হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

বিশেষ সংবাদসাহিত্য

সংসদে দাঁড়াইয়া ‘চুদুর-বুদুর’ কথা, যার মনে যা ফাল দিয়া ওঠে তা

 

 

Untitled-1 copyহারুনুর রশিদ আরজু : লেখকঃ কলামিস্ট, আবৃত্তিকার ও নজরুল গবেষক :-  সম্প্রতি বৃহত্তম নোয়াখালী অঞ্চলের একটি বিখ্যাত এবং বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় শব্দ ‘চুদুর-বুদুর’ সারাদেশে আলোচনার ঝড় তুলিয়াছে। আঞ্চলিক শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করায় তাহা দাউ দাউ করিয়া জ্বলিয়া উঠিলো। তাই ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দটি প্রচার আন্দোলনে রেহানা আক্তার রানুর বিশেষ অবদান ফেনীবাসী চিরদিন স্মরণ করিবে। নোয়াখালী অঞ্চলের ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দটি শেষ পর্যন্ত দেশের জাতীয় সংসদেও প্রবেশ করিয়াছে। গত ০৯ জুন জাতীয় সংসদে সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় বিএনপির সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘‘শোনা যাচ্ছে, -বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান হবেন। আর বাতাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে- স্পিকারকে নাকি নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধান করা হবে। তো আমি আমার ফেনীর ভাষায় বলতে চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার লইয়া কোনো ‘চুদুর-বুদুর’ চইলতো ন। ছাত্রলীগের কর্মীরা বিশ্বজিৎকে কুপিয়ে কুপিয়ে হত্যা করার পর প্রধানমন্ত্রী তাকে দেখতে যায়নি। কিন্তু নাস্তিক ব্লগার রাজীবের মৃত্যুর পর তিনি তার বাসায় গিয়েছেন। এ থেকেই প্রমাণ হয় প্রধানমন্ত্রী নাস্তিকদের উস্কানিদাতা। কী বলিবো বাজেটের কথা? মনে আজ বড় ব্যথা। এই বাজেট একটি সুন্দর ছলনাময়ী নারীর মতো। এই বাজেটে সুন্দর সুন্দর কথা, সুন্দর সুন্দর ছলনা, সবই প্রতারণা, সবই ধোঁকাবাজি। বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টরেট ডিগ্রিধারী। উনার পিএইচডির বিষয় হচ্ছে ‘খাল খনন’। ম-তে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুই রাজাকার, তুই রাজাকার- এটি আমার কথা নয়। এটি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কথা। কালো বিড়াল-তুই বেটা চোর, তুই বেটা চোর-এটিও আমার কথা নয়। এটি বিশিষ্ট সাংবাদিক এবিএম মুসার কথা। এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একবার সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন- ১/১১’র সরকার উনাকে (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) গ্রেপ্তার করে গরম ডিম ঢুকিয়ে উনাকে নির্যাতন করেছিল। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চাই- যারা আপনাকে গরম ডিম ঢুকিয়ে নির্যাতন করলো তাদের বিচার না করে আপনি কেন বিএনপির নিরীহ নেতাদের নির্যাতন করছেন। আপনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) যদি সরকারি চাকরি করতেন, তাহলে কী করে আপনি ৪০০ কোটি টাকার মালিক হলেন? বাংলাদেশের মানুষ এটি জানতে চায়।’’ রানুর এই লম্বা বক্তৃতায় অনেক কথা থাকিলেও কেবল ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দটি সকলের মনে দাগ কাটিয়াছে। রীতিমত সংসদ উত্তপ্ত হইয়া উঠে। সরকারি দলের হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, ‘‘চুদুর-বুদুর অশ্লীল কথা, অশোভন। কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হোক।’’ এমনকি তিনি রেহানা আক্তার রানুর বক্তব্যের ভাষাকে ‘নিষিদ্ধ পল্লীর’ ভাষার সঙ্গেও তুলনা করেন। এমপিদের অশালীন ও অসংসদীয় ভাষা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে রুলিং দেন । তিনি বলেন, ‘‘কার্যপ্রণালী বিধির ৩৬০ অনুযায়ী রেহানা আক্তার রানুর বক্তব্য পরীা করা হবে। বিধিবহির্ভূত ও অসংসদীয় ভাষা পাওয়া গেলে তা এক্সপাঞ্জ করা হবে।’’ চিন্তার কথা হইলো এই ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দটি অশ্লীল ধারণা করিয়া সরকারী দলের মাননীয় সদস্যগণ ইহাতে বড়ই অস্থির বোধ করিতেছেন। তাহারা যেসকল শব্দ বলিতে বা শুনিতে অভ্যস্ত তাহাতে মনে হইয়াছে ‘চুদুর-বুদুর’ অশ্লীল শব্দ। এই শব্দটির শুরুতে ‘চুদু’ আছে। চুদু অন্য একটি অশ্লীল শব্দ উচ্চারণ করিতে ব্যবহার করিতে হয়। তাই কানের কাছে ‘চু’ উচ্চারণের সাথে সাথে আর বুঝিতে বাকী নাই যে চুদুর-বুদুরও সেই জাতীয় অশ্লীল শব্দ হইবে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি গোলাম মাওলা রনি ‘মারাত্মকভাবে গণেশ উল্টানোর নেপথ্যের কারণ’ শীর্ষক কলামে উল্লেখ করেন,‘‘গনেশ যে উল্টে যাবে তা আমি বুঝেছিলাম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশ নির্বাচনের অন্তত ১০দিন পূর্বেই। মহিউদ্দীন চৌধরী নিজেও বুঝেছিলেন যে, তিনি পরাজিত হবেন। তিনি আমার পাশে বসা জনৈক সিনিয়র নেতাকে উদ্দেশ্য করে ফিসফিসয়ে বললেন, ঐ যে চুদির পুত বসে আছে; বসে বসে আমার পু…মারছে।’’ এখানে ব্যবহৃত ‘চুদির পুত’ শব্দটি অশ্লীল এবং ইহা গালি দিতে ব্যবহার করা হয়। ইহা স্বাভাবিক যে এক দেশ বা এলাকার ভাষা অন্য দেশ বা এলাকায় ভিন্ন অর্থ কিংবা গালি হইয়া যায়। যেমন ভারতে হিন্দি ভাষায় মাথার চুলকে ‘বাল’ বলে। কিন্তু আমাদের দেশে বাংলা ভাষায় ইহার অর্থ অত্যন্ত অশ্লীল শুনায়। উদাহরণ হিসেবে একটা কৌতুক বলিতে হয়। কাসে ছাত্রকে শিক্ষক কহিলেন, বলতো হে- স্থান ভেদে ভিন্ন ভিন্ন নাম হয় এমন একটা জিনিসের নাম বলো। ছাত্র উত্তরে কহিলো- স্যার, এই যেমন ধরেন চুল। মাথায় থাকলে চুল, আর একটু নিচে নামেন ঠোঁটে থাকলে গোঁফ, আর একটু নিচে নামেন গালে থাকলে দাড়ি, আর একটু নিচে নামেন বুকে থাকলে পশম, আর একটু নিচে নামেন….। শিক্ষক ছাত্রকে থামাইয়া কহিলেন, আর নিচে নামিশ না বাপ। কী