টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফ সমিতি ইউএই’র নতুন কমিটি গঠিতঃ ড. সালাম সভাপতি -শাহ জাহান সম্পাদক বৌ পেটানো ঠিক মনে করেন এখানকার ৮৩ শতাংশ নারী ইউপি চেয়ারম্যান হলেন তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু টেকনাফে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারের আর্তনাদ: সওতুলহেরা সোসাইটির ত্রান বিতরণ করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর বিধি, জনসমাবেশ সীমিত করার সুপারিশ হেফাজত মহাসচিব লাইফ সাপোর্টে জাদিমোরার রফিক ৫ কোটি টাকার আইসসহ গ্রেপ্তার মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ: বিপাকে করিডোর ব্যবসায়ীরা টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা বাহারছরা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা

সন্ধ্যার পর ‘মাদকরাজ্য’

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০১৬
  • ৯৬ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

চার ধরনের ভবনে ৬৫৮টি বাসা নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেশ বড় এক আবাসিক এলাকার নাম শেরেবাংলা নগর সিজিএস স্টাফ কোয়ার্টার। অবশ্য আগারগাঁও কলোনি নামেই এটি বেশি পরিচিত। এর ভেতরে যতটুকু জমিতে ভবন রয়েছে, ফাঁকা পড়ে আছে তার কয়েকগুণ বেশি। এ কারণেই হয়তো বাইরের লোকজনের এখানে আসার আগ্রহ বেশি। চারপাশে সীমানা প্রাচীর বা নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা না থাকায় তারা যখন খুশি ঢুকছেন, বের হচ্ছেন। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর কলোনির ফাঁকা স্থানগুলো হয়ে উঠছে মাদক সেবনের নিরাপদ স্পট। নানারকম মাদক বিক্রিও হচ্ছে এসব স্পটে। ঘটছে অসামাজিক কার্যকলাপ। কলোনির বাসিন্দারা জানালেন, নিরাপত্তার অভাবই তাদের প্রধান সমস্যা। এর পাশাপাশি বরাদ্দ পাওয়া বাসায় ও সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর তুলে ভাড়া দেওয়া যেন কলোনির নিয়মে পরিণত হয়েছে।
শেরেবাংলা নগর সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুর রহমান সমকালকে বলেন, কলোনির সীমানা প্রাচীর দেওয়া জরুরি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন। বহুদিনের পুরনো ভবনগুলোও বসবাসের পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পুরো কলোনিতে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, বারবার বলেও সেগুলো পরিষ্কার করানো যাচ্ছে না। দিনের পর দিন অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে এভাবেই বসবাস করছেন সবাই। এর বাইরে পানি ও গ্যাসের সংকট তো রয়েছেই।
সরেজমিনে দেখা গেল, পরিকল্পনা কমিশনের পেছন থেকে আগারগাঁও-শিশুমেলা সংযোগ সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত এ কলোনি। এর এক পাশে মিরপুরমুখী সড়ক, অন্য পাশে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও র‌্যাব-২ এর কার্যালয়। অদূরেই শেরেবাংলা নগর থানা। তারপরও এখানকার মানুষ ভোগেন নিরাপত্তাহীনতায়। কলোনিতে ‘এফ’ ও ‘ই’ টাইপ ভবনে বাসার সংখ্যা ২৫৯। ‘এইচ’ টাইপ ভবনে ১৬৯ ও ‘জি’ টাইপ ভবনে ২৩০টি বাসা রয়েছে। প্রায় প্রত্যেক বাসিন্দাই সামনে বা পেছনে অতিরিক্ত একটি-দুটি করে আধাপাকা ঘর নির্মাণ করেছেন। সেগুলো বহিরাগতদের ভাড়া দিয়ে রাখা হয়েছে। অবশ্য ভাড়া দেওয়ার বিষয়ে এখানে রয়েছে কিছু রাখঢাক। অন্যান্য কলোনির মতো সর্বত্র ‘টু-লেট’ নোটিশ টাঙানো নেই। হঠাৎ কোথাও দু-একটি নোটিশ দেখা যায়। আর বেশিরভাগ বাসা ভাড়ার খবর থাকে কলোনির ভেতরের দোকানিদের কাছে। লোকজনও দোকানে গিয়েই জিজ্ঞাসা করেন, ‘বাসা ভাড়া পাওয়া যাবে?’ দোকানি মোবাইল ফোন ও ভবনের নম্বর জানিয়ে দেন। এ পদ্ধতিতেই যাওয়া হলো জি-৬৯ নম্বর বাসায়। জরিপ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম এখানে থাকেন। তবে তাকে বাসায় পাওয়া গেল না। তার স্ত্রী জানালেন, নিচতলার একটি ঘর ভাড়া দেওয়া হবে। ভাড়া সাড়ে চার হাজার টাকা। বড় আরও একটি ঘর ভাড়া দেওয়া আছে।
একে একে আরও কিছু বাসার খোঁজ মিলল। জি-৪৩ বাসায় একটি ঘরের ভাড়া চাওয়া হলো পাঁচ হাজার টাকা। অপর ঘরের ভাড়াটে ঘরটি দেখালেন। মোবাইল ফোনে মোস্তাফিজুর রহমান নামে একজন জানালেন, বাসাটি তার নামে বরাদ্দ। তিনি জাতীয় সংসদে চাকরি করেন। তবে তিনি আপাতত এ বাসায় থাকেন না বলে ভাড়া দিয়েছেন। এফ-৪৪ বাসাতেও একটি বড় ঘর ভাড়া দেওয়া হবে। সংসদেরই আরেক কর্মকর্তা শহিদুল আলমের নামে বাসাটি বরাদ্দ। তিনি জানালেন, ভাড়া সব মিলিয়ে ১০ হাজার টাকা। একটি নোটিশের সূত্র ধরে জানা গেল, ১৬ নম্বর ব্লকের জি-৭ নম্বর বাসায় ঘর ভাড়া হবে। বাসার বরাদ্দ পাওয়া স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা অসীম কুমার দাশ জানালেন, মূল বাসা নয়, সরকারি জমিতে তার তোলা টিনশেড ঘর ভাড়া দেওয়া হবে। এজন্য আলাদা বাথরুমও তিনি নির্মাণ করেছেন। ভাড়া দিতে হবে চার হাজার টাকা। এভাবে তোলা কিছু টিনের ঘর মেস হিসেবেও ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
এদিকে অরক্ষিত কলোনিতে রয়েছে বেশ কয়েকটি মাদক স্পট। সন্ধ্যার পর লেডিস পার্ক, ফোরকানিয়া মাদ্রাসার পাশের মাঠ, বালিকা বিদ্যালয়, ই ও এফ টাইপ ভবনের পাশের মাঠসহ নিরিবিলি বিভিন্ন পয়েন্টে অবাধেই চলে মাদক সেবন। ইয়াবা, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিলের মতো মাদক এসব স্থানে প্রতিদিনই সেবন করতে দেখেন বলে জানালেন বাসিন্দারা। মাদক বিক্রিও হয় স্পটেই। মাদকসেবী ও বিক্রেতারা বাইরে থেকে আসে বলে দাবি করা হলেও কলোনির বাসিন্দা তরুণ-যুবাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রয়েছে বলে স্বীকার করলেন স্থানীয়রা। ‘এফ’ ও ‘জি’ টাইপ ভবনের একাধিক বাসিন্দা জানালেন, রাতে ফাঁকা মাঠে পেশাদার যৌনকর্মীদের বিচরণ থাকে। সেখানেই হয় অসামাজিক কার্যকলাপ। তবে মাদকসেবী, ব্যবসায়ী ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িতদের বাধা দেওয়ার সাহস করেন না কেউ। কল্যাণ সমিতির নেতারা এ পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে সমকালকে বলেন, নিরাপত্তামূলক কোনো ব্যবস্থা তারা নিশ্চিত করতে পারেননি। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এতে নজর দিচ্ছেন না। এরপরও মাঝে মধ্যে তারা বহিরাগতদের ধাওয়া দিয়ে বের করে দেন। কিন্তু সবাই নিজের নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে এ নিয়ে খুব একটা উচ্চবাচ্য করেন না।
শেরেবাংলা নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মুন্সী সাবি্বর আহমেদ সমকালের কাছে দাবি করেন, কলোনির পরিবেশ খুবই শান্তিপূর্ণ। সেখানে নিয়মিত পুলিশ টহল দেয়। মাদক ব্যবসা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো অভিযোগ পুলিশ পায়নি। কেউ অভিযোগ জানালে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গেল, কলোনির ৬৫৮টি বাসায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকেন। অবশ্য ভাড়াটে হিসেবে এর বাইরে বিভিন্ন পেশার কিছু লোকও থাকেন।কল্যাণ সমিতির কেয়ারটেকার আবুল হোসেন সমকালকে বলেন, ১৯৬৫ সালের দিকে কলোনির ভবনগুলো তৈরি করা হয়। মাঝে মাঝে সংস্কার হলেও সেগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই ঝুঁকি নিয়ে বাস করছে মানুষ।কলোনি ঘুরে দেখা গেল, স্থাপনাবিহীন ফাঁকা স্থানগুলোকে শেষ পর্যন্ত ‘ফাঁকা’ রাখেননি বাসিন্দারা। সেগুলো ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। স্থানে স্থানে আবর্জনার স্তূপ আর অযত্ন-অবহেলায় পুরো কলোনি শ্রীহীন হয়ে পড়েছে। ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় সেগুলো দিয়ে বর্জ্য অপসারণ হচ্ছে না। এসব ড্রেন থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কলোনিতে প্রচুর ফাঁকা জায়গা থাকার কারণে যে যার মতো করে দখল করেছেন। এখানে-সেখানে প্রচুর দোকানপাট-গ্যারেজ অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে। বড় মসজিদের পাশে দেখা গেল এমন কিছু দোকানপাট। আগারগাঁও পাকা মার্কেটের সামনে রয়েছে রিকশার গ্যারেজ। পাশেই ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কার্যালয়।
কলোনির বাসিন্দা ও কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা যায়, অন্যান্য স্থানের মতো এখানেও পানি ও গ্যাসের সংকট তীব্র। পানি সংকট মেটাতে বছরখানেক আগে কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন পাম্প বসানো হয়। কিন্তু ভূ-গর্ভের সঠিক স্তর পর্যন্ত পাইপ না পেঁৗছায় ভালো পানি পাওয়া যায়নি। পানিতে লোহার (আয়রন) পরিমাণ বেশি থাকায় সেই পানি ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই ওই পাম্প বন্ধ রেখে পুরনো পাম্পটিই আবার চালু করা হয়। এটির পানি ভালো হলেও তা পরিমাণে কম ওঠে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মফিজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ভবনগুলো অনেক আগে তৈরি হওয়ায় কিছু সমস্যা রয়েছে। তবে নিয়মিত সংস্কারের মাধ্যমে এগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখার চেষ্টা করা হয়। পাশাপাশি পুরনো ভবন ভেঙে ছয় হাজার ৭২০টি নতুন ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ পেলে এর কাজ শুরু হবে।
বরাদ্দ পাওয়া বাসা ভাড়া দেওয়া ও কলোনির জমিতে ঘর তোলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে ঘর তোলার বা ভাড়া দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। অবৈধ ঘরগুলো বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT