হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়ফিচার

সরকারি ইউরিয়া সারে বস্তায় ৩-৫ কেজি কম

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক :: চট্টগ্রামের আনোয়ারাস্থ বিসিআইসির গুদাম থেকে দুইমাসে বরাদ্দের ২৩শ’ ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উত্তোলন করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ২০জন সারের ডিলার। সরকারিভাবে সৌদিআরব থেকে আমদানি চুক্তিতে আনা এসব ইউরিয়া সার উত্তোলন করে গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুই দফায় ব্যাপক ওজন কারচুপির শিকার হয়েছেন ডিলাররা। ডিলারদের দাবি, ওজনে কারচুপির মাধ্যমে দুইমাসে বরাদ্দের ২৩শ’ ৫০ মেট্রিক টন থেকে অন্তত দুইশত মেট্রিক টন সার কম দেয়া হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিসিআইসির সরকারি গুদাম ভিত্তিক সিন্ডিকেটচক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ৫০ কেজির প্রতিবস্তা থেকে কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাত কেজি ইউরিয়া সার হাতিয়ে নিয়েছে। ইতোমধ্যে উপজেলার বেশিরভাগ ডিলারের গুদামে মজুদ করা এসব সার পরিমাপ করতে গিয়ে ওজন কারচুপির ঘটনাটি ধরা পড়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ। তিনি বলেন, ‘উপজেলার ২০জন ডিলারের অনুকূলে গত জানুয়ারি মাসে ১২শ’ মেট্রিক টন ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১১শ’ ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেয়া হয়। অনুমতিপত্র সংগ্রহের পর ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ডিলাররা চট্টগ্রামের আনোয়ারাস্থ বিসিআইসির সরকারি গুদাম থেকে এসব ইউরিয়া সার উত্তোলন করেছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারি মাসে উত্তোলনের পর ডিলাররা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের খুচরা বিক্রেতাদের মাধ্যমে এবং নিজেদের প্রতিষ্ঠান থেকে কৃষকের মাঝে বেশিরভাগ বিক্রি করে দিয়েছেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসে চকরিয়া উপজেলার সার ডিলার মেসার্স জহির অ্যান্ড সন্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা সন্দেহজনক মনে হওয়ায় উত্তোলনকৃত ইউরিয়া সারের বস্তা পরিমাপ করেন। তাতে দেখা যায় একটি বস্তায় পাঁচ থেকে সাত কেজি সার কম রয়েছে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এ ঘটনার পর উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ও সংশ্লিষ্ট এলাকার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে উপজেলার ২০জন ডিলারের গুদামে থাকা এসব ইউরিয়া সার পরিমাপ করা হয়। এতে বেশির ভাগ ডিলারের কাছে রক্ষিত সারের বস্তায় ওজনে কারচুপির ঘটনাটি ধরা পড়ে। ইতোমধ্যে ঘটনাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কক্সবাজারের উপ-পরিচালক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে।’ আরো যাচাই-বাছাই করে তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি চট্টগ্রামস্থ বিসিআইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে লিখিতভাবে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
উপজেলা বিসিআইসির সার ডিলার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল কাদের সোহেল বলেন, ‘উত্তোলনকৃত এসব ইউরিয়া সার আমদানি চুক্তির আওতায় সরকারিভাবে সৌদি আরব থেকে আনা হয়। জানুয়ারি মাসে উত্তোলন করা সারের বস্তায় ডিলারদের অগোচরে কারচুপির বিষয়টি ধরা পড়েনি। তবে ফেব্রুয়ারি মাসে ব্যাপক ওজন কারচুপির শিকার হয়েছেন ডিলাররা। এতে বেশিরভাগ ডিলার আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘উত্তোলনকৃত এসব ইউরিয়া সার বিক্রি করে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ তুলে অনেক স্থানে উল্টো কৃষকরা বিক্রেতাদের সাথে সংঘাতের লিপ্ত হয়েছে।’
চকরিয়া উপজেলার ডিলাররা অভিযোগ করেছেন, আমদানির পর ইউরিয়া সারগুলো চট্টগ্রামের আনোয়ারাস্থ বিসিআইসির সরকারি গুদামে মজুদ করা হয়। এরপর কৌশলে গুদাম ভিত্তিক সিন্ডিকেট চক্র জালিয়াতির মাধ্যমে ৫০ কেজির প্রতিবস্তা থেকে কমপক্ষে পাঁচ থেকে সাত কেজি ইউরিয়া সার হাতিয়ে নিয়েছে। কিছু কিছু বস্তায় দুই থেকে তিন কেজি কম পাওয়া গেছে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরউদ্দিন মুহাম্মদ শিবলী নোমান বলেন, বিসিআইসি থেকে উত্তোলনকৃত ইউরিয়া সারে ওজনে কারচুপির ঘটনাটি ইতোমধ্যে আমাকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অবহিত করেছেন। তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে যাতে এ ধরণের ঘটনা না ঘটে এবং সংগঠিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ক্ষতিপূরণ নিশ্চিতে বিষয়টি কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপর মহলকে জানানো হবে।’

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.