টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

সরকারি দপ্তর চলছে অ্যানালগ পদ্ধতিতে

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ৬ জানুয়ারি, ২০১৭
  • ৪৩৩ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::: সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নানা উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকারি দপ্তরের অধিকাংশ কাজ এখনো সেই মান্ধাতা আমলের অ্যানালগ পদ্ধতিতে চলছে। এই পদ্ধতির যে কী জ্বালা, তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন। অ্যানালগ পদ্ধতির খপ্পরে পড়লে কৃষ্ণচন্দ্র মজুমদারের সেই কবিতার কথা স্মরণ হয়, ‘কি যাতনা বিষে, বুঝিবে সে কিসে, কভু আশীবিষে দংশেনি যারে?’
সত্যি বলছি, এই অভিজ্ঞতা না হলে বুঝতাম না জ্বালাটা ঠিক কেমন!
আজকের ডিজিটাল যুগে এসএসসি সনদের নামের বানান ভুল বা অন্য কিছু সংশোধন করতে হলে কী করতে হবে, প্রথমে তার ফিরিস্তি দিই—আপনাকে বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফরম ডাউনলোড করতে হবে; স্কুলে এই ফরম পাওয়া যাবে না। ফলে আপনি এটি আগে না জানলে স্কুলে আসার পর আবার বাইরে গিয়ে কোনো দোকান থেকে ফরমটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট নিতে হবে। এরপর আদালতে গিয়ে আপনি কেন এটা করতে চান, সেই মর্মে ২০০ টাকার রাজস্ব স্ট্যাম্পে অ্যাফিডেভিট করতে হবে। সংশোধন বাবদ ব্যাংকে ৫০০ টাকা জমা দিতে হবে। এরপর ফরমটি পূরণ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর নিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে। এসব হয়ে গেলে ফরমসহ সব কাগজপত্র বোর্ডে জমা দিতে হবে। এরপর বোর্ড কত দিন লাগাবে, তা বলা মুশকিল।
এখন ধরুন, আপনি এখন ঢাকায় থাকেন, আর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছিলেন রাজশাহী বোর্ডের সিরাজগঞ্জের কোনো স্কুল থেকে; তাহলে এ কাজ করতে আপনাকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ ও তারপর রাজশাহী যেতে হবে। এতে যাওয়া-আসা, থাকা-খাওয়া, ব্যাংক ফি, রাজস্ব স্ট্যাম্প ও বিজ্ঞাপন বাবদ বেশ মোটা অঙ্কের টাকাই খরচ হবে, ভোগান্তির কথা আর না-ই বা বললাম।
আজকের ডিজিটাল যুগে দাপ্তরিক কাজের জন্য এত সময় লাগা সমীচীন নয়। এখন তো সবার জাতীয় পরিচয়পত্র আছে, এর ভিত্তিতে ব্যাপারটা পুরোপুরি ডিজিটাল বা অনলাইনভিত্তিক করে ফেলা সম্ভব। কেউ যদি অসৎ উদ্দেশ্যে তা করতে চায়, তাহলেও তাকে শনাক্ত করা সম্ভব। এ ছাড়া মোবাইল ফোন রি-রেজিস্ট্রেশনের ফলে আমাদের সবার আঙুলের ছাপ ফোন কোম্পানির কাছে সংরক্ষিত আছে। এখন আবার স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়া হচ্ছে, তার জন্য সবার চোখের মণির ছাপ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের কাছে যখন জনগণের এত তথ্য আছে, তখন এসব প্রক্রিয়া অনায়াসে আরও সহজ করা যায়।
কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রচণ্ড অভাব রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, সরকার এখন ই-টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করেছে; ভূমি ব্যবস্থাপনা ডিজিটাইজেশনের কাজ চলছে, কিন্তু এই কাজটি এখনো মান্ধাতার আমলের নিয়মে চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ কথা হয়তো কোনো দিন ভাবেননি, এ ব্যাপারটি কীভাবে সহজ-সরল করা যায়। আবার এর সঙ্গে যেহেতু আইনের সম্পর্ক আছে, তাই আইন মন্ত্রণালয়েরও ভেবে দেখা উচিত, অ্যাফিডেভিট-প্রক্রিয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে অনলাইন করা যায় কি না। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের জনপ্রশাসন এখনো সামগ্রিকভাবে জনবান্ধব হয়নি, যদিও অনেকে ব্যক্তিগত উদ্যোগে তেমন চেষ্টা করছেন। কিন্তু এসব যথেষ্ট নয়।
মোদ্দাকথা হলো, এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া আজকের গতিশীল পৃথিবীর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মানুষের হাতে সময় কম, তাকে নানামুখী কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। দেশের প্রবৃদ্ধির জন্য এর দরকারও আছে। তাই সরকারের উচিত এসব দাপ্তরিক কাজ আরও সহজ করে দেওয়া। অন্যথায় আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ হওয়া ব্যাহত হবে।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT