হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদ

সাগরে মাছের আকাল বাজারে চড়াদাম

নুরুল আমিন হেলালী##
বঙ্গোপসাগরে একদিকে জলদস্যু আতংক অন্যদিকে হঠাৎ করে মাছের আকাল দেখা দেয়ায় গত কিছুদিন যাবৎ সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া জেলেরা খালি হাতে ফিরে আসছে। দেখা গেছে,শতাধিক বোট কক্সবাজার শহরের ফিশারী ঘাট ও মাঝের ঘাটসহ অন্যান্য আশপাশের এলাকায় নোঙ্গর করেছে। এত করে বোটের মালিকদের মাঝে বিরাজ করছে চরম হতাশা। এছাড়া গত রোববার উখিয়া উপকুলের অদুরে বঙ্গোপসাগরে ফিশিং বোট লুটপাঠসহ মাঝি-মাল্লাদের উপর সশস্ত্র জলদস্যুদের হামলা জেলেদের মধ্যে আরও আতংক বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে হাজার হাজার মাঝি-মাল্লারা পড়ে গেছে চরম বেকায়দায়। জেলেরা জানান,একদিকে জলদস্যুর উৎপাত অপরদিকে সাগরে মাছের আকাল ফলে বাজারে মাছের সরবরাহ অনেক কম। অন্যদিকে বোট মালিকরা জনান,সাগরে ব্যাপকহারে ট্রলিং জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে মাদার ফিশসহ ব্যাপকহারে ঝাটকা নিধন করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়,কক্সবাজারের উপকুলীয়এলাকা কুতুুবদিয়া,মহেশখালি,চকরিয়া,উখিয়া,টেকনাফ,পেকুয়া,কক্সবাজারসদরসহ বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন ৪ হাজার ছোট-বড় ফিশিং বোট জীবন জীবিকার তাগিদে ছুটে যায় গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে। এ কাজের সাথে জড়িত রয়েছে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক মাঝি-মাল্লা। সাগরে মাছ শিকারের পর এরা ফিরে আসে কক্সবাজার শহরের ব্যস্ততম বানিজ্যিক জোনখ্যাত ফিশারিঘাট,মাঝির ঘাটসহ কয়েকটি পল্টন এলাকায়। মৌসুমে শতশত বোট এখানে নোঙ্গর করে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিক্রি করে আসছে। তবে সরেজমিনে ফিশারি ঘাটে কয়েকজন জেলের সাথে কথা বলে জানা যায়,গত কয়েকদিন যাবৎ ব্যস্ততম এই বানিজ্যিক এলাকা ফিশারিঘাটে আগের মত মাছ ব্যবসায়ী কিংবা জেলেদের কোলহল নেই বললেই চলে। এছাড়া মাছ ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ করা যায়নি। জকরিয়া,রহমান মাঝি,আব্দু শুকুর,করিম উল্লাহসহ কয়েক জেলে জানান,গত কিছুদিন যাবৎ সাগরে মাছের আকাল দেখা দেয়ায় তারাও পড়েছেন মহা বিপাকে। হাজার হাজার জেলে বেকার হয়ে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। মাঝি-মাল্লাদের বিমর্ষ চেহারা আর বোট মালিকদের হতাশায় জেলে পল্লিতে বর্তমানে বিরাজ করছে নিরব দূর্ভিক্ষ। গতকাল শহরের বড়বাজার,বাহাড়ছড়া বাজার,কানাইয়ার বাজার,কালুর দোকান,কলাতলী বাজারসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায় সামুদ্রীক মাছের সংগ্রহ অনেক কম। যা আছে তাও আবার সাধারন ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। মাছ ব্যবসায়ী সাহাবুদ্দিন,আবু জাফর,কাসেম,রফিকসহ অনেক মাছ ব্যবসায়ী জানান,সাগরে মাছ শিকারে যাওয়া ফিশিং বোট গুলোর একদিকে জলদস্যু আতংক অন্যদিকে সাগরে মাছের আকাল ফলে বাজারে এর প্রভাবে মাছের দাম আকাশচুম্বি। মৎস্যজীবিদের দাবী সাগরে জলদস্যুদের দমনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের টহল আরও বাড়ানো জরুরী।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.