হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদস্বাস্থ্য

সরকারি নির্দেশে এবার ঈদে চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::

শায়লা তাশনুভা। নবীন এই চিকিৎসক ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে। পরিবারের সঙ্গে প্রতিবারই ঈদ কাটতো আনন্দে। তবে সেই সুযোগ এবার নেই।

ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাই স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এবারের ঈদ কাটবে হাসপাতালে।  ডা. শায়লা তাশনুভা বলেন, একজন চিকিৎসকের কাছে রোগীর ভালো থাকাটা আগে। ছুটি বাতিল হওয়াতে তাই আক্ষেপ নেই। কারণ আমি থাকলে হয়তো একজন রোগী উপকৃত হবেন।

‘এমনিতে চিকিৎসকদের ছুটি কম। বছরজুড়ে ব্যস্ততা থাকে। পরিবারকেও সময় দিতে পারে না।  ঈদ এলে তাই আলাদা আনন্দ লাগে। পরিবারের সদস্যরা মিলিত হই। সবাই একসঙ্গে থাকি। তবে এবার সেই সুযোগ হচ্ছে না।’

চমেক হাসপাতাল মেডিসিন বিভাগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীদের বিশেষ ব্যবস্থায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শতাধিক শয্যার ওয়ার্ডটি রোগীতে কানায় কানায় পূর্ণ। অনেকে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। সার্বক্ষণিক ওয়ার্ডে চিকিৎসকরা রাউন্ড দিচ্ছেন। মেডিকেল টিম নিয়মিত কাজ করছে।

মেডিসিন বিভাগের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সহকারি রেজিস্ট্রার ইমন দাশ  বলেন, বিশেষজ্ঞ, মেডিকেল অফিসারসহ প্রায় ৭০ জন চিকিৎসক ওয়ার্ডে কর্মরত আছেন। রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকরা সেবা দেন।

তিনি আরও বলেন, সরকারি নির্দেশে এবার ঈদে ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ফলে নিয়ম অনুযায়ী সবাই দায়িত্ব পালন করবেন।

‘ডেঙ্গু এখন জাতীয় সমস্যা। ইতোমধ্যে অনেকে আক্রান্ত হয়েছে। চট্টগ্রামেও অনেকে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। ফলে এসব রোগী রেখে ছুটি কাটানো অমানবিক। প্রত্যেক চিকিৎসকের স্বার্থকতা রোগীর সুস্থতার ওপর। তাই রোগীদের সুস্থ করে তোলা মূল লক্ষ্য।’

চমেক হাসপাতাল উপ-পরিচালক ডা. আখতারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এজন্য সবাইকে নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।

এদিকে চমেক হাসপাতালের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও কর্মরত চিকিৎসকরা ঈদের সময় দায়িত্ব পালন করবেন।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বাংলানিউজকে বলেন, ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করা লোকজন গ্রামে আসবেন। এ সময় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।

‘প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলাদা ডেঙ্গু কর্নার করা হয়েছে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা ডিউটিতে থাকবেন। পাশাপাশি সরকারি নির্দেশে সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষার জন্য কিটস-রিএজেন্ট মজুদ রাখতে আলাদা বরাদ্দ দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষা সামগ্রী মজুদ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি তদারকিতে সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু থাকবে।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.