হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

সাইবার মনিটরিং ও পেট্রোলিং করবে পুলিশ

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক:: এই মাত্র পদত্যাগ করলেন র‌্যাবের ডিজি! তাজা খবর, এ কি বলছেন পুলিশ প্রধান। এভাবে ভুয়া ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে দেশি-বিদেশি অসংখ্য পেজ ও অনলাইন পোর্টাল থেকে প্রতিনিয়তই গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল।

অপপ্রচার চালিয়ে বিভিন্ন সামাজিক ও দাবি আদায়ের আন্দোলনকে পুঁজি করে সহিংসতা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। তাই সাইবার দুর্বৃত্তায়ন এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বড় চ্যালেঞ্জ।

সাম্প্রতিক কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনের মতো আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নানা ইস্যুতে গুজব ও অপপ্রচার চালিয়ে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনকে বানচালের যড়যন্ত্র করতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা।

নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব ও রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার রোধে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাইবার অপরাধ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের সচেতন করতে হবে।

গুজব ও অপপ্রচারসহ সাইবার অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অধীনে সাইবার ইউনিট গঠনের অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ফেসবুক, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ওপর নজরদারি আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এর জন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১২১ কোটি টাকা চেয়েছে জননিরাপত্তা বিভাগ।

মূলত সংসদ নির্বাচনের সময়ে নজরদারি বাড়ানো এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণের জন্য ১২১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটির মেয়াদ ধরা হয়েছে চার মাস। নভেম্বর থেকে প্রকল্পটি চলবে আগামী বছরের ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদফতরের (ডিজিএফআই) আইসিটি অবকাঠামো আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। এর জন্য কেনা হবে আধুনিক যন্ত্রপাতি। এর মাধ্যমে ডিজিএফআইয়ের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো, মানবসম্পদ এবং কারিগরি সক্ষমতা বাড়বে।

এজন্য এক হাজার ২৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ডিজিএফআইয়ের সাইবার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা বাড়বে। এর মাধ্যমে অপরাধ ও জঙ্গি কার্যক্রম শনাক্তসহ দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচার, গুজব, মিথ্যা তথ্য, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ, র‌্যাবসহ গোয়েন্দা সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অনেক সামাজিক যোগাযোগ সাইট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। নজরদারি চলছে।

সিআইডির মুখপাত্র বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে কোনো কোনো ব্যক্তি ও গোষ্ঠী গুজব ও অপপ্রচার চালানোর অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সাইবার অপরাধ রোধে সাইবার মনিটরিং ও পেট্রোলিং করছে সিআইডি। ব্যক্তিগত পেজ থেকে অনলাইন পোর্টাল সর্বত্রই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

দেশের সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা বিশ্লেষণ করে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, এজেন্ডাভিত্তিক গুজব ও অপপ্রচার চালাচ্ছে একাধিক স্বার্থান্বেষী মহল। দেশের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও আরব দেশের অসংখ্য সাইট থেকে প্রতিনিয়ত গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

শুক্রবার রাজধানীতে মাদক ও জঙ্গিবিরোধী এক সমাবেশে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, এই মাত্র পদত্যাগ করলেন র‌্যাবের ডিজি। একি বললে, এই মাত্র পাওয়া খবর, তাজা খবর এভাবেই বিদেশে বসে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। গুজব এড়িয়ে চলতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা যুগান্তরকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তিতে ব্যবহৃত ডিভাইসগুলোর রেজিস্ট্রেশন থাকতে হবে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.