হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদ

শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে মিয়ানমার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে আসছে গবাদিপশু

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ …বৈরী আবহাওয়ায় সাগর উত্তাল হওয়ায় মিয়ানমার থেকে কয়েকদিন গবাদিপশু আমদানী বন্দ থাকলেও তা আবার পুরো দমে শুরু হয়েছে। কোরবানির ঈদ সামনে রেখে শুক্রবার ১৭ আগস্ট মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ১২৯টি গরু-মহিষ নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। যেগুলো শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে রাখা হয়েছে। ঈদের আগে মিয়ানমার থেকে আরও ১০ হাজার পশু আমদানির টার্গেট রয়েছে ব্যবসায়ীদের। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, ১৭ আগস্ট শুক্রবার সকালে মিয়ানমার থেকে সাগরপথে শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে ১০টি ট্রলারে করে এক হাজার ১২৯টি গরু-মহিষ শাহপরীরদ্বীপের জেটি ঘাটে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭৭টি গরু এবং ৫২টি মহিষ। এসব গবাদিপশু আবদুল্লাহ মনির, ওমর ফারক, সোহেল রানা, মো. ইসলাম, মো. শাহীন, উলামং ও লাজুসহ ১০ জন আমদানিকারক নিয়ে এসেছেন।
আমদানীকারক ও ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, ‘কোরবানির মৌসুমে ইতোমধ্যে মিয়ানমার থেকে ৫ হাজার গবাদিপশু আমদানি করেছি। এছাড়া কোরবানির আগে আরও এক হাজার গরু-মহিষ আমদানির টার্গেট রয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় গত কয়েকদিন পশু আমদানি বন্ধ ছিল। ফলে ১৭ আগস্ট শুক্রবার আমদানি করা ১০৫টি গরু-মহিষ ভালো দামে বিক্রি করেছি। গত বছরের তুলনায় এ বছর ব্যবসা ভালো হয়েছে’।
টেকনাফ শুল্ক স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘কোরবানির ঈদের বাকি মাত্র পাঁচ দিন। আমদানিকারকদের মিয়ানমার থেকে আরও বেশি পশু আমদানি করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে। কোরবানির ভেতর আরও ১০ হাজার গবাদি পশু আনার কথা রয়েছে। পশু আমদানিতে রাজস্বে ব্যাপক ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন ব্যবাসায়ীরা। দেশে পশুর চাহিদা পূরণে আমদানি অব্যাহত থাকবে। কোরবানির ঈদ আসতে আর কয়েকদিন বাকি থাকলেও মিয়ানমার থেকে আরও ১০ হাজার গরু-মহিষ আমদানির টার্গেট রয়েছে ব্যবসায়ীদের। শুক্রবার সকালে মিয়ানমার থেকে সাগর পথে শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে ১০টি ট্রলারে করে এক হাজার ১২৯টি গরু-মহিষ দ্বীপের জেটি ঘাটে এসে পৌঁছে। আগের দিন বৃহস্পতিবার ১৬ আগস্ট ৪৭টি গরু-মহিষ আমদানি করা হয়। এ খাতে সরকার পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার টাকা রাজস্ব পেয়েছে। চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ১৩ দিনে ৫ হাজার ৬৭৬টি গবাদিপশু আমদানি করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭৫টি গরু এবং ১ হাজার ৪৭৯টি মহিষ। এতে সরকার ২৮ লাখ ৩৮ হাজার রাজস্ব পেয়েছে এবং জুলাই মাসে এসেছে ৬ হাজার ১০৬টি গরু-মহিষ। এবছর মৌলভী বোরহান, আবদুল্লাহ মনির, আবু ছৈয়দ মেম্বার, ওমর ফারুক, সোহেল রানা, উলামং মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আমদানির শীর্ষে রয়েছেন’।
টেকনাফ পৌর মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) ও টেকনাফ উপজেলা পশু আমদানিকারক সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল্লাহ মনির বলেন, ‘পশু আমদানি থেকে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করলেও ব্যবসায়ীরা কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না। দেশে গবাদি পশুর চাহিদা থাকায় মিয়ানমার থেকে পশু আমদানী আগের তুলনায় কয়েক গুন বেড়ে যায়। এরপরও পশুর চাহিদা ও দাম রয়েছে। শাহপরীরদ্বীপে ব্যাংক ও শুল্ক বিভাগের শাখা না থাকায় নানা সমস্যা পোহাতে হয়। তাছাড়া গবাদিপশু ট্রলার থেকে নামানোর জন্য নেই কোন পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। উপরন্ত গত ৫ বছর ধরে শাহপরীরদ্বীপ সড়কটিও বিছিন্ন। যার ফলে যাতায়ত এবং পশু পারাপারে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে’।
টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে গবাদী-পশু ব্যবসায়ীদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পশু সরবরাহের ক্ষেত্রে পথে যেন কোনও চাঁদাবাজি না হয় এবং পশু বোঝাই ট্রলারে করে যাতে কোনও মাদক ঢুকতে না পারে সেবিষয়ে নজরদারি রয়েছে’।
এদিকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে মিয়ানমার থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে গবাদিপশু আসছে। প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও স্থানীয় আমদানীকারক ও গবাদিপশু ব্যবসায়ীগণ কুরবানীর চাহিদা পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন। অন্য বছরের চেয়ে এবারে মিয়ানমার থেকে গবাদিপশু আসছে বেশী। আমদানীকৃত গবাদিপশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।
টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ করিডোর দিয়ে আসা মিয়ানমারের গবাদিপশু নিয়ে টেকনাফ গোদারবিল মাদ্রাসা সংলগ্ন মাঠ, সাবরাং ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, শাহপরীরদ্বীপের নাফনদীর বেড়িবাধ ও পুরাতন বাজারের বেশ কয়েকটি স্থানে পশুর হাট জমে উঠেছে।সেদেশের সীমান্ত এলাকায় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন থাকলেও দু’দেশের সু-সম্পর্কের কারনে পশু আমদানীতে কোন প্রভাব পড়ছেনা।
জানা যায়, ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের প্রথম দেড় মাসে মোট ১৩ হাজার ৪৩৭টি গবাদিপশু আমদানি খাতে ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ৯০০ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছিল বলে জানিয়েছেন টেকনাফ স্থল বন্দর শুল্ক বিভাগ। গতবছর আগস্ট মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত ৬ হাজার ৮৪৫টি গরু এবং ১ হাজার ২৫৭টি মহিষ আমদানি খাতে ৪০ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ টাকা এবং জুলাই মাসে ৪ হাজার ৬৭১টি গরু, ২ হাজার ৭টি মহিষ ও ২টি ছাগল আমদানি করে আদায় হয়েছে ৩৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এভাবে গবাদি পশু আমদানি অব্যাহত থাকলে স্থানীয় বাজারে পশুর সংকট থাকবে না বলে মনে করছেন গবাদিপশু এবং আমদানীকারকরা। পর্যাপ্ত কোরবানির পশু মজুদ থাকায় বাজারে মূল্যও ক্রেতাদের ক্রয় সীমার মধ্যে থাকবে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
টেকনাফ শুল্ক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ৪৯৬টি গরু, ১২ হাজার ৩৯৫টি মহিষ ও ৪৫টি ছাগল আমদানি করে ৩ কোটি ৩৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। যা ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরে প্রাপ্ত রাজস্ব ১ কোটি ৩৭ লক্ষ ৪৮ হাজার টাকার চেয়ে দ্বিগুণ বেশি। মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে গবাদিপশু আসা রোধে ২০০৩ সালে ২৫ মে শাহপরীরদ্বীপ করিডোর চালু করা হয়। এতে প্রতি গরু-মহিষের জন্য ৫০০ টাকা ও ছাগল ২০০ টাকা হারে রাজস্ব নির্ধারণ করা হয়। বিজিবি ও শুল্ক বিভাগের সহায়তায় সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করে থাকেন আমদানীকারকরা। তবে করিডোর প্রতিষ্ঠার এক যুগ সময় পার হলেও সরকারি ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামোসহ কোন স্থাপনা গড়ে উঠেনি। ফলে আমদানীকৃত গবাদিপশুর ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
মিয়ানমার থেকে গবাদি-পশু আমদানীকারকরা জানান, নাফনদী ও সাগরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের বাধা না থাকলে কোরবানের আগে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার গবাদিপশু আমদানি করা যাবে। তবে মিয়ানমার থেকে গবাদি পশু বোঝায় ট্রলার গুলোকে শাহপরীরদ্বীপ করিডোরে আসতে বঙ্গোপসাগর ও নাফনদী দিয়ে ১২ ঘন্টার বেশী সময় পাড়ি দিতে হয়। এতে সাগর উত্তাল থাকলে পশুবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটে মাঝে মধ্যে। এতে অনেক পশু ট্রলারে মারা যায়। ##

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.