হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

সাহিত্য

সাধারণ মানুষের কথা ভাবুন…

তালহা বিন নজরুল: সন্দেহ-সংশয়ে সময় কাটছে সবার। রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা কাটছেই না। অস্থিরতা আর অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কলকারখানা আর বিনিয়োগে। এক স্থবিরতা চলে এসেছে অনেক ক্ষেত্রে। অনেকেই অবশ্য এ কথা মানতে চাইবেন না। সুবিধাভোগীরা সব সময়ই ভাল থাকেন। ধোঁকাবাজ আর দুর্নীতিবাজদের ভয় থাকে না এরকম জল ঘোলা পরিস্থিতিতে। দীর্ঘ যানজট বা ফেরি সঙ্কটে আটকেপড়া যাত্রীদের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা হলেও যারা হকার বা পণ্য ফেরি করে বিক্রি করেন এবং স্থানীয় ক্ষুদে ব্যবসায়ী তারা তো ভালই বাণিজ্য করতে পারেন ওই সময়ে। তাদের জন্য বরং যানজটই কাম্য। সেরকম দেশে একটি শ্রেণী থাকে যারা চায় অস্থিরতা। তাদের জন্য অনিশ্চয়তাই অনুকূল পরিবেশ। কিন্তু সবার জন্য তো আর ওই অবস্থাটা অনুকূল নয়। অস্থিরতা আর সঙ্কটে সাধারণ নাগরিকদের অবস্থা হয়ে পড়ে সঙ্কটময়। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণী- আমাদের দেশে যে শ্রেণীতেই বেশির ভাগ মানুষ পড়ে, তাদের অবস্থা হয়ে যায় অবর্ণনীয়। তারা না পারে সইতে, না পারে কইতে। বর্তমান সময়টাও তাদের জন্য সেরকম কাটছে। সমাজের প্রায় সব জায়গায় চলছে অরাজকতা, আইনের শাসন কাজ করছে না। আইনের ফাঁক তৈরি করে অনেকে আবার তার ফায়দাও লুটছে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও নিয়ম মানছে না। নেই কোন জবাবদিহি। উচ্চবিত্তরা অর্থের জোরে আর একেবারে নিম্নবিত্তের কিছু অংশ তাদের সহায়ক হিসেবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশজুড়ে। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি করে ভালই আখের গুছিয়ে নিচ্ছে একটি গোষ্ঠী। সাধারণ মানুষ- যাদের কোন দল নেই, পেশি শক্তি নেই, তারা এখন নীরব দর্শক। কখনও কখনও দুর্ভোগের শিকার, অবিচারের শিকার। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অতি পুরনো একটি দল। তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসা এ দলটি মনে করে থাকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে তাদের অবদানই একমাত্র। এটি সত্য স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এদেশের প্রায় সবাই ওই দলেরই সমর্থক ছিল। বিকল্প কোন দল তখন সেভাবে ছিল না। মুসলিম লীগ-জামায়াত ছিল পাকিস্তানের পক্ষে। কমিউনিস্ট পার্টির ভূমিকাও ছিল দ্বিধাবিভক্ত। স্বাধীনতার একক কৃতিত্ব তাদেরই- এদেশের মানুষ এ দাবি স্বীকার করেনি সেভাবে। বিশ্বাস করে না এজন্য যে, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সম্মুখভাগে ছিলেন এ দেশের সাধারণ মানুষ। তারা জীবন বাঁচাতে যুদ্ধ করে গেছেন অকুতোভয়। কিন্তু আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাই তখন পাশের দেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানে তাদের ভূমিকা নিয়েও রয়েছে অনেক নেতিবাচক বর্ণনা। সেগুলো না হয় না-ই ধরা হলো। কিন্তু ৪২ বছর আগের দলে যারা ছিলেন তাদের ক’জনই বা এখন আছেন সেই কৃতিত্ব পুঁজি করে রাজনীতি চালিয়ে যাওয়ার মতো। অতীতে ভাল ছিলাম বলে কি এখন আমার অপকর্মের বিচার হবে না? বিচার তো হবে বর্তমানেরই। সাধারণ মানুষ বর্তমানের বিচার করে বলেই তো আওয়ামী লীগ ক্রমেই তার জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধ দেখেছে এমন মানুষের সংখ্যা এখন কত হবে? নিশ্চয়ই জনসংখ্যার অর্ধেকও হবে না।  কেবল বিএনপি নয়, জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকও বেড়েছে আওয়ামী লীগের শক্তি খর্ব করে।  তাই তাদের কাছে সে সময় কে কি করেছে তার কোন দাম নেই। এখন কে কি করছে তাই তারা হিসাব করে। আর এ কারণেই স্বাধীনতার দোহাই টিকছে না। মুক্তিযুদ্ধের ফেরি করে আর লাভ হবে না। এখন কাজ করতে হবে সব মানুষের জন্য। এখন সবাই বাংলাদেশী। সবাইকে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আওয়ামী লীগ পিছিয়ে পড়ছে কেবল তাদের একদেশদর্শী আচরণের জন্য। আর এ কারণে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য তাদের ভিন্ন পথ খুঁজতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তার পুত্রের আফসোস যে, তাদের সব ভাল কাজ মার খাচ্ছে প্রচারের অভাবে। সূর্য তো প্রতিদিনই উদিত হয় কিন্তু মেঘের ঘনত্ব বেশি হলে সূর্যের আলোও ঢাকা পড়ে যায়। যে দিন মেঘ থাকে না সেদিন সূর্য উঠেছে বলে প্রচার করতে হয় না। তারপরও বলতে হয়, ‘আমার দেশ’ পত্রিকা বন্ধ, দিগন্ত ও ইসলামী টেলিভিশন বন্ধ। এছাড়া আর সব টিভি চ্যানেল (দু-একটি বাদে) ও পত্রিকার মালিক তো আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরই। তবে তারা কেন প্রচারে পিছিয়ে থাকবে। এর কারণ তাদেরই খুঁজে দেখতে হবে। আসলে শাক দিয়ে তো আর মাছ ঢাকা যায় না। আওয়ামী লীগ সরকার কি করেছে আর কি করছে তা কেন বিল বোর্ডে, ব্যানার টাঙিয়ে জানাতে হবে সবাইকে। এটাই তো ব্যর্থতা যে আপনারা যা করেছেন তা সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারে নি। তার সুবিধাও তারা ভোগ করলে তো তারা মুগ্ধ হবেই। তাই প্রচারেরই সবসময় প্রসার হয় না। সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘ মেয়াদে জয় হয় সত্যেরই। একটি কথা না বললেই নয়, এদেশের মানুষ চরিত্রগত দিক থেকে সাহসী হলেও নিরীহ। তারা গায়ে পড়ে ঝগড়া না করলে রা করে না। মুখ বুজে সবই সহ্য করে। কিন্তু বাড়াবাড়ি মাত্রা ছাড়ালে তারা সোচ্চার হয়। তারা বরাবরই নির্যাতিতের পক্ষে থাকে। আর এ সরকারে আমলে যে কাজটি বেশি হয়েছে তা হলো জুলুম আর নির্যাতন। এটি তারাও বোঝে। আর বোঝে বলেই বোধহয় ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় মরিয়া। একটি প্রশ্ন এখন সবখানে- হাটে বাজারে, বাস-লঞ্চ-ট্রেনে, কোথায় চলেছি আমরা, এই অরাজকতার কি কোন শেষ নেই? হতাশার ছাপ তাদের চোখে মুখে। সরকার ও বিরোধী দল দুই মেরুতে দাঁড়িয়ে। কেবল থাকলেও হয়তো তেমন অসুবিধা হতো না। কিন্তু জনগণের স্বার্থে (!) একে অপরের প্রতি মারমুখো। আর তাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাবে জনগণের অনিশ্চয়তার মাত্রাটা বাড়ছে বৈ কমছে না। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এতটাই প্রকট যে কেউ কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। এক পক্ষ যখন অন্যায়ের বোঝা কাঁধে নিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চায় তখন অপর পক্ষ তাদের হটাতে মরিয়া হবে, এটাও অস্বাভাবিক বলা যায় না। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশে যে তন্ত্রের চর্চা চলছে তাতে নাভিঃশ্বাস উঠেছে জনগণের। সবার মুখে জনগণের দোহাই থাকলেও জনগণের সুখ-দুঃখ নিয়ে কেউ ভাবেন বলে মনে হয় না। সবার কাছে আহবান- আসুন সাধারণ মানুষের মঙ্গল নিয়ে ভাবুন। দেশের শান্তি নিয়ে ভাবুন।
talhamd1@yahoo.com