হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদফিচারবিশেষ সংবাদ

”শাহ পরীর দ্বীপের বেড়িবাঁধের কাজ করবে সেনাবাহিনী” র্বষা আগে কাজ না হলে কয়েক হাজার পরিবার ভূমিহীন হওয়ার অশংকা

জসিম মাহমুদ []  অবশেষে সেনাবাহিনীর মাধ্যমেই নির্মিত হচ্ছে শাহপরীরদ্বীপ বেড়িবাঁধ। টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বেড়িবাঁধটি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে নির্মাণ করার জন্য। শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম অংশের বিলীন হওয়া ২ দশমিক ৬৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের পুনঃনির্মাণ কাজের জন্য প্রায় ১০৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন পাউবো কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান। তিনি আরও বলেন, ঠিকাদার হিসেবে এ কাজ করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আর কাজের তত্ত্বাবধান করবে পাউবো। প্রকল্পের কাজ সরাসরি ক্রয় (ডিপিএম) পদ্ধতিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বান্তবায়নের জন্য অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিইএ) অনুমোদন প্রয়োজন। এলক্ষ্যে ইতিমধ্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনামা দাখিল করা হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে সেনাবাহিনীর তরফ থেকে কাজের দরপত্র আহ্বান করা হবে।
বেড়িবাঁধের নির্মাণকাজ কখন শুরু হবে এমন প্রশ্নের জবাবে মো. সবিবুর রহমান বলেন, ২০১৯ সালের ৩০ জুনের মধ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সীমা নির্ধারণ করা আছে। চলতি বছরের ৩০ জুনের আগেই এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হবে। ২০১৮ সালের ৩০ জুনের আগেই এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন সম্ভব।
এলাকাবাসীর মতে, টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ একটি অবহেলিত এলাকার নাম। চিরচেনা শাহ পরীর দ্বীপের মানুষ ভাঙ্গা মনে নতজানু হয়ে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কাছে বারবার ধরনা দিয়ে আসলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি এখনো পযন্ত। এই অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আগামীতে শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা পাবে না বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে এই নামটা মুছেও যেতে পারে। সিংহভাগ মানুষ এলাকা ছেড়ে চলে গেলেও অবশিষ্ট যারা আছে তাদেরও কয়েক বৎসরের মধ্যেই চলে যেতে হবে।
জানা গেছে, গত ২ বছরে শাহ পরীর দ্বীপের ঘোলাপাড়া, দক্ষণিপাড়া, মাঝরপাড়া, ডাঙ্গরপাড়া,পশ্চিমপাড়া থেকে ৩ হাজার পরিবার ভূমিহীন হয়ে অন্যান্য এলাকাল বসবাস করছে। বেড়িবাঁধ র্নিমাণের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে আগামী র্বষায় কয়েক হাজার পরিবার ভূমিহীন হওয়ার অশংকা রয়েছে।। বেড়ীবাঁধ রক্ষার নামে এরই মধ্যে কয়েকবার সরকারি কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা ছাড়া সত্যিকারের লোক দেখানোর কাজে কোনো সুফল শাহ্পরীর দ্বীপবাসী পায়নি।
সংশ্লিদের মতে, সমস্যা-সংকটে এভাবে প্রায় বিচ্ছিন্ন জনপদে পরিণত হতে যাচ্ছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর শাহপরীর দ্বীপ। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপে প্রায় ৪০ হাজার লোকের বসবাস। পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠতে পারে যে দ্বীপ, সেটির সংকট সমাধানে যথাযথ নজর নেই কর্তৃপক্ষের।
শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এম এ হাশেম বলেন, গত ১৬ বছরে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসে এই শাহপরীর দ্বীপের প্রায় ১০ হাজার একরের চিংড়িঘের ও ফসলি জমি সাগরগর্ভে তলিয়ে গেছে। বিলীন হয়েছে, মসজিদ-মাদ্রাসাসহ অন্তত চার হাজার ঘরবাড়ি। ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে শাহপরীর দ্বীপ-টেকনাফ সড়কটি বিলীন হওয়ায় লোকজনকে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় টেকনাফ আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। ভাটার সময় যখন নৌচলাচল বন্ধ হয়, তখন এলাকার মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হয়।
শাহপরীর দ্বীপ রক্ষা ও উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মাস্টার জাহেদ হোসেন বলেন, বেড়িবাঁধ ভাঙনের ফলে শাহপরীর দ্বীপে প্রায় ২ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়, লবণাক্ততার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হয়। মৎস্য আহরণের অন্যতম স্থান শাহপরীর দ্বীপ এখন বিচ্ছিন্ন জনপদ।এপ্রিল মাস থেকে শুরু হবে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের মৌসুম। তখন জলোচ্ছ্বাস ও প্লাবনের মুখে পড়বে হাজারো পরিবার। বেড়িবাঁধ র্নিমাণের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে আগামী র্বষায় কয়েক হাজার পরিবার ভূমিহীন হওয়ার অশংকা রয়েছে।
আওয়ামীলীগ নেতা সোনা আলী বলেন, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে এই দ্বীপের পশ্চিমপাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) এক কিলোমিটারের মতো বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যায়। বেড়িবাঁধ বিলীন হয়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ ৫ বছর কষ্ট ভোগের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য ১০৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটি দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই বাস্তবায়নের স্বার্থে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদারের হাতে না দিয়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন চাই।
ভাঙা সড়ক সংস্কার প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া বলেন, আগে ভাঙা বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বাঁধের আগে সড়ক সংস্কার করা হলে জোয়ারের ধাক্কায় তা আবার ভেঙে যাবে।
পাউবো সূত্র জানা যায়, ১০৬ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিমপাড়া, মাঝেরপাড়া, ঘোনারপাড়া হয়ে দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত ২ দশমিক ৬৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর উচ্চতা হবে সাড়ে ছয় মিটার। প্রস্থ হবে সাড়ে ৫ মিটার। সমুদ্রের করাল গ্রাস থেকে বেড়িবাঁধটি রক্ষার জন্য এক পাশে (সমুদ্রের দিকের অংশে) বসানো হবে পাথরের সিসি ব্লক।

 

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.