টেকনাফ নিউজ:
বিশ্বব্যাপী সংবাদ প্রবাহ... সবার আগে টেকনাফের সব সংবাদ পেতে টেকনাফ নিউজের সাথে থাকুন!

শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে সিপিবি-বাসদের হরতাল ‘অচল’ নগরী

Reporter Name
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১২
  • ১৮৫ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

জামায়াতে ইসলামীসহ সব ‘সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল’ নিষিদ্ধ করা এবং যুদ্ধাপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করাসহ কয়েকটি দাবিতে সারা দেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলছে শান্তিপূর্ণভাবে।

প্রায় একই দাবিতে মঙ্গলবার সারা দেশে হরতাল করছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাও।

সিপিবি ও বাসদ কর্মীদের ভোর থেকেই দলীয় ও জাতীয় পতাকা নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে খণ্ড খণ্ড মিছিল করতে দেখা যায়।

৬টার দিকে পুরানা পল্টন সিপিবি কেন্দ্রীয় কার্যালয় এবং তোপখানা রোড বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দুটি মিছিল বের হয়। কাছাকাছি সময়ে বাসদের একটি মিছিলওং পল্টন, দৈনিক বাংলা, প্রেসক্লাব এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে প্রগতিশীল ছাত্রজোট কর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদী গান, সমাবেশ ও খণ্ড মিছিল করছে। পল্টন থেকে প্রেসক্লব হয়ে শাহবাগ পর্যন্ত পুরো এলাকা রয়েছে সিপিবি ও বাসদ কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে। হরতালের সমর্থনে মিছিল হয়েছে পুরান ঢাকা ও মিরপুর এলাকাতেও।

সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে পুলিশ দেখা গেলেও কোথাও কোনো গোলোযোগের খবর পাওয়া যায়নি। হরতালের প্রথমভাগে সড়কে বাস চলাচল ছিল একেবারেই কম। তবে অটোরিকশা ও রিকশা চলাচল করতে দেখা গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অধিকাংশ দোকানপাটও রয়েছে বন্ধ।

প্রেসক্লাব, বাংলা মোটর ও রূপসীবাংলা মোড়ে যানবাহন চালকদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার পরামর্শ দিতে দেখা গেছে পুলিশকে। এসব সড়ক দিয়ে যানবাহন যাতে শাহবাগ ও পল্টন এলাকায় যেতে না পারে, সেজন্য বাঁশের প্রতিবন্ধকতা বসানো হয়েছে।

রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে রমনা থানার এস আই ইব্রাহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সামনে হরতালকারীরা আছে। কোনো ধরনের গোলোযোগ যাতে না হয় সে জন্যই আমরা যানবাহনকে বিকল্প সড়কে যেতে অনুরোধ করছি।

শাহবাগ এলাকায় এসআই তাপস বলেন, “জনগণের নিরাপত্তার জন্যই আমরা যানবাহনকে অন্য সড়কে ঘুরিয়ে দিচ্ছি।”

সকালে গাবতলী, মহাখালী ও যাত্রাবাড়ী থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। তবে কমলাপুরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিচক বলে জানিয়েছেন স্টেশন মাস্টার সাখাওয়াত হোসেন খান।

ছাত্র ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট এস এম শুভ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করছি। জনগণও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিচ্ছেন। কোনো বিশৃঙ্খলা যাতে না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখছি।”

তিনি বলেন, হরতালের আগে সোমবার পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের ৩৪টি সংগঠনের সঙ্গে বসে তারা তাদের দাবির বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন। এ কারণে এসব সংগঠনও হরতালে সমর্থন দিয়ে গাড়ি বন্ধ রেখেছে।

হরতালে বিভিন্ন স্থানে বাম দলগুলোর কর্মীদের বড় বড় জতীয় পতাকা হাতে নিজেদের দাবিগুলোর বিষয়ে জনগণকে বোঝাতে দেখা যায়।

শাহবাগ এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের নেতা নয়ন দাস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশের স্বাধীনতার প্রতীক এই জাতীয় পতাকা। তাই এই পতাকা হাতেই স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আমরা হরতাল করছি।”

হরতালের আগের দিন সোমবার পুরানা পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমদ বলেন, “আমরা দেশবাসীর কাছে ১৮ ডিসেম্বর জাতীয় পতাকা হাতে রাজপথে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা ও জামায়াতের সহিংস সন্ত্রাসের জবাব দেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে এই হরতালের পক্ষে রাজপথে থাকারও আহ্বান জানান তিনি।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক ও বর্তমান আমিরসহ নয় শীর্ষ নেতা ও বিএনপির দুই নেতার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

গ্রেপ্তার শীর্ষ নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে জামায়াতে ইসলামী গত ৪ ডিসেম্বর সারা দেশে সকাল সন্ধ্যা হরতাল করে। একই দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে গত প্রায় দেড়মাস ধরে দেশে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে তারা। আইনমন্ত্রীর গাড়িও তাদের হামলার শিকার হয়েছে।

জাফর আহমদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “কেবল রাজাকাররাই আগামীকালের হরতালে গাড়ি নামাতে ও দোকান খুলতে চেষ্টা করতে পারে। জাতীয় ইস্যুতে ডাকা এই হরতালের সপক্ষে না থেকে পারে না স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসী।”

সহিংসতার পরিবর্তে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের মধ্য দিয়ে বামপন্থী দলগুলো হরতাল করবে জানিয়ে সিপিবি ও বাসদ নেতারা বলেন, বুর্জোয় রাজনৈতিক দলগুলো সহিংস নৈরাজ্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে হরতালের মতো গণসংগ্রামের একটি কার্যকর হাতিয়ার সম্পর্কে মানুষের মনে নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করেছে। এই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে মানুষের সক্রিয় সমর্থনের ভিত্তিতে হরতাল কর্মসূচি সফল করতে হবে।

সিপিবি ও বাসদের অন্য দাবিগুলো হচ্ছে- যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত শেষ করা, তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী মালিক পক্ষ ও সরকারি কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দেয়া, গার্মেন্টসহ সব শিল্প-কারখানায় আইন অনুযায়ী কর্মস্থলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ বিল, গাড়ি ভাড়াসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানো ও বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধ করা।

সোমবার গণতান্ত্রিক বাম মোর্চাও তোপখানা রোডে সংবাদ সম্মেলন করে হরতাল সফল করার আহ্বান জানায়।

তাদের দাবির মধ্যে আছে- জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা প্রত্যাহার ও বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বৃদ্ধি বন্ধ, শ্রমিক হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী সব মালিক ও কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে সব কারখানায় নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত ও ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করা, যুদ্ধাপরাধীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত ও ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার বন্ধ, বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ ও রেল এবং গাড়ি ভাড়া কমানো, দুর্নীতি বন্ধ করে লোপাট করা অর্থ উদ্ধার, সম্পদ পাচারকারী ও দুর্নীতিবাজদের বিচার নিশ্চিত করা, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বন্ধ, রামপাল বিদ্যুত প্রকল্প বাতিল ও এশিয়া এনার্জিকে বহিষ্কার করে ফুলবাড়ি চুক্তি বাস্তবায়ন।

সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।/////////////////জামায়াতসহ সকল সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ডাকা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হচ্ছে।

মঙ্গলবার সকালে পল্টন, প্রেসক্লাব, শাহবাগ ও মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে হরতাল সমর্থনে মিছিল করেছে সিপিবি ও বাসদের নেতা-কর্মীরা।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) গত ৭ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে এ হরতালের ডাক দেয়।

তাদের অন্য দাবির মধ্যে রয়েছে- গত ২৪ নভেম্বর তাজরিন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ী ‘মালিক পক্ষ ও সরকারি লোকজনকে’ গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা, আইন অনুযায়ী সব শিল্প-কারখানার কাজের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার নিশ্চিত করা।

এছাড়া, বিদ্যুৎ বিল, গাড়ি ভাড়া-বাড়ি ভাড়াসহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমনো এবং বিশ্ব ব্যাংকের পরামর্শে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পায়তারা বন্ধের দাবিতে এই হরতাল আহ্বান করা হয়।

এদিকে, হরতালে রাজধানীতে সকাল থেকে কিছু সংখ্যক বাস-মিনিবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে। এছাড়া রাস্তায় দাফিয়ে বেড়াচ্ছে লেগুনা, সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও রিকশা।

হরতালে উল্টো চিত্র
বিরোধী দলগুলোর হরতাল চলকালে চালকরা মাথায় হেলমেট লাগিয়ে বিআরটিসির গাড়ি নিয়ে রাস্তায় নামলেও আজকের হরতালে বিআরটিসির গাড়ি তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। তবে অন্য হরতালে ব্যক্তিগত গাড়ি কম চলাচল করলেও আজকে ছিল তার ব্যতিক্রম।

এদিকে, পুলিশ সকাল নয়টার দিকে শাহবাগমুখী গাড়ির চলাচল বন্ধ করে দিলে কাঁটাবন ও বাংলামটর এলাকায় হালকা যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া প্রেসক্লাব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকেও শাহবাগমুখী যান চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়।

অবশ্য হরতালে রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো গাড়ি ছেড়ে যায়নি এবং রাজধানীতেও দূরপাল্লার কোনো গাড়ি প্রবেশ করেনি। তবে ট্রেন চলাচল অন্য দিনের স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হরতালে নিষ্ক্রিয় পুলিশ
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হরতালকে ঘিরে রাজধানীর কোথাও তেমন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। হরতাল সমর্থকরা মাঝে মাঝে মিছিল নিয়ে রাজপথে অবস্থান নেয়। এক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় থাকতে দেখা গেছে।

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর বিভিন্ন মোড়ে কিছু সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকলেও তাদের অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। আর র্যা ব ও পুলিশের কিছু গাড়িকে সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে।

এছাড়া, সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হচ্ছে সিপিবি-বাসদের সকাল সন্ধ্যা হরতাল। বেশ কয়েকটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে হরতাল সমর্থনে মিছিল হয়েছে। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সংবাদটি আপনার পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন...

Comments are closed.

More News Of This Category
©2011 - 2020 সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | TekNafNews.com
Developed by WebArt IT