হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদফিচার

সাংবাদিকদের কথিত ক্ষমতা!

লেমাহফুজ মিশু : কত মানুষ রোজ ফোন দেয়। রাস্তায় পুলিশ গাড়ি আটকেছে, মোটরসাইকেল ধরেছে, বাড়িতে চুরি, থানায় দ্রুত মামলা করতে চানÑ এ রকম কত বিষয়! শুনেছি বড় বড় পদের নিয়োগ-বদলিতেও নাকি কোনো কোনো সাংবাদিক কর্তাব্যক্তিদের কাছে সুপারিশ করেন। সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়। নিজের পরিচয় দিয়ে মন্ত্রি-সচিব থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছানোর সুযোগ তো সাংবাদিকদের আছেই। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সাথেও সাংবাদিকদের ছবি-সেলফি, বিদেশ ভ্রমণ-পিঠা খাওয়া, কত আন্তরিক যোগাযোগ। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তো কত কথাই বলেন সিনিয়র সাংবাদিকরা। এসব দেখে অনেকেই মনে করেন, সাংবাদিকরা কত্ত ক্ষমতাবান! কত কিছু পারেন।

একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা, নারায়ণগঞ্জের সাত খুন, শিশু রাজন হত্যা থেকে শুরু সৌদি দূতাবাসের খালাফ হত্যা কিংবা ইতালি ও জাপানের নাগরিক খুনÑ কত ইস্যুতে সোচ্চার আমরা। রিপোর্ট করি, ফলোআপ করি, পুলিশ-র‌্যাব-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীÑ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করি। বিশ্বাস করেন, সত্যি সত্যি সাংবাদিকদের ভয় পান অনেক দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-রাজনীতিবিদ। গত দশ বছরের সব অনুসন্ধান সেটি সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের ঘুষ, হলমার্ক কেলেঙ্কারিÑ সবই কিন্তু এদেশের গণমাধ্যম কর্মীদের অবদান। এমনকী বহুল আলোচিত ওয়ান ইলেভেনÑ সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও যেটুকু কথা রাজনীতিবিদরা মুক্তভাবে বলেছেন, বলতে পেরেছেন, তাও গণমাধ্যমের কল্যাণে।

এতো ক্ষমতাধর গণমাধ্যমের মূল ধারার দুজন সংবাদকর্মী সাগর সরোয়ার ও মেহেরুন রুনীকে হত্যা করা হলো চার বছর আগে। নিজ বাড়িতে, বেডরুমে দুজনের মৃতদেহ পাওয়া গেল। তারপর কি তৎপরতা। খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সে সময়ের) আনুষ্ঠানিকভাবে বললেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের ধরা হবে। সত্যি বলছি, পুলিশ চাইলে সেটি খুবই সম্ভব। কিন্তু তা ৪৮ মাস পরও হয়নি। তারপর সে সময়ের পুলিশ প্রধান জানালেন, ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতির’ কথা। তাও দৃশ্যমান হলো না আজও। তারপর পুলিশ থেকে র‌্যাব, ঢাকা মেডিকেল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাবে নমুনা পাঠানো, বড় বড় হেডলাইন, টেলিভিশনের ব্রেকিং নিউজ, টকশোর গরম আলোচনাÑ কত্তকিছু হলো! কিন্তু কেউ ধরা পড়ল না, পড়েনি। আমরা সাংবাদিকরাও কত গল্প লিখলাম। হত্যাকা-ের মধ্যে টাকাপয়সা ও পরকীয়া কত্ত কিছু খুঁজলাম। কিন্তু কারণটা বের করতে পারলাম না। অথচ এই চার বছরে সাগর-রুনীর সন্তান মেঘ আরও বড় হয়েছে। রীতিমতো অনেক কিছু এখন বুঝতে পারে সে। প্রতিবছর ১১ ফেব্রুয়ারি মামার হাত ধরে মা-বাবার কবরে যায় নিষ্পাপ ছেলেটি। আমরা সেটির ছবি তুলি, দুকলম লেখি। এর বেশি কিছ্ইু করতে পারিনি। হায়রে সাংবাদিকতা, হায়রে গণমাধ্যমের ক্ষমতা! শুধু ভাবি, এই ছেলেটি বড় হয়ে যদি কোনোদিন প্রেসক্লাবে গিয়ে সাংবাদিকদের বলে, আমার মাকে কে খুন করেছে? আমার বাবাকে কারা হত্যা করেছে? এর উত্তর দাও। সেদিন কি উত্তর দেব আমরা? মেঘের কাছে ক্ষমা চাওয়া আর নিজেদের অক্ষমতা প্রকাশ করা ছাড়া সেদিন আর কি করার থাকবে আমাদের? আসলে সাংবাদিকদের ক্ষমতা একটা ভ্রান্ত ধারণা বলে মনে হচ্ছে আমার কাছে। যেটুকু খালি চোখে দেখি বা প্র্যাকটিস করছি আমরা, সেটির পেছনে অন্য কারণ, অন্য পরিচয় বা অন্যকিছু থাকতে পারে। কিন্তু আমরা, মানে সাধারণ সংবাদকর্মীরা যে কত অসহায় সাগর-রুনী হত্যাকা- ও তার পরবর্তী ঘটনাক্রম চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল আরেকবার!

ক্ষমা করো সাগর ভাই-রুনী আপা।

লেখক : স্পেশাল করসপন্ডেন্ট, যমুনা টিভি

সম্পাদনা : জব্বার হোসেন

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.