হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

জাতীয়প্রচ্ছদ

শাহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন প্রধানমন্ত্রী

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক **
শাহিনের খালু রবিউল বাশার জানান, সে গোলাঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। মাদ্রাসার ছুটির দিনে ভ্যান চালায় শাহিন। সাতক্ষীরায় দুর্বৃত্তদের হামলায় আহত যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভ্যানচালক শিশু শাহিন মোড়লের (১৫) চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন।

শাহিনের প্রতিবেশি তেজগাঁ কলেজের এমএ ক্লাসের ছাত্র মনসুর রহমান জানান, গতকাল শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে উপপ্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন শাহিনকে দেখতে আসেন। দেখা করে জানিয়েছেন চিন্তা না করতে। শাহিনের সব চিকিৎসার ভার প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা নিয়েছেন।

শাহিনের মা খাদিজা বেগম জানান, ‘আমি আমার ছেলে জন্য সবার দোয়া চাই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহিনের চিকিৎসার দায়িত্ব ভার নিয়েছেন এতে আমরা খুশি। প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’

শাহিনের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক অসিত চন্দ্র সরকারকে প্রধান করে সাত থেকে আট সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ১০টায় শাহিনকে ঢামেকে ভর্তি করা হয়।

অধ্যাপক অসিত চন্দ্র সরকার বলেন, শাহিনের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। দুই-তিন দিন না যাওয়া পর্যন্ত অবস্থা সম্পর্কে কিছু বলা যাচ্ছে না।

গত শুক্রবার দুপুরে যশোরের কেশবপুর উপজেলার মঙ্গলকোট গ্রামের হায়দার আলী মোড়লের ছেলে শাহিনের ভ্যান যাত্রীবেশে ভাড়া নেয় দুর্বৃত্তরা। পথে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ধানদিয়ায় শাহিনের মাথা ফাঠিয়ে রক্তাক্ত করে ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। পরে কান্নার শব্দে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে।

শাহিনকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরদিন শনিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা গেছে, শাহিনের বাবা হায়দার আলী সম্প্রতি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাটারিচালিত ওই ভ্যানটি কেনেন। ওই ভ্যান থেকে রোজগারের অর্থে তাদের সংসার চলতো। পাশাপাশি মেটাতে হতো কিস্তির টাকাও।

মঙ্গলকোট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য জহির রায়হান জানান, ‘ওরা খুব গরিব মানুষ। দিন আনা দিন খাওয়া তাদের। ঋণ করে ভ্যান কিনেছে তার বাবা।’

শাহিনের খালু রবিউল বাশার জানান, সে গোলাঘাটা দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। মাদ্রাসার ছুটির দিনে ভ্যান চালায় শাহিন। আশা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে কেনা ভ্যান থেকে আয় করা অর্থ সে তুলে দেয় বাবা-মার হাতে। তার বাবা হায়দার আলিও একজন ভ্যানচালক। কোনোমতে সংসার চলে ওদের।

এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজ হোসেন বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.