টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :

শুধু র‌্যাব নয়, সবার জন্যই সতর্কবার্তা

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : বুধবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০১৭
  • ১৮৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **

নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর না ঘটে, সে ব্যাপারে র‌্যাবের মাঠ পর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, শুধু র‌্যাব নয়, সবার জন্যই এই মামলার রায় একটি সতর্কবার্তা। গতকাল মঙ্গলবার উত্তরায় র‌্যাব সদর দপ্তরে বাহিনীর অধিনায়ক সম্মেলনে উপস্থিত সারাদেশের মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যতে যে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) একটি এলিট ফোর্স। এ বাহিনীর কোনো সদস্য ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে অপরাধে জড়ালে তার দায় বাহিনী নেবে না। এমনকি তাদের বিন্দুমাত্র ছাড়ও দেওয়া হবে না। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। দু’দিনব্যাপী সম্মেলন শুরুর একদিন আগে গত সোমবার নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার একদিন পরই পূর্বনির্ধারিত র‌্যাবের অধিনায়ক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ায় স্বাভাবিক কারণে আলোচনায় একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল সাত খুনের ঘটনা ও রায় নিয়ে আলোচনা। এদিকে, নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, সাত খুনের রায়

ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে মাইলফলক হয়ে থাকবে। শুধু র‌্যাব নয়; সব বাহিনীর জন্যই এটি একটি সতর্কবার্তা। এর মধ্য দিয়ে সকল শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্বকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করতে পারে। মানবাধিকার সমুন্নত ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাদের নিজ নিজ ভূমিকা ও যথাযথ চেইন অব কমান্ড পালন করছে কি-না তা পুনর্মূল্যায়নের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এই রায়।
সাত খুনের রায়ে র‌্যাব-১১-এর তৎকালীন অধিনায়ক লে. কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেন, লে. কমান্ডার (বরখাস্ত) এম এম রানাসহ ১৬ সাবেক র‌্যাব সদস্যকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। আরও নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ মামলায় ৩৫ আসামির মধ্যে ২৫ জনই র‌্যাবের সাবেক সদস্য, যারা বিভিন্ন বাহিনী থেকে প্রেষণে র‌্যাব-১১-তে কর্মরত ছিলেন। সম্মেলনে উপস্থিত একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গতকাল সমকালকে এসব তথ্য জানান।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ সমকালকে বলেন, ব্যক্তির কোনো অপরাধের দায় বাহিনী নেবে না। তাদের ছাড় দেওয়ারও প্রশ্ন আসে না। র‌্যাবের কোনো অসাধু সদস্য ব্যক্তিস্বার্থে বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করলে তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। বাহিনীর কোনো সদস্য আইন ভঙ্গকারী কর্মকাণ্ডে জড়ালে তা অতীতে লুকানো হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান সমকালকে বলেন, অধিনায়ক সম্মেলন শুরুর দিন বাহিনীর নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিয়েছেন মহাপরিচালক। স্বাভাবিক কারণেই সাত খুনের রায়ের বিষয়টি আলোচ্য বিষয় ছিল।দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, পূর্বনির্ধারিত অধিনায়ক সম্মেলনের প্রথম দিন মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে দুই অতিরিক্ত মহাপরিচালক, সারাদেশের র‌্যাবের ১৪টি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক, সব ইউনিটের পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন। বেলা ১১টায় শুরু হয়ে প্রথম দিনের আলোচনা শেষ হয় সন্ধ্যা ৬টার দিকে।
আলোচনায় বলা হয়, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনা দেশব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল। সোমবার এ মামলার রায় ঘোষণায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ মামলায় ২৬ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তাদের মধ্যে র‌্যাবের সাবেক সদস্য ১৬ জন। র‌্যাবের সাবেক আরও নয় সদস্যকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। আলোচনায় বলা হয়, ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্যই তারা এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িয়েছে। এর দায় বাহিনী নেবে না। আগামীতে যাতে কেউ এ ধরনের অপরাধে না জড়ায়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। এলিট ফোর্স র‌্যাব প্রতিষ্ঠার পর থেকে অনেক সাহসী অভিযানে অংশ নিয়েছে। সর্বমহলে র‌্যাবের অনেক অভিযান প্রশংসা পেয়েছে। সাফল্যের সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, অধিনায়ক সম্মেলনের আলোচনায় বলা হয়েছে, সাত খুনের ঘটনার রায়ে আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এ হত্যার দায় র‌্যাবের নয়, এটা ব্যক্তির। মানুষও এটা বিশ্বাস করে। জনমনে র‌্যাব নিয়ে যাতে কোনো ধরনের নেতিবাচক ধারণা তৈরি না হয়, এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
