হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপরিবেশপর্যটন

সাগরের ভয়াবহ ভাঙ্গণে শাহপরীরদ্বীপ মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফঃ       সাগরের ভয়াবহ অব্যাহত ভাঙ্গনে ক্রমে সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা শাহপরীরদ্বীপ বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। সাগর গিলে খাচ্ছে শাহপরীরদ্বীপকে। অব্যাহত সাগরের ভাংগনে শাহপরীরদ্বীপের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ে প্রায় ৩০ হাজার বনি আদম সাগরের প্রকৃতির সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। গতকাল ২৮ জুলাই দুপুরে টেকনাফের ইউএনও আ,ন,ম, নাজিম উদ্দিন টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ ভাঙ্গা সড়ক ও শাহপরীরদ্বীপ বিধ্বস্থ বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন। শাহপরীরদ্বীপের ভৌগলিক অবস্থান হচ্ছে- পূর্বে নাফ নদী, দক্ষিণ ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর এবং উত্তরে সমতল ভূমি। এক সময় শাহপরীরদ্বীপ মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। শাহপরীরদ্বীপের উত্তরে পূর্ব ও পশ্চিম একটি ভরারখাল নামে একটি খাল ছিল। এখাল দিয়ে সাগর ও নাফ নদীর পানি চলাচল এবং ভারী নৌযান যাতায়াত করত। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের শাসন আমলে ফিল্ড মার্শাল মোহাম্মদ আইউব খাঁন এর আমলে শাহপরীরদ্বীপকে মূলভূখন্ডের সাথে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে ভরার খালের উভয় মূখে নাফ নদী ও সাগরে মজবুত বেড়ীবাঁধ নির্মাণ করে এবং এখালের মধ্যখানে মাটি ভরাট করে ভূখন্ডের সাথে সড়ক সংযোগ স্থাপন করার পর থেকে শাহপরীরদ্বীপ মূল ভূখন্ডের সাথে মিলে গিয়েছিল । বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে টেকনাফ থেকে শাহপরীরদ্বীপের বাজারপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক কাপের্টিং এর আওতায় নিয়ে আসেন। বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কক্সবাজার টু শাহপরীরদ্বীপ যাত্রীবাহী বাস চলাচলের ব্যবস্থা করে দেন। এর পাশাপাশি প্রতিদিন সিএনজি, মাইক্রো, প্রাইভেটগাড়ী ও ট্রাক যাতায়ত করে আসছে। শাহপরীরদ্বীপ একটি সম্ভাবনাময় আকর্ষনীয় পর্যটন স্পট এবং এখান থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপের দুরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার। মৎস্য ও লবণ সম্পদের জন্য বিখ্যাত হচ্ছে শাহপরীরদ্বীপ। এখানকার অধিবাসীরা অধিকাংশ মৎস্যজীবি এবং প্রবাসী। এক সময় শাহপরীরদ্বীপের বদর মোকাম ছিল মিয়ানমারের আকিয়াবের সাথে ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্র বিন্দু। বর্তমানে বদর মোকামটি নাফ নদী ও সাগর গর্ভে চলে গেছে। এখন সেখানে জেলেরা মাছ আহরন করে ও নৌকা চলাচল করে। এভাবে শাহপরীরদ্বীপের উপর চলছে নাফনদী ও সাগরের প্রকৃতির যুদ্ধ। এ দ্বীপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পাড়া হচ্ছে, দক্ষিণ পাড়া, পশ্চিম পাড়া, জালিয়া পাড়া, মাঝের পাড়া ও উত্তর পাড়া। এসব পাড়া উপকূল সংলগ্ন তাই তারা আজিবন সাগরের প্রকৃতির সাথে লড়াই করে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। শাহপরীরদ্বীপের মানুষ সহজ ও সরল তাই তারা যে সরকার ক্ষমতায় আসে সে সরকারের পাশে দাড়ায়। তাদের একমাত্র দাবী শাহপরীরদ্বীপকে সাগরের ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা। তারা এ আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে বেঁচে আছে। কিন্তু সরকার যায় সরকার আসে, কিন্তু তাদের দাবী ও ভাগ্যের পরিবর্তন আসেনা। বরং উল্টো প্রকৃতি তাদের প্রতিশোধ নিচ্ছে। এ ব্যাপারে কেউ আন্তরিকতার সাথে এগিয়ে আসছেনা। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সরকার ক্ষমতায় আসে। শাহপরীরদ্বীপ নাফনদী ও সাগরের অব্যাহত ভাংগন ঠেকাতে কাজের বিনিময়ে খাদ্য, এডিবি ও বিশ্বব্যাংক খাতে যে পরিমান খাদ্য ও অর্থ বরাদ্ধ দিয়েছিল, তার সিকি পরিমানও ব্যয় করা হয়নি- এমন মন্তব্য করে আসছেন শাহপরীরদ্বীপের সচেতন মানুষ। এসব অর্থ শুধু দলীয় নেতা কর্মী সরকারী আমলা স্থানীয় প্রভাবশালীদের পকেটেই চলে গেছে। যার জন্য এর খেশারত দিতে হচ্ছে, এ জনপদের নির্যাতিত মানুষদের। বর্তমান সরকারের আমলে শাহপরীরদ্বীপ রক্ষার্থে এ পর্যন্ত ৯ কোটি টাকা বরাদ্ধ দিয়েছিল। প্রদত্ত অর্থ দেশ ও জাতীর কোন উপকারে আসেনি। চলতি বছর বর্ষার আগে ভাড়াটে ঠিকাদার আনোয়ার হোসেন তড়িঘড়ি করে উক্ত কাজ সম্পাদন করে চলে যান। এর পর দেখা যায় স্বাভাবিক জোয়ার থেকে নির্মিত বেড়ী বাঁধ রক্ষা পায়নি। শাহপরীরদ্বীপ বেড়ীবাধ নির্মান কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও হারিলুটের কারনে সাগরের পানিতে ভাসছে পুরো দ্বীপবাসী। এমতাবস্থায় শাহপরীরদ্বীপ সাবরাং টেকনাফ ও টেকনাফ পৌর এলাকার জন্য একটি হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রবল বর্ষন ও জোয়ারে শাহপরীরদ্বীপ রক্ষাকারী পশ্চিম পাড়ার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে উপকূলীয় এলাকা জলোচ্ছ্বাসে কবলিত হলে টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ যোগাযোগ রক্ষাকারী ভরারকুল খালের উপর দিয়ে যাওয়ায় সড়কটি পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায়। ফলে শাহপরীরদ্বীপ মূলভূখন্ডের সাথে যোগাযোগ গত ২১ জুলাই থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে শাহপরীরদ্বীপের অধিবাসীরা চরম ভাবে ভোগান্তিতে পড়ে যায় । বিকল্প পথ হিসাবে নৌকা ও সাকো দিয়ে যাতায়ত করছে শাহপরীরদ্বীপের ৩০ হাজার বনিআদম। গত ২৩ জুলাই জেলা বিএনপির সভাপতি ও উখিয়া-টেকনাফ নির্বাচনী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীর গাড়ী বহর নিয়ে শাহপরীরদ্বীপ ক্ষতিগ্রস্থ বেড়ীবাঁধ পরিদর্শনে যান। এ ভয়াবহ দৃশ্য দেখে তিনি এর জন্য বর্তমান সরকারকে দায়ী করেন। শাহপরীরদ্বীপের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকার মানুষের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা ত্রান চায়না, তাদের দাবী একমাত্র মজবুত বেড়ীবাঁধ। দ্বীপের সচেতন মানুষের বক্তব্য- সরকার আসে সরকার চলে যায়, এরপরও দ্বীপ বাসীর প্রত্যাশা পূর্ণ হয়না। রাজনৈতিক দলের নেতারা দ্বীপবাসীর কাছে দেয়া নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি পূরণ না করে প্রতারনা করে যাচ্ছে। এছাড়া টেকনাফ সদর ও পৌর এলাকার জালিয়াপাড়ার নাফ নদীর আড়াই নং স্লুইস গেট বেড়ীবাঁধটি  রক্ষা করা যাচ্ছেনা। নাফনদীর জলোচ্ছ্বাসে ৫টি পাড়া লোনা পানিতে ভাসছে। নাজিরপাড়া, উত্তর জালিয়াপাড়া, দক্ষিণ জালিয়া পাড়া, মৌলবী পাড়া ও জালিয়াপাড়ার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রেজিঃ বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিতে ভাসছে। এতে ৭ শত ছাত্র/ছাত্রী প্রাথমিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব হামিদুর রহমান জানান- টেকনাফ-শাহপরীরদ্বীপ সড়কের এই ভয়াবহ দশা এবং শাহপরীরদ্বীপের ৩০ হাজার বনি আদমের দুর্দশার জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগ দায়ী। এদিকে সড়কের ভাঙ্গণ স্থানে ৬ জন যুবকের একটি দল সাঁকো তৈরী করে দিয়েছে। তারা লোকজন পারাপারের জনপ্রটি ৫টাকা করে নেয়। তবে জোয়ারের সময় এই সাঁকো পানিতে তলিয়ে যায়। তখন পারাপারের মাধ্যম হয় নৌকা। তারা মাথাপিছু ১০ টাকা করে নেয়। ##

১ Comment

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.