লেখা ঠিক হয়নি স্বীকার করে হুমায়ূন কবির পুলিশকে জানান, ক্রাইম রিপোর্টার্স শব্দটি প্রত্যাহারের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, এ ধরনের সংগঠনসহ আরও প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা টাকা নিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পুলিশের চোখে আড়াল করতে প্রেস লেখা আইডি কার্ড দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। এরা উত্তরা, মিরপুর, পল্লবী, শ্যামলী, আদাবর, যাত্রাবাড়িসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন লোকজনকে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতির মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে আসছে। এদের চাঁদাবাজির কারণে থানার পুলিশ ও এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। সাংবাদিক বা প্রেস লিখে মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কারের সামনে লাগিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ছড়ে বেড়াচ্ছেন এ ধরনের হলুদ কার্ডধারী সাংবাদিক। এছাড়া জাতীয় প্রেস ক্লাবে কোনো ধরনের সংবাদ সম্মেলন হলেই এই হলুদ কার্ডধারী সাংবাদিকরাই বেশি উপস্থিত হন। এদের অনেকেরই নেই কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচয়। আবার অনেকে এমন কিছু পত্রিকার নাম এবং আইডি কার্ড প্রদর্শন করে, যার পাওয়া যায় না কোনো

অস্তিত্ব। অভিযোগ পাওয়া গেছে, সাপ্তাহিক জবাব নামে একটি পত্রিকার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সোহেল মাহমুদ চৌদ্দগ্রামের এক সমাজ সেবকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে ওই সাংবাদিকের খোঁজ নিলে তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এসব সংগঠনগুলো জয়েন্ট স্টক থেকে নামমাত্র একটি কাগজ বের করেই মাঠে নামে অবৈধ আয়ের সন্ধানে। শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, রাজনীতিকসহ বিভিন্ন পেশার লোকদের খবর ছাপানোর ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে অর্থ আদায়, আবার কখনও অসহায় মানুষকে আইনি সহায়তা দেওয়ার নামে বিভিন্ন ফন্দি-ফিকিরে টাকা কামানোই এ সংগঠনগুলোর কাজ। এরা পুলিশ ও র‌্যাব কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েও মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে থাকে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.