হটলাইন

01787-652629

E-mail: teknafnews@gmail.com

সর্বশেষ সংবাদ

টেকনাফপ্রচ্ছদরোহিঙ্গা

শালবাগান ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের সাথে চীন প্রতিনিধি দলের বৈঠক

হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম, টেকনাফ … সফররত চীনের প্রতিনিধিরা টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা শালবাগান ক্যাম্পে রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক করেছেন। মিয়ানমার সরকারি বাহিনীর জুলুম-নির্যাতনে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করে রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি দেখতে পাঠানোর কথা বললেন সফররত চীনের প্রতিনিধিরা।
১৬ সেপ্টেম্বর সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সিআইসি কার্যালয়ে ২০ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সঙ্গে বৈঠকে এই প্রস্তাব উত্তাপন করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত লি জিমিং। এসময় বাংলাদেশ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন সহকারী কমিশনারসহ চীনের প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ‘মিয়ানমার সরকার আমাদের নাগরিকত্ব, কেড়ে নেওয়া জমিজমা ফেরত এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরে যাবো’।
‘মিয়ানমারে ফিরে যেতে কী সমস্যা’ চীনের প্রতিনিধি দলের প্রধানের এই প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গারা বলেন, ‘মিয়ানমারে এখনও রোহিঙ্গাদের জন্য শান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। সেদেশে বিবদমান গ্রুপের মধ্যে সংঘাত লেগে আছে। এখনও যেসব রোহিঙ্গা সেদেশে রয়েছে তাদের ওপর নির্যাতন চলছে। এছাড়া ২০১২ সালে আকিয়াবে এক লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে কয়েক মাসের জন্য একটি জায়গায় জড়ো করে রাখলেও এখন পর্যন্ত একই অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আমরা মিয়ানমারে গিয়ে বিপদে পড়তে চাইনা’।
‘কী করলে মিয়ানমারে যাবেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে রোহিঙ্গা নেতা আবদুর রহিম ও সোনা আলী বলেন, ‘প্রধানতঃ ৩টি দাবি পূরণ করলে স্বেচ্ছায় নিজ দেশে চলে যাব। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে হবে, কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত দিতে হবে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে’।
‘বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় মিয়ানমারের পরিস্থিতি দেখতে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দল সেদেশে পাঠালে যাবেন কিনা’ চীনা রাষ্ট্রদূতের এ প্রশ্নের জবাবে রোহিঙ্গারা ‘যাবেন’ বলে সম্মতি দেন।
চীনের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের দুটি প্রস্তাব দেন। একটি হল, রোহিঙ্গা প্রতিনিধি দলের সবাইকে জনপ্রতি দুটি করে মোবাইল সেট দেওয়া হবে। একটি নিজে সেদেশে যাওয়ার সময় নিয়ে যাবেন, অন্যটি এখানে পরিবারের কাছে রাখবেন। যদি মিয়ানমারে পরিস্থিতি ভালো হয়, মোবাইলে পরিবারকে সেদেশে ডেকে নিয়ে যাবেন। আরেকটি হলো- প্রতিনিধি দল মিয়ানমারে গিয়ে অবস্থা দেখে ঘুরে চলে আসবেন। যদি সেখানের অবস্থা ভালো দেখে আসেন তাহলে পরিবার নিয়ে মিয়ানমারে ফেরত যাবেন।
বৈঠকে থাকা এক রোহিঙ্গা নেতা বলেন, ‘চীন ও মিয়ানমার সরকার এক। কার ওপর বিশ্বাস রাখি নিজেরাও সিদ্ধান্ত নিতে পারিনা। কয়েক যুগ ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে নির্যাতন চালিয়ে আসছে মিয়ানমার সরকার। আমরা এখন তাদের আর বিশ্বাস করতে পারিনা। তাই আমরা আর্ন্তজাতিক নিরাপত্তার কথা বলেছি।’
রোহিঙ্গাদের সাথে মতবিনিময় শেষে জাদিমুরা শালবন শিবিরে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ৩টি বাসায় যান চীনের প্রতিনিধিরা। তারা রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ঘর ঘুরে দেখেন, পরিবারের লোকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং কিছু স্কুল ব্যাগ ও ফুটবল তুলে দেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চীনের রাষ্ট্রদূত টেকনাফের কেরুনতলী ট্রানজিট ঘাট পরির্দশন করেন। পরিদশর্নকালে প্রত্যাবাসন বিষয়ে লি জিমিং জানতে চাইলে জবাবে ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত) শামসুদ্দৌজা নয়ন বলেন, ‘প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের সব ধরনের প্রস্ততি রয়েছে’। এসময় প্রত্যাবাসন জেটি ঘাটে দাঁড়িয়ে নিজের ফোনে ওই এলাকার ছবি তোলেন চীনের রাষ্ট্রদূত।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত), নয়াপাড়া শরণার্থী রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ (সিআইসি) আব্দুল হান্নান, জাদিমুরা ও শালবাগান রোহিঙ্গা শিবিরের ইনচার্জ মোহাম্মদ খালিদ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা এসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন। ##

1 Comment

Leave a Response

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.