হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

কক্সবাজারসাহিত্য

সাংবাদিকেরা চাঁদাবাজ? নাকী চাঁদাবাজরাই সাংবাদিক হয়ে গেছে?

মঈনুল হাসান পলাশ ::::7এক.আজ শুরুটা হয়তো বিরক্তিকর ঠেকবে পাঠকের কাছে। কারণ শুরু করবো নিজের কিছু কথা দিয়ে। তবে নিজের এই কথা আজই শেষ করা যাবে না। আগামীতেও বলা অব্যাহত থাকবে। তাই কেউ বিরক্তবোধ করলে ক্ষমা করে দেয়া ছাড়া গত্যন্তর নেই। কোন্ খেয়ালে সংবাদপত্রে জড়ালাম তার ব্যাখ্যা করতেই নিজের কথা বলা।
বাঙ্গালী মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণের ফ্যাশন হলো কবিতা লেখা। ওই বয়েসে দু’চারটা কবিতা লেখার অভিজ্ঞতা প্রায় সব শিক্ষিত তরুণের থাকে। যেহেতু এই কাব্যচর্চা উদ্দেশ্যহীন, অনেকক্ষেত্রে গুণ-মানহীন, স্রেফ আবেগের বায়বীয় বহিঃপ্রকাশ, সে কারণে এই জাতীয় স্থুল কাব্যচর্চার সহসাই মৃত্যু অবধারিত।
আমি বরাবরই কবিতা জিনিসটাকে অপছন্দ করতাম, এখনো করি এবং করবো। স্কুলে পড়া অবস্থায় লেখালেখির তীব্র তাগিদবোধ করতাম। তখন লেখা ছাপানোর এতো সুযোগ ছিলো না। ফলে প্রথম জীবনে যা লিখেছি, তার প্রায় সবটাই গেছে উইপোকার পেটে। স্কুল জীবনেই জড়িয়ে পড়েছিলাম ছাত্র রাজনীতিতে। সে সময় বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ ওরফে বাকশাল নামের একটা দল ছিলো। ওটা ছিলো প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা আবদুর রাজ্জাকের পদ বঞ্চিত হওয়ার বেদনা হতে জন্ম নেয়া একটি দল। যদিও সে সময় আদর্শে অন্তঃপ্রাণ একটি দল বলে বিশ্বাস করতাম বাকশালকে। এই বাকশালের ছাত্র সংগঠনের নাম ছিলো জাতীয় ছাত্রলীগ। আর জাতীয় ছাত্রলীগের শিশু কিশোর শাখার নাম ছিলো-“আমরা পলাশ”।
১৯৮৮ সালের কথা। আমি তখন কাস টেন এর ছাত্র। “আমরা পলাশ” নামের সেই সংগঠনটির ব্যানারে একটা সংকলন প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলো। অন্য একজনের সাথে আমার উপর দায়িত্ব পড়লো। আনাড়ী হাতের শিশুতোষ একটা গল্প লিখেছিলাম ওই সংকলনে। জীবনে প্রথম নিজের লেখা ছাপার অক্ষরে দেখে অন্যরকম অনুভূতি হয় আমার। লেখাটা ছিলো একদম যা-তা। কিন্তু আপন সন্তান, সে যতো কুৎসিতই হোক, অতি প্রিয় জন্মদাতার কাছে। লেখকের কাছেও নিজের লেখাটি সন্তানতূল্য।
প্রিয় পাঠক, নিজের প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই কিছুটা বিরক্তি হয়তো উৎপাদন করে ফেলেছি। তবে নিজের কথা বলার ব্যাপারটি আজ এখানেই ক্ষান্ত দিলাম। পরের সপ্তায় ফের সেই প্রসঙ্গ টানবো। এবার আজকের লেখার দ্বিতীয় পর্বে যাই।

দুই.
প্রায় মাসখানেক আগে আমার এক প্রাক্তন ছাত্র ফোন করে বললো,“স্যার,অমুক নামের এক সাংবাদিক আছে, আপনি চিনেন?”
আমি বললাম,“এ তো মাত্র কাজ করছে একটা পত্রিকায়। ওই পত্রিকাও কয়েক বছর বয়েসী। তো কী হয়েছে?” জানতে চাইলাম তার কাছে।
সে বলে,“স্যার, বাজারঘাটায় আমার এক আত্মীয়ের ফলের দোকান আছে। এই সাংবাদিক ২ কেজি আপেল নিয়ে টাকা দেয় নি। এতে দোকানদারের সাথে তার খুব কথা কাটাকাটি হয়। পরে সেই সাংবাদিক তার পত্রিকায় আমার আত্মীয়ের বিরুদ্ধে উল্টা-পাল্টা লিখেছে। আমি আপনার পত্রিকায় এর একটা প্রতিবাদ ছাপাতে চাই।”
আমি বললাম,“অসুবিধা নাই, তুমি অফিসে এসো।”
আমার ছাত্রটি পরে আর প্রতিবাদ ছাপাতে আসে নি। তবে কক্সবাজারে সাংবাদিক নামধারী এক শ্রেণীর ভিক্ষুকের এই জাতীয় কর্মকান্ড আমার অজানা নয়। এরা তো সাংবাদিকতার দন্তস্যও জানে না। এরা তা জানবার প্রয়োজনও বোধ করে না। এদের যারা নিয়োগ দেন, তারাও এদের কাছে এমন রিপোর্ট চান, যেনো পরদিন একটা প্রতিবাদ আসে।
নিম্নশ্রেণীর কথিত সাংবাদিকদের দৌড় এইসব ফলের দোকানদার,ভূমি অফিসের বারান্দা,পতিতালয়, মাদকের ডেরা কিংবা থানার কম্পাউন্ড। কিন্তু চাঁদার রেট বেশী এবং তা নেয়ার কৌশলও খান্দানী, এমন বড় সাংবাদিকও কক্সবাজারে আছেন। এরা আবার ভিক্ষুক শ্রেণীর কথিত সংবাদকর্মীদের সহ্য করতে পারেন না। কেনো পারেন না, আমি ঠিক বুঝতে পারি না। হতে পারে, আজকের ফলের দোকানের চাঁদাবাজই হয়তো আগামীতে খাস জায়গা বাগিয়ে নেয়া,সরকারী কাজের লাইসেন্স পাওয়াসহ আরো কিছু ক্ষেত্রে (সঙ্গত কারণে সব বিষয় ব্যাখ্যা করলাম না) পারদর্শী হয়ে “বনেদী” চাঁদাবাজ সাংবাদিককে টেক্কা মারতে পারে। অথবা হয়তো মহৎ (!) দৃষ্টিকোণ থেকে ভিআইপি চাঁদাবাজ সাংবাদিক, ছিঁচকে চাঁদাবাজ সাংবাদিকের উপর বিরক্ত! হয়তো তাদের দুঃখ এই যে,“কেনো ছা-তা-মা-থা খেয়ে আমাদের সস্তা করে দিস! রেইটটা অন্ততঃ ধরে রাখ!”
বেশ কয়েক মাস আগে কক্সবাজারের আওয়ামীলীগ পন্থী ও বিএনপি-জামায়াতপন্থী দু’দল সাংবাদিক একত্রে ঠিক করলেন কক্সবাজার শহরের চাঁদাবাজ সাংবাদিকদের চিহ্নিত করবেন। আমার কাছেও একটা ফরম জাতীয় কাগজ পাঠানো হয়েছিলো। আমি এর কোনো জবাব দেয়ার প্রয়োজন বোধ করি নি। দুটো কারণই করিনি। এক.আমি আমার পত্রিকায় চাঁদাবাজদের সজ্ঞানে লাই দেই না অথবা তারা নিজেরাই আমার সাথে টিকতে পারে না। দুই. যারা ঘটা করে মিটিং করলো চাঁদাবাজ সাংবাদিক চিহ্নিত করবে বলে, তাদের মাঝে কী ভূমিদস্যূ সাংবাদিক নেই? চাঁদাবাজ সাংবাদিক নেই? সিন্ডিকেটবাজ সাংবাদিক নেই? আমার সবার খবরই জানি। তো নিজে করবেন যা, অন্যকে করতে বাধা দেবেন কোন্ নৈতিকতার জোরে?
সাংবাদিকতা আর চাঁদাবাজি ক্রমেই সমার্থক হয়ে পড়ছে। আসলে সাংবাদিকেরা কী চাঁদাবাজ? নাকী চাঁদাবাজরাই এখানে সাংবাদিক হয়ে গেছে? মাত্র কয়েক হাজার টাকার বেতনের একটা চাকরী জোটাবার যার মুরোদ নেই, অথবা যে ভাগ্যের সন্ধানে কক্সবাজার শহরে এসে আর কোনো উপায়ান্তর না দেখে সাংবাদিক হয়েছে,তার যদি চাঁদাবাজির খাসলত থাকে, তবে কোন্ যুক্তিতে তাকে সাংবাদিক বলি? বরং লেবাসধারী ভিক্ষুক বললেই তাকে যোগ্য সম্মান দেয়া হবে !!!
-লেখকঃ সম্পাদক ও প্রশাসক-দৈনিক সমুদ্রকন্ঠ।