র‌্যাবের দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা জানান, যে কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীতে নানা কারণে কেউ কেউ বিপথগামী হতে পারে। যারা শৃঙ্খলা পরিপন্থী কোনো ধরনের জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাদের সাজা নিশ্চিত হচ্ছে কি-না সেটা মুখ্য বিষয়। অপরাধচক্রের সঙ্গে জড়ালে ফৌজদারি আইনে কঠোর সাজার মুখোমুখি হতে হবে। অতীতেও র‌্যাব কোনো ধরনের অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়নি, ভবিষ্যতেও দেবে না। গুটিকয়েক অসাধু সদস্যের জন্য পুরো বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা যাতে ম্লান না হয়, সে ব্যাপারেও সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। অধিনায়ক সম্মেলনে সারাদেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার, মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করার বিষয়টি আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন ব্যাটালিয়নের অপারেশনাল কর্মকাণ্ড ও সমস্যার বিষয়ও অধিনায়ক সম্মেলনের আলোচনায় উঠে আসে। এ রায় ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার মাইলফলক :সাত খুনের রায় সব শৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য এক ধরনের সতর্কবার্তা বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। একক কোনো ঘটনায় একসঙ্গে এত সংখ্যক সাবেক শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের ফাঁসি ও দণ্ড কার্যকরের ঘটনা বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহত্তম। এর আগে পিলখানার ঘটনায় ২০১৩ সালে ১৫২ জনের ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়। ওই মামলায় ৪১৭ জনকে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশিদ সমকালকে বলেন, যারা আইন প্রয়োগ করেন, তারাও আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত। তবে মাঝে মধ্যে আইনের পোশাক পরেই কেউ জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এতে জনমনে ভীতি তৈরি হয়। আইনের রক্ষকের ভূমিকা থেকে তারা ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। সাত খুনের ঘটনায় যে রায় এলো, সেটা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটা মাইলফলক। এটা জাতির জন্য দরকার ছিল। এ রায় সবার জন্যই সতর্কবার্তা। সমাজে ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় এ রায় অনন্য ভূমিকা পালন করবে। অনেক সময় শৃঙ্খলা বাহিনীর অসাধু সদস্যের সঙ্গে অপরাধচক্রের কারও কারও গভীর সখ্য দেখা যায়। সাত খুনের রায় থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামীতে শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক থাকবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জিয়া রহমান সমকালকে বলেন, আমাদের দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সংস্থা কলোনিয়াল মানসিকতার। সেখানে শর্ষের মধ্যেই ভূত রয়েছে। সাত খুনের রায়ের আগে মানুষের মধ্যেও সংশয় ছিল অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড হবে কি-না। তবে আমরা দেখেছি সেই সংশয়ও ভুল প্রমাণিত হয়েছে। তবে উচ্চ আদালতে এই রায়ের খুব বেশি ছন্দপতন না হলে খুশি হব। বিশিষ্ট আইনজীবী শাহ্দীন মালিক সমকালকে বলেন, অপরাধীরা যে ধরনের জঘন্য কাজে লিপ্ত ছিল, তাতে এ ধরনের রায় প্রত্যাশিত ছিল। যেহেতু সমাজটা অস্বাভাবিক, তাই স্বাভাবিক এই পরিণতি আমাদের ব্যতিক্রম মনে হচ্ছে। এদিকে সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা গতকাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, যখন জঙ্গি তৎপরতা বা সন্ত্রাস দমনে কোনো বাহিনী কাজ করে সেখানে ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটতে পারে। তাতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি-না এটাই দেখার বিষয়।মানবাধিকার সংগঠক সুলতানা কামাল বিবিসি বাংলাকে বলেন, র‌্যাব তাদের মূল দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়ায় এর অনেক সদস্যের ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে ত্রুটি-বিচ্যুতির ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় সেটা দৃষ্টিকটুভাবে ধরা পড়ে গেল। –

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT