হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

প্রচ্ছদভ্রমন

শাস্তির মুখে ৬৩ এজেন্সি :সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরেননি ৯৪ ব্যক্তি:

টেকনাফ নিউজ ডেস্ক::
সৌদি আরবে পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরেননি ৯৪ ব্যক্তি। ২৯টি এজেন্সির মাধ্যমে এসব ব্যক্তি চলতি বছর ওমরাহ পালন করতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া কোটার অতিরিক্ত ওমরাহ যাত্রী পাঠানোর অভিযোগে ৩৪ এজেন্সিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।
এভাবে ওমরাহ শেষে না ফেরায় ক্ষুণ্ণ হচ্ছে দেশের ভাবমূর্তি। এতে ওমরাহ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম দারুণভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চিহ্নিত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাচ্ছে সরকার।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ওমরাহ পালনের নামে মানব পাচারের অভিযোগ চিন্তা করা হচ্ছে। বিদেশে থাকা এসব মুসল্লি না ফিরলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াপ্তসহ নানা ধরনের শাস্তি দেয়া হবে। ইতিমধ্যে ৪টি এজেন্সির ৬৩ জন ওমরাহকারীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ১ মাসের সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। এজেন্সিগুলো হল- বলাকা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (ওমরাহ লাইসেন্স নম্বর ৭২), রুখসানা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (৪১০), খন্দকার এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (২১৪) এবং ক্যামাসিয়া ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (৪২৪)। বাকিগুলোর অপরাধের মাত্রা যাচাই-বাছাই চলছে।

জানতে চাইলে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (হজ) এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী যুগান্তরকে বলেন, জাতীয় হজ ও ওমরাহ নীতিমালা লঙ্ঘন করে এ বছর ৬৩টি এজেন্সি ওমরাহ যাত্রী পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে ২৯টি এজেন্সির প্রায় একশ’ ওমরাহকারী দেশে ফেরেননি। তারা পালিয়ে গেছেন কিনা তা বলতে পারছি না। তাদের নোটিশ করা হলে এজেন্সিগুলো জানিয়েছে- তাদের কোনো কোনো যাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, আবার অনেকে বলেছেন কেউ কেউ মারা গেছেন। এসবের প্রমাণপত্র দিতে বলেছি। তাদের জবাব পাওয়ার পর নীতিমালা অনুসারে শাস্তি দেয়া হবে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৯টি এজেন্সির মধ্যে বলাকা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (ওমরাহ লাইসেন্স নম্বর ৭২) নামে একটি এজেন্সির মাধ্যমে গিয়ে ফিরে আসেনি সর্বাধিক ৪৮ জন। রুখসানা ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের (৪১০) যাত্রী ৭, খন্দকার এয়ার ইন্টারন্যাশনালের (২১৪) যাত্রী ৪, ক্যামাসিয়া ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের (৪২৪) যাত্রী ৪, আল ইমাম হজ কাফেলা ট্রাভেলস ট্যুরস (৩৯৬) যাত্রী ৩, সফুরা এয়ার সার্ভিস (৪৫৪) যাত্রী ২, মিজাবে রহমত এভিয়েশন (৪৭৬) যাত্রী ২, ক্যাপলান ওভারসিজ লিমিটেডের (০৭) যাত্রী ১, আল মানসুর এয়ার সার্ভিস (০৪) যাত্রী ১, কাজী এয়ার ইন্টারন্যাশনালের (১৬) যাত্রী ১, সানফ্লাওয়ার এয়ার লিংকার্সের (২০) যাত্রী ২, এয়ার বাংলা ইন্টারন্যাশনালের (৬৭) যাত্রী ১, লাকি ট্রাভেলস অ্যান্ড টুরিজম (২৫৪) যাত্রী ১, আদেব এয়ার ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের (২৭৭) যাত্রী ২, এআরএস এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (২৯১) যাত্রী ১, ইস্টার্ন ট্রাভেলস (৩০১) যাত্রী ১, ইজিওয়ে ট্রাভেলস (৩০২) যাত্রী ১, ইরফান ট্রাভেলস (৩০৪) যাত্রী ১, এবকো ওভারসিজ (৩৮৩) যাত্রী ১, আল মাকাম ট্রাভেলসের (৪০৯) যাত্রী ১, এয়ার ফিলিস্তিন ইন্টারন্যাশনাল (৪১৩) যাত্রী ১, সাতক্ষীরা ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল (৪৩৩) যাত্রী ১, আমির ট্রাভেলস (৪৩৯) যাত্রী ১, ময়মনসিংহ ট্রাভেলন এজেন্সি (৪৪৩) যাত্রী ১, আবাবিল ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (৪৬৩) যাত্রী ১, টাইম এক্সপ্রেস লিমিটেড (৪৬৯) যাত্রী ১, শিপলু ওভারসিজ (৪৮৯) যাত্রী ১, আহমেদ এয়ারওয়েজ সার্ভিসের (৪৯৮) যাত্রী ১ এবং ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস সল্যুশনের (৫০৭) যাত্রী ১ জন।

এসব এজেন্সিকে ২৩ সেপ্টেম্বর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে ৭ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। শোকজ নোটিশ পেয়ে অনেকে এরই মধ্যে দেশে ফিরে আসেন বলে জানা গেছে। জবাবে এজেন্সিগুলো জানায়, যাত্রীদের কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে সৌদি আরবের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। কেউবা মারা গেছেন।

আবার কেউবা আটক হয়ে জেলে আছেন। কিন্তু তার কোনো প্রমাণপত্র দাখিল না করায় রোববার তাদের ৪টি এজেন্সিকে ১ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আবারও নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ওই সব এজেন্সির ৬৩ জন ওমরাহকারী এখনও দেশে ফেরেননি। তাদের আগামী ১ মাসের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে এনে প্রমাণসহ ধর্ম মন্ত্রণালয়কে অবহিত করতে বলা হয়। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে নীতিমালা অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

হজ ও ওমরাহ নীতি ১৪৩৯ হিজরির (২০১৮ সালে) ২১.২.৪ ধারা অনুসারে কোনো এজেন্সি কোনো যাত্রী ফেরত আনতে ব্যর্থ হলে যাত্রী প্রতি পাঁচ লাখ টাকা জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। একাধিক যাত্রী থাকলে প্রতিজনের জন্য পাঁচ লাখ টাকা হারে বা সমুদয় জামানত বাজেয়াপ্তসহ লাইসেন্স বাতিল করা যাবে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদত হোসাইন তসলিম যুগান্তরকে বলেন, সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী শতকরা একজন ওমরাহকারী দেশে না ফিরলেও তা সহনীয় বলে ধরা হয়। সেই হিসাবে একটি এজেন্সির ৩ জনের বেশি দেশে না ফিরলে এটি একটি গর্হিত অপরাধ। এ ব্যাপারে সরকার আইনি ব্যবস্থা নিতেই পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার নীতিমালা লঙ্ঘন করে কোটার অতিরিক্ত ওমরাহ যাত্রী পাঠানোর অভিযোগে ৩৪ এজেন্সিকে সতর্ক করে নোটিশ দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। এতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দেয়া হয়। নোটিশপ্রাপ্ত এজেন্সিগুলো হল- এয়ার স্পিড (লাইসেন্স নং-১), কক্সবাজার ওভারসিজ (১১), ডায়নেস্টি ট্রাভেলস লিমিটেড (১২), নর্থ সাউথ ট্রাভেলস লিমিটেড (২৩), শাহিনা ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (২৮), প্রগতি ট্রাভেলস (৫২), জমজম ইন্টারন্যাশনাল (৬৬), কমবাইন্ড ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল (২১৩), নাহার ইন্টারন্যাশনাল (২৩৯), পারাবাত ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (২৬৩), কেয়া এন্টারপ্রাইজ ট্রাভেলস (৩০৯), কেএনসি ট্রাভেল কোম্পানি (৩১০), ওভারসিজ লিংকস লিমিটেড (৩২২), রেডিয়েন্ট ওভারসিজ (৩২৫), ট্রাভিলন এয়ার সার্ভিসেস (৩৪২), আফনান এয়ার ইন্টারন্যাশনাল (৩৪৬), শাহজালাল ওভারসিজ (৩৭১), আলী এয়ার ট্রাভেলস (৩৭৪), লিনতাস ট্রাভেলস (৩৭৬), হাসনাইন ট্রাভেলস (৩৮১), ফ্যান্টাসি ইন্টারন্যাশনাল (৩৮৬), হারাম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (৩৯৭), দারুল ইমান ইন্টারন্যাশনাল (৪২১), কপোতাক্ষ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস (৪২২), দোলা ফকির এয়ার সার্ভিসেস (৪২৩), সিয়াম এভিয়েশন (৪২৮), মোজদালিফা এভিয়েশন (৪২৯), সৈয়দ এভিয়েশন সার্ভিসেস (৪৩০), জুবায়ের ট্রাভেলস (৪৪৫), তাহসিন ট্রাভেলস (৪৪৭), অশোক ট্রাভেলস (৪৫৩), রাহাত ট্রাভেলস (৪৫৬), টাইম হলিডেস (৪৬৭) এবং ঈদগাহ ট্রাভেলস (৪৭১)।

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.