কহিবো এই ‘চুদুর-বুদুর’ শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়া ইহা এখন ভারতেও প্রবেশ করিয়াছে। ভারত হইতে সব কিছু আমদানী করা আমাদের স্বভাব। এমনকি ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দটির অর্থও তরজমা করিতে হইয়াছে ভারতের পন্ডিতদের দিয়া। ভারতের ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকাতো আমাদের বিষয়ে নাক গলাইবার জন্য একপায়ে খাঁড়া। আমাদের দেশের সরকার দলীয় মন্ত্রী-এমপিদের হৈচৈ শুনিয়া তাড়াতাড়ি ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দে অশ্লীলতা নাই মর্মে সার্টিফিকেট দিলো তবে এই সুযোগে রেহানা আক্তার রানুকে বাঁশও দিয়া দিলো। গত ১২ই জুন কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকায় রানুর ‘চুদুর-বুদুর’ বক্তব্য লইয়া ‘চুদুর-বুদুর গালি কি, বাংলাদেশে সংসদ উত্তাল’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পাঠকদের মনের পরিতৃপ্তির জন্য প্রতিবেদনটি হুবহু তুলিয়া ধরা হইলো ঃ‘‘চুদুরবুদুর গালাগালি নয়। তবুও বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ উত্তাল হল এই একটি শব্দে। শ্লীল না অশ্লীল, তা নিয়ে দীর্ঘ বাদানুবাদ। তবু ফয়সালা হয়নি। শেষ পর্যন্ত স্পিকার শিরিন শারমিন নির্দেশ দিয়েছেন, চুদুরবুদুর-এর ঠিকুজি-কুলুজি পরীা করে দেখা হবে। শব্দটি অশ্লীল হলে কার্যবিবরণী থেকে বাদ যাবে, না হলে নয়। বাংলাদেশে তো বটেই, এ বাংলাতেও লঘু আড্ডায় চুদুরবুদুর আদৌ অপরিচিত শব্দ নয়। কলকাতার ভাষাবিদ পবিত্র সরকার বা ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলার অধ্যাপক নির্মল দাস, দু’জনেরই অভিমত চুদুরবুদুর গ্রাম্য শব্দ, অশ্লীল কিছুতেই নয়। অর্থ বাড়াবাড়ি করা বা গড়িমসি করা। অভিধান বলছে, বাংলাদেশের একটা গ্রাম্য খেলারও নাম চুদুরবুদুর। বিরোধী বিএনপি সাংসদ রেহানা আখতারের মুখ এমনিতেই বেশ লাগামছাড়া। সরকারকে আক্রমণ করতে তিনি যে সব বাছা বাছা শব্দের তির ছোড়েন, তার একটা বড় অংশই পরে কার্যবিবরণী থেকে মুছে ফেলতে হয়। রবিবারও সংসদে দাঁড়িয়ে সরকারকে তুলোধোনা করছিলেন ফেনির এই নেত্রী। বিএনপি চায় বরাবরের মতো নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারই দেশে সাধারণ নির্বাচন করুক। শাসক আওয়ামি লিগ এবারে আর তা চাইছে না। রেহানা ফেনির কথ্য ভাষায় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে চুদুরবুদুর চইলত না!” ব্যাস! রে রে করে তেড়ে যান শাসক দলের সাংসদরা। অধিবেশন লাটে ওঠার জোগাড় হয়। সরকারি দলের হুইপ আ স ম ফিরোজ বলেন, চুদুরবুদুর অশ্লীল কথা, অশোভন। কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হোক। বিএনপি-র সাংসদদের দাবি, একেবারেই না। ফেনি কেন, বাংলাদেশের সর্বত্রই চুদুরবুদুর চালু শব্দ। শাসক দলের সাংসদেরা খামোকাই এ নিয়ে চুদুরবুদুর করছেন। এটা বাদ দিতে হলে তো গোটা কার্যবিবরণীই জলে ধুয়ে সাদা করে ফেলতে হয়! শেষ পর্যন্ত স্পিকার জানিয়েছেন, চুদুরবুদুর-এর পরীা হবে। শ্লীল হলে থাকবে, না হলে বাদ। ফেণি জেলার পাশে ফেণি নদীর এ পারে ত্রিপুরার সাব্রুম  জেলা। যথেষ্টই মিল দু’পারের ভাষায়। চুদুরবুদুর সেখানেও খুবই চালু, জানিয়েছেন ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্মল দাস। তিনি বলেন, ‘শব্দটিকে কিছুতেই অশ্লীল বলা যাবে না। তবে ঠিক, ভদ্রসমাজে তেমন ব্যবহার হয় না। উল্টোপাল্টা কাজ করা, নড়বড়ে থাকা, ইত্যাদি অর্থ ধরে এই শব্দের ব্যবহার।’ অধ্যাপক পবিত্র সরকারও জানিয়েছেন, চুদুরবুদুর গ্রাম্য শব্দ, অশ্লীল নয়। ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধানে দিব্যি জায়গা করে নিয়েছে  চুদুরবুদুর। ওই অভিধানের প্রধান সম্পাদক ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্। ওই অভিধানে চুদুবুদুর-এর তিনটি অর্থ দেওয়া হয়েছে। এক, বাড়াবাড়ি করা। সিলেট, পাবনা অঞ্চলে এই অর্থে ব্যবহার দেখা যায়। দুই, গড়িমসি।  এই অর্থে ব্যবহার বেশি ময়মনসিংহ, ঢাকায়। তা ছাড়া এক ধরনের খেলাও রয়েছে, যার নাম চুদুরবুদুর। চুদুরবুদুর এল কোথা থেকে? পবিত্রবাবু বলেন, এটা নিশ্চিত ভাবেই অনার্য শব্দ। বাংলায় অনার্য শব্দের উৎস তিনটি। টিবেটো-বার্মান, অস্ট্রিক এবং দ্রাবিড়। এরই কোনওটি থেকে এই ধ্বন্যাত্মক শব্দটি এসে থাকবে।” এই রিপোর্টটি পড়িয়া সকলেই তৃপ্ত হইয়াছেন। নিশ্চিত হইয়াছেন ‘চুদুর-বুদুর’ অশ্লীল শব্দ নহে। হাজার হোক আনন্দবাজারের দেওয়া সার্টিফিকেট মান্যে করিতে তো হবেই। তাই শেষ পর্যন্ত ‘চুদুর-বুদুর’ জয়যুক্ত হইয়াছে। জাতীয় সংসদে দাঁড়াইয়া বলার কারণে রাতারাতি জনপ্রিয়তার তুঙ্গে উঠে ‘চুদুর-বুদুর’। ইতোমধ্যে ইহার ব্যবহারও শুরু হইয়াছে। ‘চুদুর-বুদুর’ অশ্লীল শব্দ নয় বলিয়া নিশ্চিত হইয়া এবং উৎসাহবোধ করিয়া সাদেক হোসেন খোকা ফেনীর বাইরে প্রথমবার এই শব্দটি ‘টেস্ট’ করিয়া বড় আরাম পাইলেন। গত ১২ই জুন বিএনপি নেতা তিনি সরকারকে উদ্দেশ্য করিয়া বলেন, “চুদুর-বুদুর বাদ দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নিন, না হলে বাংলাদেশে যে ঘটনা ঘটবে তার জন্য দায় শেখ হাসিনাকেই বহন করতে হবে।” তত্ত্ববধায়ক সরকার নিয়া সরকার যাহা করিতেছে তাহা বুঝাইবার জন্য ইহার চাইতে উত্তম শব্দ বাংলা ভাষায় আর পাওয়া যাইতেছে না। ইহা আর প্রমাণ দিয়া বুঝাইতে হইবে না।ফেনী জেলায় ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দটি একাধিক অর্থে ব্যবহার হয়। তাহার একটি হইলো ‘নড়বড়’ বুঝাইতেও ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দটি ব্যবহার হইয়া থাকে। যেমন ঃ মাত্র তিন বছর অতিবাহিত না হইতেই সাভারের রানা প্লাজা ‘পিলার ধরিয়া ধাক্কাধাক্কি’তে ধসিয়া পড়িলো। ফেনীর ভাষায় এই সকল নির্মানকে ‘চুদুর-বুদুর কাম’ বলিয়া অভিহিত করা হয়।  কেহ একই বিষয়ে  দুই তিন রকম কথা বলিলে ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দ ব্যবহার হয়। আজ এক কথা কাল এক কথা, আজ এর সাথে কাল তার সাথে। এই সকল চরিত্রের লোকদিগকে বুঝাইবার জন্য ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দ ব্যবহার করা হয়। একটা উদাহরণ দিতে হয়। শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম বিতর্কিত মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ ইতোমধ্যে নাস্তিকদের পক্ষে অনেক কথা বলিয়াছিলেন ইহা সকলের জানা। কিন্তু সম্প্রতি ১৫ই জুন চারটি সিটি কর্পোরেশনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হইবার পর তাহার কথার সুর এবং বোল পাল্টাইয়া দিয়াছেন। গত ১৭ই জুন মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসঊদ বলেন, ‘‘ইসলাম ও রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা এবং নাস্তিক্যবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার কারণেই চার সিটি নির্বাচনে ভরাডুবি হয়েছে।’’ এই যে তিনি বোল পাল্টাইলেন এইটা হইলো ‘চুদুর-বুদুর’ চরিত্রের পরিচয়। মানুষ যখন ‘চুদুর-বুদুর’ কথা বলে ফেনী জেলার মানুষ এই চুদুর-বুদুর শ্রেণীর লোকের একটা চিকিৎসার কথাও বলিয়া থাকেন। তাহা হইলো-ইহার খৎনা বোধ করি সঠিক হয় নাই, তাই এতো চুদুর-বুদুর করিতেছে। পায়জামাটা খুলিয়া তাহার খৎনা চেক করিয়া দেখা দরকার। প্রয়োজনে বৃহত্তর স্বার্থে দ্বিতীয়বার খৎনা দেওয়া যাইতে পারে।

তবে আর যাহাই বলেন না কেনো ‘চুদুর-বুদুর’ শব্দটিকে অশ্লীল বলিয়া অবমাননা করা উচিত হইবে না।  শব্দটির অর্থ না বুঝিলে প্রয়োজনে বুঝিয়া লইতে হইবে। বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া ১৩ই জুন বৃহস্পতিবার সংসদে বলেন, ‘‘আমাদের বিরুদ্ধে বলা হয় আমরা নাকি নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষায় কথা বলি। জানি না, নিষিদ্ধ পল্লীর ভাষা কি? যারা সেখানে যান, তারা জানেন, যার মনে যা, ফাল দিয়া ওঠে তা। কলকাতার ভাষা বিজ্ঞানি পবিত্র সরকার, নির্মল দাসরাও বলছেন, চুদুরবুদুর কোনো খারাপ শব্দ নয়। অবিলম্বে দৌলতদিয়া ঘাটে ট্রেনিং ইনষ্টিটিউট খুলে যাদের অল্প বিদ্যা তাদের বেশি বিদ্যা অর্জনে সেখানে যাওয়া উচিত।’’ সত্যি কথা বলিতে কি যার মনে যা বিরাজ করে কোনো কথা কানে শুনিবামাত্র তাহাই ধরিয়া নেয়। কাসে শিক্ষক ছাত্রীকে জিজ্ঞেস করিলেন বলতো হে, উত্তেজিত হলে কোন জিনিস ১০গুণ বড় হয় ? ছাত্রী মুখে উড়না টানিয়া কহিলো, স্যার নামটা বলতে আমার লজ্জা লাগছে। শিক্ষক রাগিয়া ছাত্রকে জিজ্ঞেস করিলে ছাত্র বলিলো, স্যার চোখ। এই যে আপনি এখন উত্তেজিত হয়ে গেলেন আপনার চোখ দু’টো কত বড় বড় হয়ে গেছে। শিক্ষক ছাত্রীকে বলিলেন, তুমি একটা বদের হাড্ডি। ভালো কিছু চিন্তা করতে শিখো। আর জেনে রাখ, তুমি যেটা ভেবেছো সেটা ১০গুণ বড় হয় না।