টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সাকার ভাগ্য নির্ধারণ চলতি সপ্তাহে !

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ২১৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

saka

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ কয়েকজন নেতার রায় ঘোষণার পর এবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা জাতি। এই মামলার রায় ঘোষণা করা হলে সেটি হবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিএনপির কোন বড় নেতার প্রথম রায়।

চলতি সপ্তাহের যে কোনোদিন  গুরুত্বপূর্ণ এই মামলার রায় ঘোষণা করা হতে পারে বলে ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই মামলাটির রায় ঘোষণা করবেন।

একাত্তরে স্বাধীনতাযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে চট্টগ্রামে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়সহ মুক্তিকামী মানুষের ওপর অমানুষিক নির্যাতন, হত্যা, হিন্দুপাড়ায় গণহত্যাসহ একাধিক অভিযোগে গত ১৪ আগস্ট সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছে।

এরই মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়েছে। এবার সবার জিজ্ঞাসা, সাকা চৌধুরীর রায় কবে? কী আছে তার ভাগ্যে? ট্রাইব্যুনাল ও প্রসিকিউশনের একাধিক সূত্র মতে, এ মামলার রায় হতে পারে চলতি সপ্তাহে।

গত মঙ্গলবার সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চূড়ান্ত রায়ে জামায়াত নেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করার রায় ঘোষণা করা হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এটিই প্রথম কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায়।

এরপরই আপিল বিভাগে জামায়াতের আরও গুরুত্বপূর্ণ চার শীর্ষ নেতার মামলা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে।

সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলায় প্রসিকিউশন আশা করছে চলতি সপ্তাহেই রায় ঘোষণা করা হবে। প্রসিকিউশন বলছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন মর্মে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও যুক্তিতর্কে রাষ্ট্রপক্ষ অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছে। তাই আইন অনুযায়ী তার সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে আশা করেন প্রসিকিউশন।

২০১১ সালের ৩ অক্টোবর বিএনপির এই নেতার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত সংস্থা। একই বছরের ১৮ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের ২৩টি ঘটনায় সাকার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

এতে তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময়  গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ করে গুডস হিলে নির্যাতন, দেশান্তরে বাধ্য করা ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ১৪ মে থেকে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শুরু হয়ে চলতি বছরের ১৩ জুন পর্যন্ত চলে।

এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা নূরুল ইসলামসহ ঘটনা ও জব্দ তালিকার সাক্ষী মিলিয়ে মোট ৪১ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর চার সাক্ষীর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া জবানবন্দিকেই সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

অন্যদিকে সাকা চৌধুরীর পক্ষে তিনি নিজেসহ চার জন সাফাই সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। এরপর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে গত ১৪ আগস্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমান রাখা হয়।

২০১০ সালের ২৬ জুন রাজধানীর মগবাজার এলাকায় গাড়ি ভাঙচুর ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর রাতের অপরাহ্নে গ্রেপ্তার করা হয় সাকা চৌধুরীকে। পরে ১৯ ডিসেম্বর তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে আটক দেখানো হয়।

 

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT