টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!
শিরোনাম :
টেকনাফ সমিতি ইউএই’র নতুন কমিটি গঠিতঃ ড. সালাম সভাপতি -শাহ জাহান সম্পাদক বৌ পেটানো ঠিক মনে করেন এখানকার ৮৩ শতাংশ নারী ইউপি চেয়ারম্যান হলেন তৃতীয় লিঙ্গের ঋতু টেকনাফে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ৭ পরিবারের আর্তনাদ: সওতুলহেরা সোসাইটির ত্রান বিতরণ করোনা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর বিধি, জনসমাবেশ সীমিত করার সুপারিশ হেফাজত মহাসচিব লাইফ সাপোর্টে জাদিমোরার রফিক ৫ কোটি টাকার আইসসহ গ্রেপ্তার মিয়ানমার থেকে দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু আমদানি বন্ধ: বিপাকে করিডোর ব্যবসায়ীরা টেকনাফ পৌরসভা নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা বাহারছরা ইউপি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেন যাঁরা

‘শান্তিপূর্ণ’ চাঁদাবাজি

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ৩ জানুয়ারি, ২০১৭
  • ২৩৭ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে
টেকনাফ নিউজ ডেক্স **

হত্যার হুমকি দিয়ে পেশাদার সন্ত্রাসীদের চাঁদাবাজি আর নেই বললেই চলে। চাঁদা আদায়কারীদের গুলি বা বোমার শব্দে আঁতকে উঠতে হয় না পুরান ঢাকার ব্যবসায়ীদের। তবে ‘মিষ্টি কথা’র ফোনে ‘শান্তিপূর্ণ’ চাঁদাবাজিতে বড় অশান্তিতে রয়েছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। নানা জাতীয় দিবস ও উৎসব সামনে রেখে রাজনৈতিক পরিচয়ে ব্যবসায়ীদের কাছে শান্তিপূর্ণভাবেই চলে এ চাঁদাবাজি। ভুক্তভোগী বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী ও পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে কথা বলে মিলেছে শান্তিপূর্ণ চাঁদাবাজির এমন চিত্র।
কারা নিচ্ছেন সেই চাঁদা? গত কয়েকদিন পুরান ঢাকায় ঘুরে, ভুক্তভোগী মানুষ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে মিলেছে সেই প্রশ্নের জবাবও। তারা বলছেন, পুরান ঢাকাকে এক সময়ে ‘সন্ত্রাসের আঁতুড়ঘর’ বলা হলেও সেই চিত্র এখন নেই। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে এ এলাকার অনেক সন্ত্রাসী মারা পড়েছে। কেউ আতঙ্কে এলাকা ছেড়েছে। কুখ্যাত সব সন্ত্রাসীর সেই রাজ্যটা দখলে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতা। বিশেষ করে পুরান ঢাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতাদের ঘিরেই চলছে ওই এলাকায় উৎসবকেন্দ্রিক নীরব চাঁদাবাজি।অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ব্যবসানির্ভর পুরান ঢাকার অন্তত তিনটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রনেতা এবং ছোট সারির নেতারা এসব চাঁদাবাজিতে জড়িত। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কবি নজরুল কলেজ ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের বেশ কয়েক নেতা ও তাদের কর্মীরা এসব অপকর্মে জড়িত। উৎসবকেন্দ্রিক চাঁদা দিতে হচ্ছে থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট নেতাদেরও। চাঁদার টাকায় পকেট ভরার সঙ্গে পুরান ঢাকার খাবার দোকানগুলো থেকে ফাও খেয়ে পেটও ভরে নেন তারা। এখন ছাত্রলীগের নামে এমন চাঁদাবাজি চললেও বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ছাত্রদল ছিল সেই ভূমিকায়।
বংশাল-ইংলিশ রোড মার্চেন্ট আসোসিয়েশনের একজন শীর্ষ নেতা সমকালকে বলেন, এখন আর ফোনে হুমকি দিয়ে বা মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি নেই। শান্তিপূর্ণভাবে নানা উৎসবের নামে তাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। একই উৎসবে ভিন্ন ভিন্ন নেতাকে চাঁদা দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা বড় অশান্তিতে রয়েছেন। ওই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, আগে চাঁদার জন্য গুলি করা হতো। থানায় মামলা হতো, সবাই ঘটনা জানত। এখন বাধ্য হয়ে তারা চাঁদা দিলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলেন না। মামলাও করেন না।
ঘটনার শিকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, পুরান ঢাকার সূত্রাপুর ও কোতোয়ালি থানা এলাকায় বাহাদুরশাহ পার্ক ঘিরে মূল সড়কের ওপর গড়ে ওঠা বিশাল বাসস্ট্যান্ড, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একটি গেট আটকে ও ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল গেটের সামনে রাস্তার ওপর লেগুনা স্ট্যান্ডও পরিবহন চাঁদাবাজির বড় ক্ষেত্র। এ ছাড়া লক্ষ্মীবাজার, বাংলাবাজার, নর্থব্রুক হল রোড থেকে পাটুয়াটুলী হয়ে শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, ইসলামপুর ও রায়সাহেব বাজারের জনসন রোড থেকে শুরু করে ধোলাইখাল পর্যন্ত নানা ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা উৎসবকেন্দ্রিক চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ।
জনসন রোডের অভিজাত একটি খাবার হোটেলের মালিক সমকালকে বলেন, তার হোটেল থেকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিদিন অন্তত ১৫ হাজার টাকার ফাও খাবার খাচ্ছেন। দফায় দফায় তারা খেয়ে যাচ্ছেন। টাকা চাইলেই ক্যাশিয়ার ও হোটেল কর্মীরা মারধরের শিকার হচ্ছেন। অন্য একটি খাবার হোটেলের মালিক জানান, ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় এক নেতাকে দিয়ে জগন্নাথ ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে ফোন করিয়ে নিস্তার চেয়েছেন তিনি।
সূত্র জানায়, কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাঁদাবাজিতে লক্ষ্মীবাজার, সূত্রাপুর, শ্যামবাজার ও ধোলাইখাল এলাকার ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ। এর মধ্যে গত নভেম্বরে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি করা হলেও নতুন ওই কমিটিতেও সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান সোহেলের প্রভাব রয়ে গেছে। বাহাদুরশাহ পার্কের বাসস্ট্যান্ডের চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ না পেয়ে এ দুই নেতার অনুসারীরা গত বছর ওই এলাকায় অন্তত ২০টি বাস ভাংচুর করেন। জবি ছাত্রলীগের নেতাদের সঙ্গেও তাদের সংঘর্ষ হয়। চাঁদাবাজি ছাড়াও এ এলাকার মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধ এ দুই নেতার নিয়ন্ত্রণে। এর আগে রাজধানী সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগের সহসভাপতি জহির সরদার।
চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে রাকিবুল হাসান সোহেল সমকালের কাছে দাবি করেন, তিনি দুই মাস আগে কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ থেকে সরে এসেছেন। এখন আর ওই এলাকায় যান না। কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গেও জড়িত নন তিনি।
সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান হিমু সমকালকে বলেন, কেউ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির প্রমাণ দেখাতে পারবে না। তার কর্মীরাও চাঁদাবাজি করে না।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) আশপাশে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এম শরীফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামের হাতে। এরই মধ্যে ওই এলাকা ‘শরীফ-সিরাজের রেড জোন’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গত দুই বছরে অন্তত ১০ দফায় নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষেও জড়িয়েছেন এ দুই নেতার অনুসারীরা।
ছাত্রলীগের একাংশ ও ব্যবসায়ী সূত্রগুলো বলছে, এ দুই নেতার নীরব চাঁদাবাজিতে ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ থাকলেও মাঝেমধ্যে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে লক্ষ্মীবাজারে দুটি অভিজাত খাবার দোকানে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীদের হাতে ধাওয়া ও মারধরের শিকার হয়েছিলেন সভাপতি শরীফুল ইসলাম ও তার কয়েক অনুসারী। কম যাননি সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলামও। ২০১৪ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের এক শিক্ষকের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে বিভাগীয় একটি কাজের কার্যাদেশ কেড়ে নেন সিরাজুল ও তার অনুসারীরা। একই বছর বাংলাবাজারে একটি প্রকাশনা সংস্থায় দাবি করা এক লাখ টাকা চাঁদা নিতে গিয়ে দোকানের কর্মচারীদের হাতে মারধরের শিকার হন তারা। একই বছর সদরঘাটে ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হাতে আটক হয়ে মারধরের শিকার হন সাত নেতাকর্মী। জবি ছাত্রলীগের পদধারী একজন নেতা জানান, কয়েক মাস আগে ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা ইসলামপুরে ১৪ লাখ টাকা চাঁদার দাবিতে একটি বোরকার দোকান দখলে নেওয়ার জন্য সেটি বন্ধ করে দেন। পরে অবশ্য জবি ছাত্রলীগের সাবেক একজন শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপে তারা সেখান থেকে সরে আসেন।
জানতে চাইলে জবি ছাত্রলীগের সভাপতি এফ এম শরীফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণ করে আসেন। চাঁদাবাজি করতে গিয়ে মারধরের শিকার হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শরীফ বলে, ‘আমি ছাত্রলীগের সভাপতি, আমাকে মারধর করবে কে?’
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাধারণ সম্পাদক এস এম সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ একশ’ভাগ মিথ্যা। সম্পূর্ণ হাস্যকর। এ নেতার উল্টো প্রশ্ন- তাকে কেন মানুষ চাঁদা দেবে! তিনি কি সন্ত্রাসী নাকি ভয়ঙ্কর কেউ?
ভুক্তভোগী ও জবি ছাত্রলীগের সূত্রগুলো বলছে, সিরাজ-শরীফ মিলেমিশে জবি গেট বন্ধ করে গড়ে ওঠা অবৈধ লেগুনা স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ করছেন। সেখান থেকে দুই নেতা মাসে দুই লাখ টাকা চাঁদা নেন। বাহাদুরশাহ পার্ক এলাকার বাসস্ট্যান্ড থেকে সাতটি পরিবহন কোম্পানির প্রত্যেকটি থেকে তারা মাসে ৬০ হাজার টাকা করে গড়ে চার লাখ ২০ হাজার টাকার চাঁদা তোলেন। ইসলামপুরের ছোট-বড় ২১ কাপড়ের মার্কেট থেকে গড়ে মাসে তারা ৪০ হাজার টাকা করে মোট আট লাখ ৪০ হাজার টাকা চাঁদা নেন। এ ছাড়া এ দুই নেতার নামে সদরঘাট এলাকার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মাসিক ভিত্তিতে টাকা উত্তোলন করা হয়। ক্যাম্পাসের পাশে গ্রেটওয়াল, ইস্টবেঙ্গল মার্কেট, বাংলাবাজার বই মার্কেট, সদরঘাট হকার্স মার্কেট, বিক্রমপুর গার্ডেন সিটি, ওয়াইজ ঘাট, পাটুয়াটুলী চশমা মার্কেট ও ঘড়ি মার্কেট থেকেও নিয়মিত চাঁদা নেন তারা। ওই এলাকার ফুটপাতের নিয়ন্ত্রণও এ দুই নেতার হাতে। –

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT