টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

সভাপতি-সাধারন সম্পাদকের দুই পরিবারের ৮ জন সদস্য : টেকনাফ উপজেলা আ’লীগের খসড়া পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : শনিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৩
  • ১০০ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

সমুদ্রকণ্ঠ ॥ টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের খসড়া উপজেলা পুর্নাঙ্গ কমিটি নিয়ে নেতা কর্মীদের মাঝে চরম ােভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর জেলা আওয়ামী লীগ বরাবরে অনুমোদনের জন্য পাঠানো এ কমিটিতে স্থান হয়নি উপজেলা পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের।
প্রস্তাবিত কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকের পরিবারের ছয়জনকে। আবার কমিটিতে ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির সভাপতি, সাধারন সম্পাদকদের সদস্য করা না হলেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের। এছাড়া টেকনাফের বিতর্কিত এক জামায়াত নেতার সাথে আত্মীয়তায় আবদ্ধ এবং ঘনিষ্ট পৌর শাখার এক সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকে দেওয়া হয়েছে খুবই গুরুত্বপূর্ন একটি পদ। এতে দলীয় দলীয় গুরুত্বপূর্ন সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন তথ্য জামায়াত শিবিরের হাতে চলে যাওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। কমিটিতে সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আলীর দুই ছেলে ও বেয়াই এক নাতিসহ ৫ জন অপরদিকে সাধারন সম্পাদক নুরুল বশরের স্ত্রী ও চাচাত ভাই সহ ৩ জন কমিটির সদস্য রাখা হয়েছে। অথচ আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মকান্ডে তারা কখনো সম্পৃক্ত ছিলনা। এভাবে স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে কমিটি সাজানো হলেও স্থান হয়নি দলের অনেক পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের। আবার বিগত কমিটির অনেক সক্রিয় নেতাদের কমিটিতে সদস্য করা হলেও পদ বঞ্চিত করা হয়েছে। এভাবে দলীয় কর্মকান্ডে ত্যাগী ও পরীক্ষিত হলেও পুরস্কারের বদলে জুটেছে তিরস্কার। এনিয়ে টেকনাফে দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
সভাপতি সম্পাদকের স্বাক্ষরিত ওই কমিটিতে সভাপতির বেয়াই সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা জাফর আহমদ সহ-সভাপতি, ছেলে মাহবুব মোর্শেদ যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, রাশেদ মাহমুদ আলীকে সদস্য ও নাতি মিজানুর রহমানকে বিজ্ঞান ও প্রযু্িক্ত বিষয়ক সম্পাদক করা হয়। সাধারন সম্পাদক নুরুল বশরের পরিবার কক্সবাজার বসবাস করলেও তাঁর স্ত্রীকে করা হয়েছে মহিলা সম্পাদিকা ও চাচাত ভাই আব্দুল হককে করা হয়েছে সদস্য। পাশাপাশি উড়ে এসে জুড়ে বসানো হয়েছে ইউনিয়ন কমিটিতেও ছিলনা এমন নেতা গোলাম সোবহান, মোস্তাকসহ অনেককে।
আবার জেলা ও উপজেলা যুবলীগের দায়িত্বশীল নেতাদের স্থান দেওয়া হয়েছে কমিটিতে। এতে সাবেক কমিটির সভাপতি জাফর আলম চৌধুরী ২নং সদস্য ও সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান বদি ১নং সদস্য, সহ-সভাপতি নাজির হোসেন চৌধুরী ৫নং সদস্য করে ডিমোশন করে দেওয়া হয়েছে। সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি নাজির হোসেন চৌধুরী বলেন, আমি সুস্থ মানুষকে প্যারালাইসিস হিসাবে অপবাদ দিয়ে আওয়ামীলীগের কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে তৈরীকৃত ওই কমিটিকে তিনি স্বজনপ্রীতির এক নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন। আওয়ামীলীগের মতো একটি গণমূখী সংগঠনে যা কোন মতেই কাম্য নই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামীলীগ নেতা ওই কমিটিকে ‘বাপ-বেটার’ কমিটি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। সাবেক কমিটির সভাপতি জাফর আলম চৌধুরীর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এসব অনিয়মের কারনে ইতিমধ্যে সকল ইউনিয়ন ও পৌর কমিটির সভাপতি সাধারন সম্পাদক জেলা সভাপতি বরাবরে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। নেতা-কর্মীরা এ কমিটি পরিবর্তন করে ত্যাগী ও যোগ্যদের নিয়ে কমিটি গঠনের দাবী জানিয়েছেন।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT